সিদ্ধির প্রাপ্তি, ত্রিকালজ্ঞ বা ত্রিকালদর্শী শক্তি

যার সাধ আছে তারই সাধনা হয়। সাধ যার নেই তার কিছুই নেই। এক সিদ্ধ সাধক হল ঈশ্বরের একজন যোদ্ধা যে পৃথিবীতে সাধু ও দুষ্কৃতীকারিদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে।

অনেকের ধারণা আছে সাধনায় মোক্ষলাভ হল জন্ম মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তির পথ। এই ধারণাটি সম্পূর্ন ভুল। চক্র থেকে মুক্তি মানে যে আবার জন্ম হবে না, এটা ব্যপারটা নয় বরং মোক্ষলাভ হল ব্রহ্মজ্ঞান প্রাপ্তি। আর ঐ ব্রহ্মজ্ঞানী সাধকের জ্ঞান চক্ষু খুলে যায়। সে রুপান্তরিত হয় ঈশ্বরের নিষ্ঠাবান যোদ্ধায়। সে বিভিন্ন সময়ে মানব জন্মে সংসারে ভারসাম্য রক্ষার কাজ সম্পাদন করতে জন্মগ্রহণ করেন।

এটা সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তিগত ধারণা যার উপলব্ধি হয়েছে আমার আধ্যাত্মিক যাত্রা পথে। যা জীবনে দেখেছি, বুঝেছি, ও জেনেছি তাই লখছি।


এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।


ঈশ্বর দুনিয়ার সৃষ্টিকর্তা ও সর্বশক্তিমান। তার শক্তির সমকক্ষ এই দুনিয়ায় দ্বিতীয় কেউ নেই বা হতে পারে না। অনেক যোগী, ঈশ্বরের কিছু কিছু অলৌকিক শক্তি অর্জন করতে পারেন সাধনার মধ্য দিয়ে। এবং তার জন্যে যুগে যুগে জন্মগ্রহণ করে সাধনায় ব্রতী হতে হয়। এবং তার পরে পাওয়া যায় সিদ্ধি। কিন্তু সেই সিদ্ধির জন্য গুপ্ত ঈশ্বর মন্ত্র কেবলমাত্র একজন সিদ্ধ গুরু বা সিদ্ধাই দিতে পারেন।

ঈশ্বরের শক্তি যখন কোন সাধককে দেওয়া হয় তার একটা তাৎপর্য থাকে। কেউ এমনই এমনই শক্তি লাভ করে না। এবং ঐ গুরু মন্ত্রই হলো সিদ্ধির চাবিকাঠি। এবং এই গুরু মন্ত্র সাধারণত যিনি প্রদান করেন, তিনি শুধু ঐ মন্ত্র দেওয়ার জন্যই সারা জীবন অপেক্ষা করে থাকেন। এবং সময় এলে স্বয়ং ঈশ্বর তাকে মন্ত্র বলে দেন এবং নির্দেশ দেন কাকে এই মন্ত্র দিতে হবে এবং কোথায় সেই নব্য সাধক সাধনায় লিপ্ত।

চারটি অনুঘটকের কারনে হয় মানব জন্ম। যা হল কর্ম, জ্ঞান, ইচ্ছা ও ভক্তি। আর সাধকের জন্ম হয় কর্মের পুন্য, জ্ঞান, ভক্তি ও সাধের কারণে। যখন এই অনুঘটক গুলো পূর্নতা লাভ করে তখন মেলে সিদ্ধি। আর, একটা সিদ্ধি কিন্তু পর্যাপ্ত নয়। সিদ্ধির ব্যপারটা অনেকটা উর্ধমুখী সিঁড়ির মতো। এক একটা পরীক্ষা আর তার পর নতুন সিঁড়ির দরজা খোলা হয়। এভাবে চলতে থাকে। আর পরীক্ষার আগে থাকে শিক্ষা এবং চরম বাঁধা। আসে ঈশ্বরের শত্রু অর্থাৎ শয়তানের দল, তাদের সাথে চলে নিরন্তর সংগ্রাম।



