
আমি সব সময় চাই মানুষের ভালো হোক এবং এই প্রচেষ্টা করে থাকি যেন তাদের মানব জন্ম স্বার্থক হয়। কিন্তু মনুষ্য জন্ম পূর্ব জন্মের কর্মের গুনে, ভাগ্যের বেড়াজালে আটকে থাকে।
সে তার ভাগ্যের কারণে অগ্রসর হতে পারে না। আমি খুঁজে বেড়াই যদি কাউকে উপকার করা যায়। উপকার করতে পারাটাও ভাগ্যের ব্যাপার, কারন সেই সুযোগ সব সময় সামনে উপস্থিত হয় না। বাংলায় একটা প্রবাদ আছে “নিয়তি খন্ডাবে কে?”
মানুষের নিয়তিকে একমাত্র ঈশ্বর খন্ডাতে পারে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এই নিয়তিই হলো আমার সব থেকে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। আমি বিধাতা, আমার বিধানে/নিয়মে জগৎ চলে। সমস্ত মানুষের ভবিষ্যত বা ভাগ্য নির্ধারিত হয় তার কর্মের ঋণ ও অতীত জন্মের পূণ্যের গুনে। আর আমি আমার নিয়মে রচিত মানুষের নিয়তিকে পরিবর্তন করতে চাই, কারন আমি খুঁজে পেতে চাই সেই ব্যক্তি বিশেষকে যে চোখ কান বুজে আমার পথে চলবে। আর সেই পথ হলো ঈশ্বরের এবং মোক্ষের।

কোনো কিছুই এমনি এমনি হয় না, এই যে সোশ্যাল মিডিয়ার যে রমরমা তার প্রধান কারনই হলো আমার খোঁজ।
সোশ্যাল সাইটে আমার বেশ কিছু বন্ধু আছে, কিন্তু আমি বন্ধুদের সাথে সংযোগ স্থাপন করার পূর্বে তাদের চেহারা দিব্য দৃষ্টিতে দেখতে পাই। এ এক অদ্ভুত অলৌকিক ব্যাপার, তারপর তাদের প্রোফাইল আমার সামনে চলে আসে। হঠাৎ করে আমি বন্ধু প্রস্তাব প্রেরন ও গ্রহণ করতে পারি না।
খুব অবাক হওয়ার মতো বিষয় হলো এই যে এদের প্রত্যেকেই অদ্ভুত ভাবে আধ্যাত্মিক হয়। এভাবে এক সুন্দরী কন্যার সাথে পরিচয় হলো, তার নাম ধরা যাক সতী (আসল নাম দিচ্ছি না)। সম্ভব্য বন্ধু যদি মহিলা হয় তাহলে একটা বিশেষ অলৌকিক ব্যাপার ঘটে। যদিও সেই অলৌকিক ব্যাপারে আমি কোন আলোকপাত এখানে করছি না, কারণ তা গুহ্য তত্ব (অনেকেই ভয়ভীত হতে পারে)।
এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।
আমার সমস্ত বান্ধবদের সাথে যোগাযোগ ঐ সোশ্যাল মিডিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকে। কারন আমার অলৌকিক তেজ, যা কেউ সহ্য করতে পারে না। দূর থেকেই সেই শক্তির যে নিদর্শন পেয়েছি, কারোর কাছে যেতে ভরসা হয় না।
তো সতীর কথায় ফিরে আসা যাক। সুন্দরী মেয়েদের সমাজে খুব কদর, আর অল্প বয়সেই তাদের অনেক সম্পর্ক তৈরি হয়। সতীরও ছিল, কিন্তু এগুলো সাধারনত ক্ষনস্থায়ী হয়ে থাকে।
আমাকে পয়া বলা যেতে পারে, কারণ যে কেউ আমার সাথে নুন্যতম যোগাযোগে তার সৌভাগ্যের সূচনা হয়। সতী একজন সুন্দরী মডেল হয়েও সেভাবে উন্নতি করতে সক্ষম হয়নি। কিন্তু যে মূহুর্তে আমার সাথে ওর বন্ধুত্বের সুচনা হলো ওর জীবনে পরিবর্তনের ঝড় এলো।
