কুন্ডলিনী চক্র ধ্যান । Kundalini Chakra Meditation

Kundalini Chakra Meditation. কুন্ডলিনী চক্র ধ্যান

মানব দেহ হলো ব্রহ্মান্ডেরই ক্ষুদ্র সংস্করণ। বাইরের ব্রহ্মান্ডের সাথে সমন্বয় সাধন বা সেতু বন্ধন করার জন্য শক্তির প্রয়োজন পড়ে। সেই সেতু বন্ধনই হলো ব্রহ্ম প্রাপ্তি বা মোক্ষলাভ। এর ফলে জগতের শক্তি মানব দেহে সঞ্চালিত হয়।
মানব পুরুষ ও নারী দেহের স্ত্রী শক্তি কুন্ডল পাকিয়ে পড়ে থাকে, তাকে টেনে তুলতে হয় চক্র জাগরনের মাধ্যমে।

কুন্ডলিকৃত শক্তির জন্য নাম কুন্ডলিনী শক্তি, যা সেতু বন্ধন ঘটায়। মানব দেহের সূক্ষ্ম শরীরে সাতটি চক্র ১. মূলাধার ২. স্বাধিষ্ঠান ৩. নাভি-মণিপুর ৪. অনাহত ৫. বিশুদ্ধি ৬. আজ্ঞা ৭. সহস্রার চক্র বর্তমান। যা স্থূল শরীরের মেরুদন্ড বরাবর নীচ থেকে উপর পর্যন্ত বিস্তৃত।

এক একটি চক্র জাগরনে ফলে একটি উর্ধমুখী সিঁড়ি তৈরী হয়। যার মাধ্যমে কুন্ডলিনী শক্তি উপরে উঠে আসে। সহস্রার চক্রে পৌঁছে সেই নারী বা স্ত্রী শক্তি মিলিত হয় পুরুষের সাথে। এবং এই মিলিত শক্তির বিস্ফোরণ হলো কুন্ডোলিনী জাগরন। এবং বিশাল ব্রহ্মান্ডের শক্তি কুন্ড থেকে নির্গত শক্তি প্রবেশ করে মানব শরীরে যা ছড়িয়ে পড়ে বিন্দু থেকে বিন্দুতে। এক সাধক অনুশীলনের মাধ্যমে এই শক্তির উন্মেষ ঘটাতে পারে।



কুন্ডোলিনী শক্তি হলো নারী শক্তির প্রতীক যা শৈব সাধনার অঙ্গ। পরমেশ্বর বা পরমপুরুষ বা পরম ব্রহ্ম ঈশ্বর হলো নারীশ্বর। মানুষের একার মোক্ষলাভ হয় না, সাথে তার স্ত্রী বা পত্নী ফল ভোগ করে। এজন্য বলে পতির পূন্যে সতীর পূন্য।

অর্থাৎ পরম পুরুষের ন্যায় যেকোন পুরুষের মধ্যে নারী শক্তি সাপের ন্যায় কুন্ডল পাকিয়ে পড়ে থাকে। পুরুষের সঙ্গীনি যে নারী সে থাকে পুরুষেরই অন্তরে, এজন্য স্ত্রীকে বলে অর্ধাঙ্গিনী। মানুষের জীবন এক প্রকার সাধনা, ভোগ ও ত্যাগে সেই সাধন প্রক্রিয়া চলে। অন্তরের স্ত্রী আলাদা শরীরে জন্ম গ্রহণ করে দাম্পত্য জীবন নির্বাহ করার জন্যে, এবং তা হলো ভোগের পথ। পরবর্তী পর্যায়ে এই স্ত্রী আত্মা রুপে সঙ্গী পুরুষের দেহে ফিরে আসে। যখন পুরুষ পুন্যের কারনে যৌন সঙ্গম ত্যাগ করে। সাধনা কালে সেই নারী শক্তি পুরুষকে সিদ্ধির পথে সহায়তা করে। কুন্ডলিকৃত স্ত্রী শক্তি পুরুষে মিলিত হয়। এতে মোক্ষলাভ হয় এবং পরম ব্রহ্মে নিমজ্জিত হয় আর মহা নির্বান ঘটে । এবিষয়ে উল্লেখযোগ্য যে বিবাহে সাতবার চক্রাকারে ঘোরার অর্থ হচ্ছে অন্তরের নারী ও পুরুষের মিলন বা কুন্ডোলিনীর সাত চক্রকেই বোঝান হয়।