আর এই শত্রুদের পরাভূত করার জন্য সিদ্ধির পর সাধকের প্রাপ্তি হয় ঐশ্বরিক শক্তি যা কোন সাধারণ মানুষের কাছে থাকেনা। সাধক অসীম শক্তির অধিকারী হয়ে ওঠেন। সেই সাধকের সাথে শয়তানের নিরন্তর সংগ্রাম চলে। কিন্তু যখন সেই সাধকের দল শত্রুদের অর্থাৎ শয়তানকে পরাজিত করতে ব্যর্থ হয় তখন ঈশ্বরের অবতারে আবির্ভাব ঘটে।

“যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত। অভ্যুত্থান ধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্॥ পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশয় চ দুষ্কৃতাং। ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে॥

অবতার মানে হলো অবতীর্ণ হওয়া। অর্থাৎ যে অবতরণ করেন। এই ঈশ্বরের অবতার, ঈশ্বরের সমস্ত শক্তি নিয়ে আসে। এই অবতার সাধারণ ভাবে একজন যোগী কিন্তু সন্ন্যাসী নয়। সে মানব অবতারে থাকে মানে সাধারণ মানুষের মতোই দেখতে কিন্তু মানব দেহে পরমেশ্বর। সে অসীম শক্তির অধিকারী হয়। সে যে কাজ সম্পাদন করতে এসেছে, তার অপেক্ষায় থাকে বহু বছর। এই অবতারের বিষয়ে আর একটি প্রবন্ধে বিস্তারিত বলা যাবে।



ত্রিকাল জ্ঞান মানে হল যে তিনটি কাল যেমন বর্তমান, অতীত ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানে। এই মহাজ্ঞান বা শক্তি একটা সিদ্ধির পর পাওয়া যায়। যা সাধারণত কুন্ডোলিনী চক্র বা শক্তি জাগরনে হয়। বিশেষ ভাবে বলা যায় আজ্ঞা চক্র জাগরণের কারনে হয়।

যদিও কুন্ডোলিনী জাগরন সবাই করতে সক্ষম হন না। কারন কর্ম ফল, অতীত জীবনের পুণ্যের ফলে মেলে কুল কুন্ডোলিনী শক্তি জাগ্রত করার অধিকার।

আজ্ঞা চক্র জাগরণের ফলে তৃতীয় নেত্র খুলে যায়। আর এই তৃতীয় নেত্র কোন জৈবিক চক্ষু নয়। এ হলো আত্মার চোখ। তৃতীয় নয়নকে মহাদেবের চোখ বলা হয়েছে।

দেবী স্তোত্র মহা লক্ষ্মী অষ্টোত্তর শত নামে দেখা যায় দেবাদিদেব মহাদেবকে ত্রিকালজ্ঞ বলা হয়েছে।

দেবদেব! মহাদেব! ত্রিকালজ্ঞ! মহেশ্বর!
করুণাকর দেবেশ! ভক্তানুগ্রহকারক! ||
অষ্টোত্তর শতং লক্ষ্ম্য়াঃ শ্রোতুমিচ্ছামি তত্ত্বতঃ |

কিছু কিছু মানুষ স্বপ্নে বা দিব্য দৃষ্টিতে যা দেখে তা কখনো কখনো সত্যি হয়ে যায়। সেই সমস্ত মানুষের তৃতীয় নয়ন অল্প বিস্তর জাগ্রত হয়ে থাকে সাধারণত পূর্ব জন্মের কৃত পুণ্যের কারনে।

যারা এই ভবিষ্যতের ঘটনা আগে থেকে দেখতে পায়। তাদের বলব, যে কাউকে তার ভবিষ্যত যেচে বলার প্রয়োজন নেই কারন মানুষ এটা ভালো চোখে দেখে না। ভাববে যে ষড়যন্ত্র করছে। এতে সংসারে শান্তি থাকবে। শোনা যায় বাবা লোকনাথ ত্রিকাল জ্ঞানী বলে পরিচিত ছিলেন। আরো কিছু ব্যক্তি ত্রিকালজ্ঞ বলে পরিচিত ছিলেন তারা হলেন বেদব্যাস, নারদ, কালী, দুর্গা প্রভৃতি।

যে সমস্ত দেব দেবীর মূর্তি বা ছবিতে কপালে চোখ দেখানো থাকে তারাই ত্রিকালজ্ঞ বা ত্রিকালদর্শী।

আমি জন্মগত ভাবে ত্রিকালজ্ঞ বা ত্রিকালদর্শী। ছোট বেলা থেকেই ভবিষ্যতে যা কিছু ঘটতে চলেছে তা আমি দেখতে পেতাম। এবং অনেক সময় বলে দিতাম কি হবে।