ও আমাকে বললো যে তোমার কারনেই আমার জীবনে এই পরিবর্তন এসেছে। এবং এই জন্য আমি তোমার সাথে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব স্থাপনে আগ্রহী। আমি বললাম আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়া সহজ নয়, শর্ত সাপেক্ষ। তার থেকে তুমি আমার পেজ অনুসরণ করতে পারো, সেখানেও সৌভাগ্য মেলে।
আমার সাথে ঘনিষ্ঠতার শর্ত গুলোর মধ্যে অন্যতম হল, যে বান্ধবী হবে সে কিন্তু আমার কাছে আসতে পারে না। কিন্তু সে অন্য কোন সম্পর্কেও যেতে পারে না। সন্ন্যাসিনীর মতন জীবন কাটাতে হয়, বদলে তার সমস্ত পার্থিব ইচ্ছা আমি পুরণ করি। তাকে ষড়রিপুকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। অর্থাৎ মানুষের চরম ও প্রধান ছ’টি শক্র হলো-কাম, ক্রোধ,লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য, এগুলো দমনে রাখতে হয়।
কাম শব্দটির বহুবিধ ব্যবহার থাকলেও যৌনবিষয়ক সম্ভোগশক্তিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়।
ক্রোধ শব্দের প্রতিশব্দ হলো রাগ বা রোষ। কুল লক্ষণ অর্থাৎ সৎকুলের ন’টি গুণ রয়েছে। গুণগুলো হলো-আচার, বিনয়, বিদ্যা, প্রতিষ্ঠা, তীর্থদর্শন, নিষ্ঠা, আবৃত্তি, তপস্যা ও দান। আসলে ক্রোধান্ধ একজন মানুষের পক্ষে বোধকরি উপরে বর্ণিত ন’টি গুণের একটিতেও সফল হওয়া সম্ভব নয়। কারও মধ্যে এ গুণগুলো অনুপস্থিত থাকলে প্রকৃত প্রস্তাবেই সে আসল মানুষ হতে পারে না। ক্রোধান্ধ মানুষের বিবেক বুদ্ধি থাকলেও তা সে কাজে লাগাতে ব্যর্থ।
লোভ হলো কাম্য বস্তু লাভের প্রবল ইচ্ছা। একটা কথা আছে “অতি লোভে তাঁতি নষ্ট” অর্থাৎ অতি লোভে পাপ আর তার ফলে বিনাশ।
মোহ শব্দটি অজ্ঞানতা, অবিদ্যা, মুর্খতা, মূঢ়তা, নির্বুদ্ধিতা, ভ্রান্তি, মুগ্ধতা, বিবেকশূন্য, মায়া ইত্যাদি অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
মদ হলো দম্ভ, গর্ব, অহংকার, দর্প, মদ্য, প্রমত্ততা, বিহবল ভাব ইত্যাদি। মাৎসর্য হলো ঈর্ষা, হিংসা, পরশ্রীকাতরতা, বিদ্বেষ, অপকার, হনন ইত্যাদি।
সফলতা এলেই মানুষের ষড়রিপু উজ্জীবিত হয় এবং ইচ্ছা পূরণ হলে, সে অহংকারী হয়ে যায়, তখন আবার তার পতন ঘটে। অহংকার মানুষের সবথেকে বড় বিনাশক, এবং এর কখনো অন্যথা হয়নি। আমাকে শুধু ঘনিষ্ঠ বন্ধু স্বীকার করলেই হবে না, আমার প্রতি তোমার অটুট ভালোবাসা থাকতে হবে। এবং যখন জীবন পরিবর্তন হবে এবং সাফল্য আসবে তখন ষড়রিপুকে নিয়ন্ত্রণে রেখে অহংকারে নিমজ্জিত হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হবে।