কুন্ডলিনী জাগরনের বিভিন্ন পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। প্রানায়াম, মন্ত্র, তন্ত্র, যন্ত্র, এমনকি অনেক সময় জপ-ধ্যান। তবে কুন্ডোলিনী চক্র যোগ সাধনা সব থেকে উৎকৃষ্ট। কুন্ডলিনী শক্তি জাগ্রত হলে সাধক সিদ্ধি প্রাপ্ত হয়। মেলে জ্ঞান ও শক্তি, তার মধ্যে স্ব-নিরাময় অন্যতম। সাধক সহজে অসুস্থ হয় না, হলে নিজের নিরাময় নিজেই করতে পারে। এছাড়া আলাদা করে চক্র সিদ্ধিতে বিভিন্ন রকম অলৌকিক ক্ষমতা লাভ হয় যেমন ইচ্ছা শক্তি, স্বদিচ্ছা গমন, সূক্ষ্ম দেহে বিচরণ, রুপ পরিবর্তন, বাক সিদ্ধি, বাক সম্মোহন, আকর্ষনী, ত্রিকাল দর্শন প্রভৃতি।


কুন্ডোলিনী চক্র জাগরন এবং কুন্ডোলিনী চক্র সিদ্ধি


কুন্ডোলিনীর যে চক্র গুলো আছে তার প্রতিটিতে আলাদা করে চক্র সিদ্ধি করতে হয়। অবশ্যই তা একটি জন্মের বিষয় নয়। মানব দেহে ১১৪ টি শক্তি চক্র আছে। তার সবগুলোতেই সিদ্ধি লাভ করতে পারা যায়। তবে তা কয়েক হাজার বছরের গল্প। ঈশ্বরের সব গুলো সৃষ্টির আগে থেকেই রয়েছে। এবং তাই সে ঈশ্বর। সুতরাং কুন্ডোলিনী চক্র জাগরন আর কুন্ডোলিনী চক্র সিদ্ধি আলাদা বিষয়।


আমাদের ইনার রিপ্রোগ্রামিং মেডিটেশন বা ধ্যানের মাধ্যমে কুন্ডোলিনী চক্র গুলিকে জাগ্রত করতে শেখানো হয়। যা একটি গুহ্য সাধনার পর্যায়ে পড়ে। তবে এর সিদ্ধি বা জাগরন নির্ভর করে সাধকের আধ্যাত্মিক চেতনা, আগের জন্ম সমূহের কর্মের ঋণ ও পূন্যের উপর। এবং এই ধ্যান শেখা মানেই কিন্তু জাগরন নয় বরং জাগরনের জন্য প্রয়াস ও অনুশীলন। জাগরন কোন চটজলদি প্রক্রিয়া নয়, তবে অনেকরই শিক্ষা গ্রহণ করতে করতে জাগরন ঘটে। কিন্তু অনুশীলন চালিয়ে যেতে হয়, এবং তার ফলে জাগরন সম্পূর্ন হয়। এটি একটি জীবন ভর প্রক্রিয়া, জন্ম জন্মান্তর ধরে এই সাধনা চলে।

এই কোর্স হলো গুরুর কাছ থেকে শিখতে হয়। কারন এতে প্রচুর বাধা আসে, বিভিন্ন রকমের দুষ্ট শক্তি বাধা দানের চেষ্টায় আসবে। যেমন তান্ত্রিক, নিজের পরিবারে মানুষ, মোহময়ী নারী (বারবনিতা), এবং শত্রু।