এবং যার সাথে আমার জীবন জড়িত সেই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা আমি সিনেমার মতো আগে থেকেই দেখতে পাই। আজ পর্যন্ত আমার দেখা কোন কিছুই মিথ্যা হয়নি। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি আমি আগে থেকেই সব কিছু জেনে যাই যে কি হতে চলেছে। এর মধ্যে যেমন মহাজাগতিক ঘটনা রয়েছে তেমনি রয়েছে পৃথিবীতে ঘটতে চলা ঘটনা এবং আমার জীবনের ঘটনা।

পরবর্তী সময়ে ধ্যানের সাহায্যে কুন্ডোলিনী জাগরন হয় এবং এর সাথে বিভিন্ন অলৌকিক শক্তির জাগরন ঘটে। কিন্তু পরিস্থিতি তৈরী না হলে শক্তির অস্তিত্ব ও প্রোয়োগ সম্পর্কে জানা যায় না।

আমাদের একটা পোষা বিড়াল ছিল, তাকে একটি দুষ্কৃতী আটকে রেখেছিল। এবং দুই তিন দিন আমরা তন্ন তন্ন করে খুঁজেও ওর দেখা পেলাম না।

তখন তিনদিন পর আমি স্বপ্নে ওকে দেখতে পেলাম যে ও দুটি বাড়ির মাঝখানে যে কমন প্যাসেজ আছে সেখানে ওকে আটকে রাখা হয়েছে। এবং ওর পিছনের পায়ে কোন চোট লেগেছে। আমি আমার মাকে বললাম মা ও বেঁচে আছে আর আজকে বাড়ি ফিরে আসবে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই জানা গেল আমাদের বাড়ির পাশে একটি হাসপাতালে দুটি বাড়ির মাঝখানে কমন প্যাসেজে ওকে দেখতে পাওয়া গেছে। উদ্ধার করে নিয়ে এলাম দেখলাম ওর পিছনের পা রবার ব্যান্ড জড়িয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। একমাস যমে বিড়ালে টানাটানি করেও ওকে বাঁচাতে পারিনি। এমন কোন পশু চিকিৎসক নেই যে ওকে দেখে নাই। এমনকি চিড়িয়াখানার ডাক্তারকেও দেখানো হয়েছে। সেপ্টিসেমিয়া হলো তারপর ঔষধ আর কাজ করল না। আমাদের প্রিয় বিড়াল হুলোর সমাধি রয়েছে আমাদের বাড়ির পিছনের বাগানে।

কিন্তু যে এটা করল তার শাস্তি কে দেবে? বিড়াল মারলে তো আর পুলিশ ধরে না। কিন্তু ঠিক করলাম আমি দেব শাস্তি। ছেলেটি সিঁড়ি দিয়ে নীচে পড়ে গিয়ে পা ভেঙ্গে ফেলল। সেই পা, আমাদের বিড়ালের যে পাটি ও নষ্ট করে দিয়েছিল। ওর বাবা ওর নামে সম্পত্তির দলিল তৈরি করেছিল। হঠাৎ ওকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার পরদিনই মরে গেল। তারপর ও কোন রাজনীতি করতো, ওরই দলের লোকজন ওকে পিটিয়ে আধমরা করে দিল। এবার ওরা ভয় পেয়ে গেল। তান্ত্রিক টান্ত্রিক করা শুরু করল। দেখি বাড়ির দরজার ছিটকিনিতে কেউ সিঁদুর আর পান পাতা লেপে দিয়েছে। এখন সে একটা মাতাল ভিখারি। উপযুক্ত শাস্তি পাচ্ছে।

এমনকি অতীতের যে ঘটনা আমার জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে সেই ঘটনা আমি সিনেমার মতো করে দেখতে পাই। আর এখন অর্থাৎ বর্তমানে যাকিছু চলছে এবং তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক রয়েছে সেই সবকিছু আমি জানতে পেরে যাই তৎক্ষণাৎ। আমার নাম নিয়ে বা আমাকে ইঙ্গিত করে কেউ শত্রুতা বা কিছু করলে সঙ্গে সঙ্গে আমি জেনে যাই।

অবশ্যই সেগুলো এমন সমস্ত ঘটনা যা যেকোন মানুষের জীবনে প্রভাব বিস্তার করে। এবং যা আমার জানার আগ্রহ আছে।