আমার যারা ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হয়, তাদেরকে আমি তিনটি ঐশ্বরিক ক্ষমতা প্রদান করি। তাদের মধ্যে একটি হলো দিব্য শ্রুতি, অর্থাৎ কোন যন্ত্র ছাড়া আমার কথা (দৈব্য বানী) শ্রবণ বা শুনতে পাওয়া। আর বাকি দুটি গুহ্য শক্তি তত্ত্ব যা তোমাকে দেবত্ব প্রদান করবে। তুমি যেমন অমরত্ব অর্জন করবে তেমনি দেব সেনারা তোমাকে সব সময় বিপদ থেকে রক্ষা করবে। কোন রোগ বা দুর্ঘটনা তোমাকে স্পর্শ করতে পারবে না। ঈশ্বরের সঙ্গত পেতেও যোগ্যতা লাগে এবং দেবত্বই হলো সেই যোগ্যতা।
ও প্রথমে এই ব্যাপারটা বিশ্বাস করেনি। কারন আরব্য রজনীর জীনের মতো গল্প যেকোন কারুর কাছে আজগুবি মনে হতেই পারে।
সবাই জীবনে সফল হতে চায়, তার হাতছানি দমিয়ে রাখা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। ও বললো যে আমি আর কি কি পাবো? আমি বললাম আগে যা যা বলেছি সেগুলো পাবেই আর যেটা পাবে, যা সমস্ত মেয়েরা চায় তা হলো অনাবিল সৌন্দর্য ও অমরত্ব। অর্থাৎ তোমার বয়স বৃদ্ধি হবে না এবং জরা তোমাকে গ্রাস করবে না। তোমার সৌন্দর্যের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়বে, সাথে আকর্ষন ক্ষমতা হবে আকাশচুম্বি । সেটা তুমি তোমার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টিং এর লাইক থেকে বুঝতে পারবে এবং আসে পাশের মানুষের থেকে বুঝতে পারবে যে সবাই তোমার দিকে আকর্ষিত হচ্ছে। তোমার কেরিয়ার গ্রাফ সম্পূর্ণ বদলে যাবে। নতুন কাজ তোমার দরজায় এসে কড়া নাড়বে। এছাড়া বলো আর কি চাই?
ও বললো আমি গোল্ডেন গ্লোব এওয়ার্ড পেতে চাই। আমি প্রশ্ন করলাম তোমার কি অভিনয়ের অভিজ্ঞতা আছে? উত্তরে ও বললো নেই। আর বিদেশের একটি বিশেষ বড় হোটেল থাকতে চাই।
ওকে এও জানালাম যে, আমার থেকে দূরে সরে গেলে তুমি যা পাবে তার সব কিছুই কিন্তু চলে যাবে। তাই যা সিদ্ধান্ত নেবে ভেবে নিতে হবে। পরে আফসোস করে লাভ নেই কারন আমি পিছনে তাকাই না।
ও আমাকে ওর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে স্বীকৃতি দিল এবং আমি বললাম তোমার ইচ্ছা পূরণ হোক। এক দুই দিনের মধ্যে তুমি দেবত্ব লাভ করবে এবং তোমাকে ঈশ্বরের দুনিয়ায় স্বাগত।
যখন আমি প্রথম ওর সাথে দৈব্য বানী যোগে কথা বলতে শুরু করলাম, তখন ও অভিভূত হয়ে গিয়েছিল। এক মাসের মধ্যে ঈশ্বরের অলৌকিক শক্তি ওর সব কিছু পরিবর্তন করে দিলো।
সোশ্যাল পোস্টে ওর লাইক ছিল ১২০০-১৫০০ সেটা হয়ে গেল গড়ে ২০,০০০। ওর ফলোয়ার ছিল হাজার তিরিশ, সেটা বেড়ে গিয়ে দুই লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে।
