
যে আত্মায় বিশ্বাস করে তাকে এক কথায় আত্মাবাদী বা আধ্যাত্মবাদী বা আধ্যাত্মিক বলে। মানে ঠিক বিশ্বাস করা নয়, মনে প্রানে আত্মার অস্তিত্বে বিশ্বাস করা। বা বলা যেতে পারে যে আত্মার ইচ্ছায় জীবন অতিবাহিত করে।
এই আধ্যাত্মিক ব্যাপারটাকে বহু মানুষ ধর্মের সাথে মিশিয়ে ফেলে। ধর্ম ব্যপারটা এক প্রকার মতবাদ, যা আর পাঁচটা মতবাদের মতোই। ধর্ম বিষয়টির উৎপত্তি যখন কেউ মানুষের জীবন শৈলীর কোন ধারনাকে মান্যতা দিতে গিয়ে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে।
যেমন হিন্দু সনাতন ধর্মের ধারণাটাই দাড়িয়ে আছে পৌত্তলিকতার মধ্যে। পৌত্তলিকতা শব্দের উৎপত্তি পুত্তলিক বা পুতুল পুজারী থেকে। অর্থাৎ যারা মূর্তি পুজোয় বিশ্বাস করেন। যারা হিন্দু তারা ঈশ্বরের বিভিন্ন মানবিক রুপ কল্পনা করে মূর্তি গঠন করে এবং সেই মূর্তি সকলকে বিভিন্ন দেব দেবীর নাম দিয়ে পূজো করে।
মুসলমান ধর্মের ধারণাটা দাঁড়িয়ে আছে নিরাকার ঈশ্বর আর তার পয়গম্বর অর্থাৎ প্রেরিত দূতের উপর। খ্রীষ্টানদের ধর্মটিও অনেকটাই মুসলমানদের মতো, শুধু তফাত ওরা ঈশ্বরের পুত্রের উপাসনা করে।
বৌদ্ধ ধর্ম সেই ভাবে ঈশ্বরের অস্তিত্বকে মান্যতা দেয় না। বৌদ্ধরা মনে করেন যে কেউ সাধনা ও সিদ্ধির বা মোক্ষলাভের মাধ্যমে ঈশ্বরত্ত্ব লাভ করতে পারে। তারা গৌতম বুদ্ধের একরকম অনুগত কিন্তু উপাসক বলা যেতে পারে না।
জৈন ধর্মটা অনেকটা বৌদ্ধ ধর্মের মতো কিন্তু তারা অবতারবাদে বিশ্বাসী। ওরা মনে করে ঈশ্বর বিভিন্ন অবতারে অবতীর্ণ হয় মানুষের মুক্তির পথ আলোকিত করেন।
এরকম বিভিন্ন মতবাদ নিয়ে বিভিন্ন ধর্ম তৈরী হয়েছে এবং যার সংখ্যা বেশ কয়েক হাজার। আমি এখানে ধর্ম নিয়ে কোন কথা বলতে বসি নাই। আধ্যাত্মিকতার কিছু অদ্ভুত শক্তি আছে যা সাধারণত সাধারণ মানুষের থাকে না। আধ্যাত্মিক জগতের মানুষ কিন্তু অনেক বেশি সুস্থ অন্য সকলের থেকে।
এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।
যেমন ধরা যাক নাগা সন্ন্যাসীরা, বা অন্য সন্ন্যাসী যারা হিমালয়ের বিভিন্ন পথে যাদের দেখা মেলে। এরা দিগম্বর হয়ে দিন যাপন করে, বা শুধু মাত্র কৌপিন পরিধান করে সমস্ত কাল অতিবাহিত করে। পদব্রজে ভ্রমন করে, কখনো নগ্ন পায়ে বরফের উপর দিয়ে। এদের যখন কোন তীর্থ ক্ষেত্রে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে তখন তা পদব্রজেই সম্পন্ন করতে হয়। থাকে সল্প আহারে এবং প্রোটিন, ভিটামিন যুক্ত খাদ্য তাদের কাছে প্রায় দুষ্প্রাপ্য।
তা সত্ত্বেও এরা খুব সহজে কিন্তু রোগগ্রস্ত হয় না। যখন এরা হাড় হীম করা নদীর জলে কাক ভোরে স্নান করে, তখন কি উপায়ে এদের ঠান্ডা লাগে না, এ এক রহস্য। এরা খুব প্রয়োজন না পড়লে ডাক্তারের কাছে যায় না, তার প্রধান কারণ অবশ্যই অর্থাভাব। যেকোন রোগ এরা নিজেরাই সারিয়ে নেয় অনায়াসে।
দলবদ্ধ ভাবে ঘুরে বেড়ায় কোন প্রকারের সামাজিক দুরত্ব থাকে না। কিন্তু কি উপায়ে এরা সুস্থ থাকেন? তা কি শুধু আধ্যাত্মিক না এর পিছনে কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও রয়েছে? অবশ্যই রয়েছে কারন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ছাড়া আমি কিছু লিখি না।
সাধারণ মানুষের থেকে এদের তফাতটা ঠিক কি? যারা সাধারণ মানুষের থেকে একটু আলাদা হওয়ার চেষ্টা করেন, তারা অনেকাংশে এই সন্ন্যাসীদেরই অনুকরণ করে থাকেন।
সেগুলো ধরুন ব্যায়াম, পরিমিত আহার আর ধ্যান। কিন্তু সন্ন্যাসীদের পরিমিত আহার তো জোটে না, কারন তারা নিঃস্ব। তবে কি উপায়ে তারা এর ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম হন? কি উপায়ে অতি মানবিক শক্তির অধিকারী হন? যেমন ধরুন এক তীর্থ থেকে আর এক তীর্থে পদব্রজে কয়েক শত মাইল হেঁটে চলে যান।
অবশ্যই তা আধ্যাত্মিক শক্তি বা আত্মার শক্তি। যা হল সমগ্র ব্রহ্মান্ডের শক্তি তা তাদের শরীরে সঞ্চালিত হয় বিশেষ ধরনের ধ্যানের মাধ্যমে। সাধারণ ধ্যানে বছরের পর বছর গুরুর কাছে শিক্ষা এবং প্রোয়োগে তার কিছু পরিমাণ পাওয়া সম্ভব কিন্তু যখন সেই ব্যক্তি আধ্যাত্মিক হয়ে ওঠেন তখনই তিনি যে কোন রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হন।
সাধারণ সাধকের যেটুকু শক্তি থাকে তার বিনিময়ে তিনি তার জীবদ্দশায় তার আধ্যাত্মিক ক্রিয়া কর্ম অব্দি নিজেকে সুস্থ রাখতে সক্ষম হন।
করোনাভাইরাস মানুষের শরীরে একটি বিশেষ প্রকার হরমোনের আধিক্যের কারনে প্রবেশ ও বিস্তার লাভ করে। যে কারণে সমস্ত মানুষের উপর এর প্রভাব পরে না। যাদের ঐ হরমোনের ক্ষরন বেশি তারাই করোনাভাইরাসের শিকার হন।
একমাত্র আধ্যাত্মিক ব্যক্তি বিশেষ প্রকার ধ্যানের মারফত এই হরমোনকে নিয়ন্ত্রিত করতে সক্ষম হন। কিন্তু তার জন্য বিশেষ নিয়ম প্রয়োজন যা এক জন গুরুর কাছ থেকে পাওয়া সম্ভব। অর্থাৎ যে কোন ব্যক্তি এই ধ্যান করতে পারে না বা অধিকার পায় না। সবটাই কর্মফলে আবদ্ধ।
ভালো লাগলে প্রবন্ধটি লাইক দিয়ে শেয়ার করুন আর আমাদের ব্লগটি লাইক দিয়ে অনুসরণ করুন এবং আপনার পরিচিতদের কাছে শেয়ার করে সকলকে ঈশ্বরের রহস্য জানতে দিন।
Discover more from Adhyatmik
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