আমি অনেক সময় ভবিষ্যতে দেখা কোন ঘটনার কথা বলে অনেকের কাছেই অপ্রিয় হয়ে গেছি। এখন চট করে কাউকে আর কিছু বলি না বা বলতে চাই না। দেখেছি এতে পরিবারে অশান্তি হয়। আর কোন ঘটনা দেখলেই তো হবে না, তার প্রতিকার গুরুত্বপূর্ণ।

সবকিছুই নিয়তি, এমন একটা ব্যবস্থা করা রয়েছে যে মানুষের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অবস্থার মধ্যে পড়তে হয় এবং অবশ্যই তা কর্মের কারনেই। এমনকি মৃত্যুও তার মধ্যে অন্যতম। যদি আমি কারুর মৃত্যু আটকে দেই তবে ভীষণ রকমের সমস্যা তৈরি হয়।

কারন একটি মানুষের জন্ম মৃত্যুর সাথে জড়িয়ে থাকে কয়েক হাজার মানুষের জীবন। যদি কেউ তার মৃত্যু পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তখন এক জটিল সমস্যার সৃষ্টি হয়। কিন্তু বহু ক্ষেত্রে স্নেহ বড় বিষম বস্তু, তাকে অস্বীকার করা যায় না। খোদ শিবই পারেন নি। যখন গনেশের মাথা কাটা গেছিল তখন শিবকে গনেশের জীবন দান দিতেই হয়েছে, নিয়তিকে মেনে নিতে পারেন নি।

হ্যাঁ, দুনিয়াতে আমি একমাত্র ব্যক্তি যে মৃত্যুর রাস্তা আটকে দিতে সক্ষম। অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি। আমার ভাই তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বেড়াতে যাচ্ছিল। যাওয়ার আগে সকাল বেলায় আমাদের বাড়িতে চাবি রেখে বেরিয়ে পড়ে। ভোর বেলা হওয়ার কারণে একটু বিছানায় এসে শুয়েছি, হঠাৎ দেখলাম ওদের গাড়িটি দুর্ঘটনাগ্রস্ত হতে চলেছে। এবং গাড়িটি পাল্টি খাচ্ছে, আমি সঙ্গে সঙ্গে ভাবলাম গাড়ি যদি পাল্টি খায় তবে ভিতরের যাত্রীদের মৃত্যু তো অনিবার্য। এই দেখে সাথে সাথে এর প্রতিকার করলাম। পাল্টি খাওয়া আটকে দিলাম এবং সাথে যাত্রীদের সুরক্ষিত করলাম। আমি ইচ্ছা করলে ওদের ফোন করে ফেরত আসতে বলতে পারতাম। কিন্তু ঐ যে, এখন কেউ এসব বিশ্বাস করে না। বললে ভাবতে পারে আমি ষড়যন্ত্র করেছি ওদের ভ্রমণ পন্ড করতে। কারন, আগে বাড়িতে বিপদের কথা বলে তিরস্কৃত হয়েছি। সুতরাং আমি নিশ্চিত হলাম যে দুর্ঘটনা ঘটলেও ওদের কিছু হবে না। যদিও মাকে বললাম দেখ ওরা কতদূর গেল। মা বলল এইতো বের হয়েছে, পরে ফোন করবো। আমি তো জানি কি হতে চলেছে কিন্তু অন্যরা জানবে কি উপায়ে। তাই অপেক্ষা করতে লাগলাম।

আধা ঘন্টা বাদে ফোন এলো যে ওদের গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। একটি ষোল চাকার লরি পাশ থেকে ধাক্কা মেরেছে। কিন্তু গাড়িটি উল্টে না গিয়ে বা পাল্টি না খেয়ে তিরিশ ফুট ঘষটে চলে গেছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে। যখন গাড়িটি নিয়ে আসা হলো দেখলাম পুরো চুরমার হয়ে গেছে। অবাক-কান্ড গাড়ির যাত্রীদের গায়ে এক টুকরো কাঁচের আচর পর্যন্ত লাগে নি।

ঈশ্বরের রহস্য জানতে এই ব্লগ (blog) পছন্দ (like) দিয়ে অনুসরণ (follow) করুন। এই প্রবন্ধটি শেয়ার করে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিন।


Discover more from Adhyatmik

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply