স্ব-কথন ধ্যান

স্ব-কথন হলো নিজের সাথে কথা বলা। হ্যাঁ এটাও এক প্রকার ধ্যান। এটা যেকোন মানুষের ইনার কোয়েস্ট বা অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। এর ফলে আত্মা সঙ্গী বা সাধন সঙ্গী জাগ্রত হয়। এবং সাধন সঙ্গীর সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

আত্মা জাগরনে এর একটি ভূমিকা রয়েছে। সাধনা করতে আত্মা জাগরন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার। এটা ছাড়া কোন সাধনা সম্পূর্ন হয় না। সাধনাতে ইষ্ট দেবী বা দেবের দেখাই পাওয়া যাবে না যদি আত্মা জাগরন সিদ্ধি না থাকে। অর্থাৎ বর প্রাপ্তি ঘটবে না।

সুতরাং সাধনাই ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাই সাধনা করতে হলে স্ব-কথন ধ্যান অত্যাবশ্যকীয় প্রক্রিয়া। কিন্তু কিভাবে এই ধ্যান করতে হয়?

অবশ্যই নিজের সাথে কথা বলে। কি ভাবে নিজের সাথে কথা বলতে হয়? যারা একা থাকে তাদের অনেকেই নিজের সাথে কথা বলে বা আপন মনে কথা বলে। তবে এটা শুরু করতে হলে আয়নার সামনে দাঁড়াতে হবে। আমরা নিজেদের সাজানোর জন্য আয়নার সামনে দাঁড়াই।

কিন্তু এখানে নিজের সাথে কথা বলতে আয়নার সামনে দাঁড়াতে হবে। আয়নায় নিজেকে নতুন করে দেখা হবে। এবং তার বিবরণ নিজের কাছে নিজেই দিতে হবে।

যারা আপন মনে কথা বলে তাদেরকে অনেক মানুষ পাগল বলে আখ্যা দেয়। কিন্তু, যে আপন মনে কথা বলে সে একজন সাধক ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না।

এবং এটা কোন পাগলামি নয় বরং এক প্রকার ধ্যান। নিজের সাথে কথা বলার মাধ্যমে সেই ব্যক্তি নিজের অন্তরাত্মার দরজায় টোকা দিচ্ছেন। এবং তার ফলে নিজের অন্তরাত্মার জাগরন ঘটবে। আর একবার জাগরন ঘটলে তা তার সাধনার পথকে সুগম করে তুলবে।

নিজের সাথে কথা বলা শক্ত বলে মনে হলে নিজের মনে কথা বলা শুরু করতে হবে। যা কিছু নিয়ে কথা বলা যায়। নিজের চেহারা নিয়ে, নিজের সাজ সজ্জা নিয়ে। যা মনে আসবে তাই নিয়ে কথা বলা যাবে। আর একবার কথা বলা শুরু হলে বাধা কেটে যাবে।

নিজের সাথে কথা বলা ধ্যান কেন? কারণ এখানে বক্তাও নিজে শ্রোতাও নিজেই। আর ধ্যান মানে হলো বর্তমানকে ধরা। অতীত ও ভবিষ্যতকে নয়। নিজের সাথে কথা সেই বর্তমানকে অবলম্বন করেই হয়। অতীত আর ভবিষ্যতকে নিয়ে নয়। তাই এটা ধ্যান।


প্রতিদিন অনুশীলনের জন্য এই পাতাটি বুকমার্ক করে রাখুন। (Bookmark Help)