
জন্মের পর থেকেই মানুষের জীবনের ঘটনা দিয়ে তাকে বোঝা যায়। প্রথম থেকেই আমি আলাদা। সাধারণ মানুষের মতো নই। বিভিন্ন ঘটনা গুলি প্রথমে কাকতালীয় মনে হলেও। পরে আস্তে আস্তে উপলব্ধি হতে লাগলো আসল সত্য। আমি কোন গৃহত্যাগী সাধু নই। আমার কোনো গুরু নেই যে আমাকে মন্ত্র দীক্ষা দিয়েছে। কিন্তু সমস্ত সাধনার জ্ঞান আমার ভিতর থেকে এসেছে।
একথা বলা যায় আমি নিজেই নিজের গুরু। আগে ঘোর নাস্তিক ছিলাম। নিয়তি আমাকে আধ্যাত্মবাদের দিকে ঠেলে নিয়ে গেছে। আমি নিজে থেকেই জেনে যেতাম যে কি আমাকে করতে হবে। তখন এখনকার মতো ইন্টারনেট ছিল না। যে সব তথ্য নাগালের মধ্যে পাওয়া যেতো। সাধনার এক একটা গন্ডি এভাবে পার হয়েছে। তখনও জানতাম না। এইসব করে লাভ কি? বা এর ফল কি? একটা সময় এই উপলব্ধি হলো যে আর কিছু জানার নেই। তখন থেকে এক নতুন রকম সমস্যা শুরু হলো। সেটা হলো শত্রুর উপদ্রব। এবং এর মধ্যে দিয়ে শুরু হল নিজেকে চিনতে পারা।
এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।
একের পর এক ঐশ্বরিক শক্তির প্রকাশ পেতে লাগল। একদিন স্বপ্নের ঘোরে আমাকে কে যেন বললো যে আমি স্বয়ং পরম ব্রহ্ম অবতার রুপ নিয়েছি। অনেকেই ভাবতে পারেন অবতারের জীবন বোধহয় খুব মজার। একবারেই নয়, বরং প্রচন্ড যন্ত্রণাদায়ক।ভেবে দেখুন আপনি আগে থেকেই জেনে যাচ্ছেন আপনার নিকট আত্মীয় বা আপনার ভালোবাসার মানুষ আপনার পরম শত্রু। আপনি দেখতে পারছেন যে কিভাবে তার মৃত্যু হবে। কিন্তু আপনি তাকে রক্ষা করতে পারছেন না। কারন তার শত জনমের কর্মফল।
এ যে কি ভীষণ যন্ত্রনা…..মহাভারতের ভগবান কৃষ্ণ পর্ব যারা পড়েছেন তারা জানেন কৃষ্ণের শত্রুদের কথা। এমনকি তাদের অত্যাচারে জন্মভূমি পর্যন্ত ত্যাগ করে সমুদ্রের মধ্যে গিয়ে থাকতে হয়েছিল। মহাভারত আসলে কৌরব ও পান্ডবদের যুদ্ধের কাহিনী নয়। বরং কৃষ্ণ ও জরাসন্ধের দৈরথ। এর উল্লেখ রয়েছে জৈনদের ধর্ম গ্রন্থে। আমার প্রতিটি পদক্ষেপ নির্দেশিত। একটা ভুল পদক্ষেপ বা একটু অন্য পথ ধরেছ কি মরেছ। বিভিন্ন রকমের অত্যাচার শুরু হবে। মানসিক ও দৈহিক নির্যাতন তো আছেই। দেখানো হবে ঐ পথের শেষে কি আছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কিছু ভুল দেখায় নি। যাঁর যাঁর ব্যাপারে যা যা বলেছে বা দেখিয়েছে তা হাজার নয় লক্ষ গুন সত্য।
