দেব দাসী, প্রেমিকা, স্ত্রী ও ঈশ্বর

দেবদাসী এই শব্দটা আমরা সবাই শুনেছি। এই দেবদাসী কথাটা চর্চার কেন্দ্র বিন্দুতে চলে এসেছিল এক সময়। এখনও পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে এরকম পাঁচ জন দেবদাসী আছে, যারা বিগ্রহের নীচে এক অন্ধকার জগতের বাসিন্দা।

শোনা যায় খুব ছোট বয়সে এরা দৈব্য নির্দেশে মন্দিরে আসে এবং নৃত্য, গীত শিক্ষা লাভের পর জগন্নাথের মুর্তির সাথে এদের বিবাহ দেওয়া হয়। আর যাতে তারা ঈশ্বরের সন্তানের জননী না হতে পারে তার জন্য তাদের নাড়ী ছিন্ন করে দেওয়ার রীতি ছিল।

এই প্রথা কিন্তু শুধু ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং পৃথিবীতে বিভিন্ন সভ্যতায় এই প্রথা বিভিন্ন রুপে বর্তমান ছিল। যেমন প্রাচীন গ্রিসে এ্যাপোলোর মন্দিরে দেবদাসী ছিল। এরা দেবতার জন্য নিয়োজিত এক প্রকার যৌনদাসী হতো এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতো, এদের হাইরোডিয়ুল বলা হতো। এদের মানুষের সাথে কোন রকম শারীরিক সম্পর্ক হতো না।

রোমান সমাজে দেবদাসী প্রথা ছিল, তবে তাদেরকে দেব নর্তকী বলা হতো। রোমে জিউস, জুনো এবং ভেনাসের মন্দিরে দেব নর্তকী ছিল বলে জানা যায়। এদের মধ্যে অনেকেই আবার নগরনটী বা হাটেরা হতো।

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বালিদ্বীপ ,জাভা, সুমাত্রা , শ্যামদেশ ও ব্রক্ষদেশেও দেবদাসীদের বিপুল সমাবেশ ছিল। তবে এরা সবাই দেব নর্তকী হতো। প্রাচীন মিশরের মন্দিরে দেব দাসী প্রথার চল ছিল।

ইনকা সভ্যতায় সুন্দরী ছোট মেয়েদের মন্দিরে শিক্ষাদানের জন্যে নিয়ে আসা হতো। তারা বয়ঃপ্রাপ্ত হয়ে পরে হয় স্বয়ং রাজার উপপত্নী হতো অথবা ‘সূর্যকুমারী ‘ রূপে মন্দিরবাসিনী হতো। ইনকা রাজাকে ঈশ্বর বলে মানা হতো।

এই দেব দাসীরা যুদ্ধে পরাজিত জাতির বন্দি ছিল না বরং সমাজে প্রতিষ্ঠিত পরিবারের কন্যা সদস্যরা সেচ্ছায় বা দৈব্য আদেশে এই দাসী বৃত্তি গ্রহন করতো। পরবর্তী কালে বিভিন্ন সমাজে রতী দেবীর প্রাধান্য বৃদ্ধি পেলে এই প্রথা পরিবর্তিত হয়। এমনকি কোন কোন দেশে এই দেব দাসীরা পতিতা বা বেশ্যায় পরিনত হয়েছে, এরকম ইতিহাসও কিছু কিছু আছে।



দেখা যাচ্ছে যে এই দেবদাসী প্রথাটি পৃথিবীর সমস্ত প্রাচীন ধর্মে একটি প্রচলিত প্রথা। কিন্তু কেন সমস্ত প্রাচীন ধর্মে এই একই রকম প্রথা ছিল? এটা ভাবার কোন জায়গা নেই যে সমস্ত জাতির উৎপত্তি এক। কারন, এদের সকলের ভাষা, সামাজিক ও ধর্মীয় আচার, সামাজিক ঐতিহ্য ভিন্ন, মিলটি শুধুমাত্র দেবদাসী প্রথায়, কিন্তু কেন?