কোর্সের স্থিতিকাল, শিক্ষাদান, পাঠ্যক্রম ও যোগ্যতা

এটি 6 মাসের কোর্স। প্রথম 1 মাসে ইনার রিপ্রোগ্রামিং মেডিটেশন বা ধ্যান শেখানো হবে। এটা শেখা হয়ে গেলে দ্বিতীয় ধাপে 5 মাসে কুন্ডলিনী চক্র ধ্যান শেখানো হবে। সবকটি চক্র ধ্যান শেখানো হবে শুধু আজ্ঞা চক্র ছাড়া। আজ্ঞা চক্র জন্য “ত্রিনেত্র ধ্যান” নামে আলাদা কোর্স আছে।

সপ্তাহে এক দিন করে মাসে 4 দিনে ক্লাস হবে।

কোর্স সামগ্রী

সমস্ত কোর্স সামগ্রী বা মেটেরিয়াল যে রকম পড়ার পাতা সমূহ, ভিডিও ফুটেজ, ছবি, সবকিছুই অনলাইনে দেওয়া রয়েছে। এছাড়া ভিডিও চ্যাটের মাধ্যমে শেখানো ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

পাঠ্যক্রম

প্রথমে ইনার রিপ্রোগ্রামিং মেডিটেশনের পাঠ্যক্রম যা ঐ কোর্সের পাতায় দেখা যাবে।

দ্বিতীয় কুন্ডলিনী ধ্যান পাঠ্যক্রম
– মস্তিষ্ক ও চেতনার রিপ্রোগ্রামিং ব্যায়াম
– সংবেদনিক ধ্যান
– কুন্ডলিনী ধ্যান

কোর্স এবং অনুশীলন এক সাথে চলবে।

যোগ্যতা : এই কোর্স যে কেউ শিখতে পারে।


কোর্সের মুল্য বা ফি

মুল্য মাসিক ₹20000/ বা US$300

মাসিক মুল্য উপহার দিয়ে কোর্স শুরু করা যাবে।


রেজিস্ট্রেশন

প্রথম মাসিক ফিস পেমেন্ট করলেই কোর্স রেজিস্ট্রেশন হয়ে যাবে।

PhonePe: 9674651456

GPay: 8017551456

PayPal: joydip1304@gmail.com

পেমেন্ট করে তার প্রমান দাখিলে কোর্স শুরু করা যাবে।

awakenplus@gmail.com
tantraplusyoga@gmail.com

Facebook Messenger

Messenger

WhatsApp

WhatsApp


ইনার রিপ্রোগ্রামিং কুন্ডলিনী মেডিটেশন বা ধ্যান আলাদা কেন?

ধ্যান বলতে মনের বা মানসিক ব্যায়ামকেই বোঝায়, আর তার লক্ষ্য হলো মনকে চিন্তা শূন্য করা। মনের ব্যায়ামের মাধ্যমে এই কুন্ডলিনী চক্র ধ্যান করা হয় এবং কোন রকম শারীরিক প্রক্রিয়া ছাড়া। এই জন্যেই এই ধ্যান সবার থেকে পৃথক।


আমাদের কাছে কুন্ডলিনী চক্র ধ্যান শেখার তাৎপর্য কি?

আমরা বিগত পঁচিশ বছর ধরে বিভিন্ন ধ্যান, যোগ ও সাধনা বিষয়ে চর্চা ও শিক্ষাদান করছি।

আধ্যাত্মিক জগতের সমস্ত সাধনার সম্যক জ্ঞান অর্জন করেই আমরা শিক্ষাদানে ব্রতী হয়েছি।

আমাদের সাধনার পথ হলো ঈশ্বরের পথ, যা চিরাচরিত ধ্যানের ধারণা ও ভাবনা থেকে ভিন্ন। কিন্তু আমাদের পথে ধ্যান শিক্ষা করলে মোক্ষলাভ বা জ্ঞান লাভ সম্ভব। সিদ্ধি প্রাপ্ত গুরু সমস্ত কোর্স পরিচালনা করে, যা আমাদের বিশেষত্ব।

আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের সমস্ত রকমের সাহায্য প্রদান করি এমনকি কোর্স শেষ হয়ে যাওয়ায় পরেও।

Submit your review
1
2
3
4
5
Submit
     
Cancel

Create your own review

Adhyatmik
Average rating:  
 0 reviews