আপনারা ভাবছেন কে দেখায়। আধ্যাত্মিকতা কিন্তু একটি অতি সুক্ষ এবং উন্নততর বিজ্ঞান। যা মানুষের কল্পনার অতীত। ভাবুন একটা সংস্থা বা একটা দেশ কি ভাবে চলে? হাজার বা লক্ষ মানুষের কর্মেযোগের মাধ্যমে তো? ঠিক তেমনি ঈশ্বরের জগৎ চলে কোটি কোটি আত্মার দ্বারা।আগে থেকেই আমাকে জানিয়ে দেওয়া হয় কি করতে হবে। এবং এমন ঘটনা ঘটানো হয় যার কোনো ব্যাখ্যা বিজ্ঞান দিতে পারে না। স্বীকার করে নিতে হয় অলৌকিক বলে। এরাকম অনেক ঘটনা ঘটে বহু মানুষের মাঝে। যাতে তারা ঈশ্বরকে চিনতে পারে। যদিও তাদের উপলব্ধি তাদের ব্যক্তিগত কর্মফলের উপরই নির্ভর করে।সময়ের আগে কিছু নয়।
আমি কে? এই তথ্য জানার আগ্রহ বহু দিন ধরে মনে এক যন্ত্রণা সৃষ্টি করেছিল। কেন কালী আমাকে ফুল পাঠিয়ে ছিল? কেন সে কালীঘাট মন্দিরে আমার শরীরে প্রবেশ করেছিল? কেন বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনা আমার সাথেই ঘটে? আজ কিছু ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলবো। যেগুলো আমার আমিকে আমায় চিনিয়ে দিয়েছিল।
জন্তু জানোয়ারদের সাথে আমার সম্পর্ক খুবই মধুর। একবার সুন্দরবনে বেড়াতে গেছি। একটা টাইগার অবজারভেশন পয়েন্ট বা ওয়াচ টাওয়ার আছে যেখানে একটা ওয়াক ওয়ে আছে উঁচুতে, অনেকটা উড়াল পুলের মতো। ওখানে রামকৃষ্ণ মিশন পরিচালিত হরিণ প্রতিপালন কেন্দ্র ছিল। সে সময় শদুয়েক হরিণ ছিল। এটা আয়লার আগের ঘটনা। আমি যখন ওখানে যাই তখন ওদের খাওয়ার সময়। সেদিন ওখানে কলকাতার কোন এক কলেজের ছাত্র, ছাত্রীরা এসেছিল। ওরা ওয়াক ওয়ের উল্টো দিকে দাড়িয়ে ছিল হরিণের খাঁচার সামনে। আর আমি ওয়াক ওয়ে থেকে নেমে যেই হরিণের খাঁচার পিছনে এসে দাড়িয়েছি। দেখি সবকটি হরিণ খাওয়া বন্ধ করে আমার দিকে ঘুরে গেল। আমি ওখানে একলা ছিলাম। এই ঘটনাটি দেখে সবাই আমার দিকে তাকিয়ে দেখতে লাগলো। আমি সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত। তখন আমি ডান হাত তুলে বরাভয় মুদ্রা করে হরিণদের আশ্বস্ত করতে ওরা আবার ঘুরে খেতে শুরু করে দিল। জঙ্গলের আধিকারিকরা এসে জিজ্ঞেস করলেন, কেন হরিণের দল এমন করল। আমি বলেছিলাম আমি তো আপনাদের সামনেই নেমে এসে দাঁড়িয়েছি। ওনারা আমার গায়ের গন্ধ শুঁকে দেখলেন। আমি বললাম আমি জানি জঙ্গলে বডি স্প্রে ব্যবহার করতে হয় না। আমি আধিকারিকদের বললাম অবলা প্রাণীদের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় খুব শক্তিশালী হয়। ওরা অলৌকিক শক্তিকে সহজেই বুঝতে পারে। ওনারা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন।

এরপরের ঘটনাটি রীতিমত অবিশ্বাস্য ও অলৌকিক। আমার চেনা জানা অনেকেই এই ঘটনাটি জানেন। তবুও লিখছি। কারন ঈশ্বরের রহস্যের ব্যাখ্যা করার সময় এসেছে। যাইহোক কথায় ফিরে আসি।