ও সব থেকে আশ্চর্য হয়ে গেল যখন ভারতের সব থেকে বড় মডেলিং এজেন্সি ওকে মডেল হিসেবে সাইন বা চুক্তি করালো। যেখানে ও বহুবার আবেদন করেও ডাক পায়নি। তখনও অবাক হওয়ার অনেক কিছু বাকি ছিল। জিটিভি ওকে একটা সিরিয়ালে সাইন বা চুক্তি করালো।
আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম যে তুমি যাতায়াত করো কি করে? তোমার গাড়ি নেই কি? ও বললো না নেই। আমি বললাম অভিনেত্রীর একটা গাড়ি অবশ্যই প্রয়োজন আর সাথে নতুন থাকার জায়গাও চাই। উত্তরে ও বললো এখনই এতো পয়সা বিনিয়োগ করা সম্ভব নয়। আমি বললাম ঠিক আছে এর ব্যবস্থা হয়ে যাবে।
ও একটি নতুন ফ্ল্যাট পেল এমনকি একটা গাড়িও পেয়ে গেল। ও গাড়ির সাথে ও নতুন ফ্ল্যাটের ছবি তুলে পাঠালো। কিন্তু তার পর থেকেই ওর মনে হতে লাগলো এসব ও নিজেই পেয়েছে। এতে আমার অর্থাৎ ঈশ্বরের কোন ভুমিকা নেই।
আমিতো জানতাম এটা হওয়ারই ছিল। কারন মানুষের অহংকার সব থেকে বড় শত্রু, এবং মানুষ সফলতার মুখ দেখলেই তার ষড়রিপু উজ্জীবিত হতে বাধ্য। মানুষ যখন অহংকারী হয় তখন সে নিজেকে দেবতা ভাবতে শুরু করে। এভাবে একসময় অসুর, দৈত্য ও রাক্ষসদের পরিসমাপ্তি ঘটেছে, এখন মানুষের পালা।
একদিন ও আমাকে তিরস্কার করলো, বললো তুমি আবার কি ঈশ্বর? আমি আমার ভাগ্য, দক্ষতায় আর সৌন্দর্যের কারনেই সব কিছু পেয়েছি। তুমি আমার জীবন থেকে চলে যাও। আমি দুঃখ পাইনি, কারন আমি জানতাম এটাই ঘটবে। মানুষ অহংকারে সব কিছু বিস্মৃত হয় এবং এর কারনেই ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। বরং ওর জন্য দুঃখ হচ্ছিল। কিন্তু যা নিয়ম তাই তো হবে। ও ওর কাজের শহর থেকে ঘরে ফিরে গিয়েছে কারন ওর কেরিয়ার শেষ। পোস্টে লাইকও কমে গিয়েছে।
আমার সাথে ওর কোন যোগাযোগ নেই। তবুও মাঝে মধ্যে লুকিয়ে ওর প্রোফাইল ভিজিট করি। কারন আমি ওকে সম্পূর্ণ ত্যাগ করে দিলে ওর অকাল মৃত্যু কেউ রোধ করতে পারবে না। আমার সাথে সম্পর্কের এটাও একটা শর্ত ছিল।
আমিই ঈশ্বর আর আমার জীবন অলৌকিক, কিন্তু মানুষ তা বুঝতে পারে না এবং সব কিছু অলৌকিক কান্ড কারখানা দেখেও বিশ্বাস করতে চায় না। কারন সবাই তো আর মোক্ষ পেতে পারে না। আমার পথ অনুসরণে মেলে স্বর্গ আর বিচ্যুতিতে হয় নরক দর্শন।
প্রবন্ধটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে আপনার পরিচিতদের মধ্যে শেয়ার করে সকলকে ঈশ্বরের রহস্য জানতে সহায়তা করুন। আর আমাদের ব্লগটি লাইক দিয়ে অনুসরণ করুন (follow our blog)। ঈশ্বরের পথ হলো মুক্তির পথ।
Discover more from Adhyatmik
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