আমার ভাই ডাক্তার। ও বললো তুই তো কোথাও বের হোস না। আমার চেম্বার বীরভূমে ওখানে চল ভালো লাগবে। ওখানে তাঁরাপীঠ আছে। বামাখ্যাপার সাধন ভজনের জায়গা। আর অনেক পুরনো মন্দির এবং ছোট ছোট জঙ্গল রয়েছে। পুরনো মন্দির স্থাপত্য ও জঙ্গল আমার খুব প্রিয় বিষয়। তাই রাজী হয়ে গেলাম। এরপর এক শীতের সকালে যাওয়া হলো। কলকাতা থেকে গাড়ি করে তাঁরাপীঠ, সাথে ভাইয়ের স্ত্রী ও পুত্র। পরিকল্পনা করা হয়েছিল যে আমারা কলকাতা থেকে যাবো এবং ভাই ঘুরে দেখার জন্য লোকের বন্দোবস্ত করে দেবে। যদিও ভাই প্রাকটিসের কারনে চেম্বারে থাকবে। এক রাত আমরা তাঁরাপীঠে থাকবো। আর নলহাটি, তাঁরাপীঠ, মল্লারপুর, সিউড়ি হয়ে ভাইকে নিয়ে কলকাতায় ফিরে আসবো।
প্রথম দিন আমারা নলহাটি গেলাম ওখানে নলহাটেশ্বরী (শক্তি পীঠ) দর্শনে গেলাম। একটা টিলার উপর মন্দির। আর প্রচুর ভীড়ভার ঘিঞ্জি আশেপাশে। ভাইয়ের স্ত্রী পুজো দিলো। আর আমি মন্দির ও আশপাশের লোকালয় ঘুরে দেখলাম। বিকালে ভাইকে সাথে নিয়ে তাঁরা পীঠ মন্দির থেকে বেশ কিছু দূরে আমন্ত্রণ বলে একটা রেসর্ট আছে সেখানে উঠলাম। রেসর্টটি বেশ ছড়ানো ছিটানো। ঘুরে ঘুরে দেখছি। হঠাৎ একটা লোক এসে হাজির। অনেকটা নাছোড়বান্দা টাইপের। সে বলতে লাগল মন্দির চলুন। এখানে এলে সবাই যায়। কেন যাবেন না? ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি বললাম আমার মন্দিরে যেতে ইচ্ছে করছে না। পা ব্যাথা করছে। তা এতো কাছে এসেছি। তোমাদের তাঁরা মা কোথায়? উনি এসে তো একটু সেবা টেবা করতে পারেন। তখন লোকটি ভাবলো আমি একজন ঘোর নাস্তিক এবং কিছু না বলে চলে গেল। এর কিছুদিন আগে মুখে একটা ব্রন মতো হয়েছিল। সেটা আঙুল দিয়ে খোঁচাখুঁচি করে একটা আচিলের মতো হয়ে গিয়েছিল। কিছুতেই ওটা খুলে পরছিল না। সবাই বলছিলেন ওটা কাটাতে হবে। তাঁরাপিঠে সেদিন রাত্রে ঘুমের মধ্যে মনে হল কে যেন আদর করে পা টিপছে। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি পায়ের ব্যাথা পুরো গায়েব। আর মুখের আচিল খুলে পড়ে রয়েছে। রাতে ঘুমে যে বিঘ্ন হয় নি তা একবারেই নয়। পাশের কটেজে কোনো এক গেস্ট পোষা কুকুর নিয়ে এসেছিলেন। যা হয় কুকুর নতুন জায়গায় গেলে একটু ডাকাডাকি করে। ওর চিৎকারে ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিল। এছাড়া এমনিতেই আমার আত্মার জাগ্রত হওয়ার পর থেকে ব্রহ্ম মুহূর্তে অর্থাৎ ভোর রাত ৩ টের সময় ঘুম ভেঙ্গে যায়।
বুঝতে অসুবিধা হলো না যে তারা এসে তাঁর লীলা দেখিয়েছে। ভাইও মুখের আচিল নেই দেখে অবাক হয়ে গেল। ভাই নাস্তিক মনের মানুষ। এমনিতেই ওরা আমার কথা শুনে হাঁসাহাঁসি করে। তাই আর কিছু বললাম না।
পরদিন একটা ছেলে এলো, ভাই ব্যবস্থা করে রেখেছিল। ছেলেটি, ভাই যে চেম্বারে বসে। তার মালিক। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে দেখা হলো আদিবাসীদের গ্রাম, অনেক নাম না জানা অপূর্ব কাজ করা টেরাকোটার মন্দির। মহাশশান, জঙ্গল, জমিদার বাড়ির নাট মন্দির প্রভৃতি। মহাশশানে গিয়ে আমি জুতো পরেই ঘুরছিলাম। পরে খেয়াল হলো অন্য সকলেই খালি পায়ে ঘুরছে। দেখলাম অনেক সন্ন্যাসী এদিকে ওদিকে বসে আছেন আর ওনারা আমাকেই দেখছেন। ভাবলাম পায়ের জুতো না খোলার জন্য হয়তো ভাবছে। কে এই বোকা লোক জুতো পরে সব অপবিত্র করছে? আশ্চর্য কেউ কিন্তু আমায় কিছুই বললেন না। এরপর আমরা রাস্তা দিয়ে গাড়ি করে যাচ্ছিলাম। রাস্তার ডানদিকে একটা বড় মাঠের মতো ফাঁকা জায়গা এবং তার পাশে একটি বিরাট রথ দাড়িয়ে আছে। আমি ড্রাইভারকে বল্লাম রথের সামনে নিয়ে যেতে। ছেলেটি বলল এটা মল্লারপুরের সব থেকে বড় রথ।
রথের সামনে যেতেই পাশে একটি বিরাট মন্দির নজরে এলো। মন্দিরের যে গেট তার সামনে ধুতি পরে একটা লোক দাড়িয়েছিল। লোকটি ছুটে এসে বললো ও আপনি এসে গেছেন। আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম আপনি কে? লোকটা বলল আমি এই মন্দিরের প্রধান পুরোহিত। আপনার অপেক্ষায় দাড়িয়ে আছি। আমি বললাম আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে। আমিতো আপনাকে চিনিই না। কখনো দেখিনি, কারণ এই প্রথম আমি বীরভূমে এসেছি। সাথের ছেলেটিকে জিজ্ঞাসা করলাম তুমি কি এনাকে আমার আসার ব্যাপারে কিছু জানিয়েছিলে? ও বললো, নাতো এখানে আসার তো কথাই ছিল না। আপনি রথের ছবি তোলার জন্য ড্রাইভারকে এদিকে আসতে নির্দেশ দিয়েছেন। আশ্চর্য হয়ে গেলাম। কিন্তু তখনও আশ্চর্য হওয়ার আরো কিছু বাকি ছিল যা পড়লে আমি নিশ্চিত যে আপনাদের গায়ের লোম খাড়া হয়ে যাবে। সাথের ছেলেটি বলল এই মন্দির খুব পুরনো যা মল্ল রাজারা তৈরী করেছেন। পুরনো মন্দির আমার আগ্রহ বেড়ে গেল। কারন ফটোগ্রাফি। পুরোহিত মশাই মন্দিরের ভিতরে নিয়ে যেতে যেতে বললেন আজ মন্দির বন্ধ। আমি বললাম তাহলে ভিতরে ঢুকে কাজ নেই। পুরোহিতটি বললেন আপনার জন্যেই আজ এটা খোলা রয়েছে। শুনে কিছুই বুঝতে পারলাম না। আমি কে যে, আমার জন্য মন্দির খোলা থাকবে?
প্রথমে গর্ভ গৃহে নিয়ে গেলেন। সেখানে শিব লিঙ্গ রয়েছে। দেখলাম ঢোকার দরজা নীচু। বললাম জোর করে মাথা নত করার ফন্দি। পুরোহিত মশাই হাসলেন। উনি শিব লিঙ্গ কি করে এখানে এলো তার ব্যাখ্যা দিতে লাগলেন। হঠাৎ দেখি লিঙ্গের সামনের মেঝেতে একটা বেমানান গর্ত। বললাম এই ব্যাপারটা কি? উনি বললেন এটি মহাকালের প্রবেশ পথ। এর কোন তল নেই। এবং বললেন যে আমি জানি আপনি এই কথা বিশ্বাস করছেন না। আমি বললাম কি করে করি বলুন। এই তল মাপার কোন যন্ত্র যখন হাতে নেই তখন আপনার কথাই মানতে হবে।
ওখানে ব্যামা খ্যাপার গুরু কৈলাসপতি বাবা সমাধি নিয়েছিলেন। মন্দিরের এক পাশে এক মানুষ্য আকৃতির বেদী রয়েছে। যার উপরে একটি নল বা পাইপের মতো অংশ বিদ্যমান। এটি দিয়ে বাবা শ্বাস নেন। ওখানকার মানুষের বিশ্বাস যে বাবা জীবিত। হিন্দু ধর্মের সাধকরা মৃত্যুর ব্যাপারটা মানেন না। ওরা বলেন সমাধি মানে হলো ধ্যান যোগে পরম ব্রহ্মে বিলীন হওয়া। যাইহোক আমি পুরোহিত মহাশয়ের সাথে কথা বলতে বলতে ছবি তুলছিলাম। দেখলাম মন্দির বন্ধ কিন্তু বেশ কিছু মানুষ ইতস্তত এদিক ওদিক বসে রয়েছে। যদিও মন্দিরে বিভিন্ন মানুষের আনাগোনা লেগেই থাকে। মন্দির দেখার শেষে পুরোহিত মহাশয়কে বললাম তবে এবার আসি। মন্দির দেখে বেশ ভালো লেগেছে। পুরোহিত বলছিলেন যে এখানে শিব জাগ্রত।
হঠাৎ উনি বললেন আপনি একটু অপেক্ষা করুন। বলে পাগলী মা, পাগলী মা বলতে বলতে ভেতর দিকে চলে গেলেন। প্রতিটি শিব মন্দিরের পাশে একটি পুকুর থাকে এগুলোকে দুধ পুকুর বা দুধ সাগর বলে। এই মন্দিরের পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে হাঁসের সাঁতার কাটা দেখছিলাম। হঠাৎ ঐ পুরোহিত ভদ্রলোক আমাকে ডাকলেন এবং বললেন আজকে এক বিশেষ দিন।
আপনার জন্য পায়েস নিয়ে এসেছি। বলে বললেন ডান হাত পাততে। আমি ডান হাত পাততেই, উনি সম্পূর্ণ পায়েস শালপাতার থালা থেকে আমার হাতে ঢেলে দিলেন। আমি বললাম আরো তো লোক আছে, আমাকেই সবটাই দিয়ে দিলেন। উনি বললেন ওদের পরে হবে, আপনি খান। হাতে দিয়েছে যখন তখন জিভ দিয়ে চেটে খাওয়া ছাড়া তো অন্য ভাবে খাওয়ার উপায় নেই। অগত্যা জিভ দিয়ে চেটে খেতে শুরু করলাম। মাত্র দুবার খেয়েছি, হঠাৎ পুরোহিতটি বলে উঠলেন। আর খাবেন না, বলে পায়েস আবার শালপাতার থালায় ফেরত নিয়ে নিলেন। এবার বললেন এই সবাই এসো। অমনি আমার সামনে অগনিত মানুষের একটা লাইন হয়ে গেল।
ভদ্রলোক আমার এঁটো পায়েস সবাইকে দিতে লাগলেন। আর সবাই সেটা খেয়ে কপালে হাত ঠেকিয়ে মাথায় মুছতে লাগলো। আর বলতে লাগল জয় পরমেশ্বরের জয়। আমি এসব দেখে হইচই বাধিয়ে দিলাম। বললাম আমার এঁটো কেন সবাইকে দিচ্ছেন? এটা স্বাস্থ্য সম্মত নয়। কিন্তু কে কার কথা শোনে? অনেক বার প্রশ্ন করলে উনি বললেন। যে উনি তিন রাত ধরে একটা স্বপ্ন দেখেছেন। দেখেছেন শিবের একটা মূর্তি তাঁর মুখটা বদলে আমার মুখ হয়ে যাচ্ছে। এবং উনি একটা দৈববাণী শুনতে পেয়েছেন পরপর তিনদিন।
সেখানে বলেছে যে ইনি পরমেশ্বরের অবতার। এই মন্দিরে আমাকে যে ভাবে পুজো করা হয়। সেইভাবে এনাকেও পূজো করতে হবে। নয়তো এই মন্দির আর থাকবে না। পুরোহিত ভদ্রলোক আরো শোনেন যে আমি কোন আজগুবি কথা বিশ্বাস করি না। এরপরে যা হয়। সব শুদ্ধু পাঁচটি পুরোহিত পরিবার মন্দিরের সেবায়িত। তারা সম্পূর্ণ রূপে মন্দিরের উপর নির্ভরশীল। তখন তারা পরিকল্পনা করে এই পূজার। আমি কে, ওদের বলিনি। আমার জন্ম বৃত্তান্ত ওরা জানে না। ওরা কোন ভাবেই আমার পরিচিত নয়। কারন বীরভূমে আমি ঐ একবারই গেছি।
শত মানুষের বিশ্বাস আর ঈশ্বর ভক্তি আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আমার অবিশ্বাসের থেকে। আমার যে প্রশ্ন আমাকে বিচলিত করে রেখেছিল। এভাবে তার উত্তর পাবো এ আশা করিনি। আমাদের সাথের পথ প্রদর্শক ছেলেটি শেষে ওর বাড়ি নিয়ে গেল। ওদের বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা আছে। আমি ওর বাবাকে নমস্কার করতে গেলে, উনি বললেন আপনি আমার পা ছোঁবেন না। আমি মহাপাপের ভাগি হয়ে যাবো। এরপর কথায় কথায় উনি বললেন ওনার সিউড়ি শহরে একটি বড় জমি আছে। ওখানে কিছু একটা করতে চান। আমি বললাম ওখানে একটা হোটেল বানান, রমরম করে চলবে। আমি জানি না মাত্র কিছুক্ষণের পরিচয়। কিন্তু আমার কথায় কয়েক কোটি টাকা খরচ করে সত্যিই একটা হোটেল বানিয়েছেন। ভাই একদিন বলছিল যে উনি তোর কথায় একটা হোটেল বানিয়ে ফেলেছেন। সেই হোটেল রমরম করে চলছে। আমি জানি আমি কে। কিন্তু মানুষের বিশ্বাস ও ঈশ্বর ভক্তির যে উদাহরণ পেলাম তাকে অস্বীকার করি কি করে?
ভালো লাগলে ব্লগ কে লাইক দিন বা অনুসরণ অথবা ফলো করুন এবং প্রবন্ধটিকে আপনার শেয়ার করুন। সমস্ত মানুষকে ঈশ্বরের রহস্য জানার সুযোগ করে দিন।
Discover more from Adhyatmik
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