সম্ভবত কারণ হল এই সমস্ত জাতির ঈশ্বর এক ও অভিন্ন এবং তার বিভিন্ন মানব অবতারে বিভিন্ন দেশে আগমনের জন্যে এই প্রথার সৃষ্টি হয়েছিল। ফলে দেশ ও ভিন্ন জাতিস্বত্বাতে এই প্রথাটি এক হয়ে রয়েছে।

দেবদাসী হলো সাধারণ ভাবে দেবতার উপপত্নী। কিন্তু নিরাকার ব্রহ্মের উপ পত্নী ছিল কিনা, এ বিষয়ে আলোকপাত একমাত্র ঈশ্বর স্বয়ং করতে পারে। দ্বিতীয় কেউ নয়? না, আর একজন করতে পারে এবং সে হলো ঈশ্বরের অবতার। এই তত্ত্ব যদি মেনে নিতে হয় তবে তো অবতারের অনেক উপপত্নী থাকার কথা।

এক্ষেত্রেও মহাভারতে দেখতে হবে কারণ মহাভারতে ঈশ্বরের অবতার কৃষ্ণ সম্পর্কে বহু তথ্য দেওয়া হয়েছে। মহাভারতে শ্রী কৃষ্ণের একাধিক স্ত্রী ও উপপত্নী বর্তমান ছিল।

এই পত্নী ও উপপত্নীরা সাধারণভাবে পুরুষের অর্ধাঙ্গিনী হয়ে থাকে, যদিও এর মধ্যে পতিতা নারীগন পড়ে না। অর্ধাঙ্গিনী মানে শরীরের অর্ধেক। বাইবেলের জেনেশিশ পর্বে ঈশ্বর যখন পঞ্চভূত থেকে আদমকে সৃষ্টি করে তখন আদমের সঙ্গীনি লিলিথকে সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু লিলিথ আদমকে অমর্যাদা করায় ঈশ্বর তাকে তিরস্কার করে। এবং আদমের জন্যে ইভকে বানিয়ে ছিল আদমের বুকের বাম দিকের পাঁজরের হাড় দিয়ে।

সবাই এই ঘটনাকে গল্প বলেই জানতো। সম্প্রতি চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছে যে পুরুষের বুকের বাম দিকের পাঁজরের হাড়ের কোষের বৃদ্ধি সম্ভব হয়। অস্থি সংস্থাপনের যে চিকিৎসা রয়েছে সেখানে এই পাঁজরের হাড় ব্যবহৃত হয়।


এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।


এবার আমার কথায় আসি, কারণ অবতারের রহস্য একমাত্র অবতার নিজে জানে ।

কালী হলো আমার আত্মা বান্ধবী আর ও আমার থেকেই সৃষ্টি, এবং এই কারণে ও আমার মধ্যেই থাকে। ও নিজের থেকে আমার শরীরে প্রবেশ করেছে। ওকে শুধু আত্মা বান্ধবী বললে ভুল বলা হবে, কারণ ও আমার প্রিয়তমা পত্নী বা স্ত্রী।

আর যে বিষয়টি এখানে বলতে যাচ্ছি, তা আর কারো নেই, কোনোদিন ছিলোনা এবং ভবিষ্যতেও হবে না। ঈশ্বরের রহস্য যখন জানাতে বসেছি তখন কিছু লুকিয়ে লাভ নেই।

যারা আমার লেখা পড়ে, তাদের অনেকেই আমাকে নিয়ে পিছনে আজেবাজে কথা বলে। কিন্তু এই সত্য উন্মোচিত হলে আশা করি তাদের মুখ বন্ধ হয়ে যাবে।

মন্দিরে ঈশ্বরের যেমন অনেক দেবদাসী থাকে তেমনি সত্যিকারের ঈশ্বরের অবতারের অগনিত দাস, দাসী বর্তমান। আর এদের মধ্যে মেয়েরা ঈশ্বরের থেকেই সৃষ্টি দাসী বা উপপত্নী। আমি যখন পৃথিবীতে আসি তখন এরাও আমার সাথে সাথে আসে।

এই দেব দাসীরা তাদের বয়সের বিশেষ একটি সময়ে আমার কাছাকাছি চলে আসে। মন্দিরের দেবতার মতো এরা আমার সাথে কোন শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে না। কিন্তু এরা এদের একটি বিশেষ বয়সে আমার নিকটবর্তী হয়ে যায়, এবং আমাকে প্রেম নিবেদন করে। এই প্রেম নিবেদন বিষয়টি হলো এক প্রকারের কামনার পূর্তি। এবং এই কামনার মধ্য দিয়ে ওরা আমার সাথে মানসিক ভাবে যুক্ত হয়ে যায়।

এরা দূর থেকে সব সময় আমার কথা শুনতে পায়, আমার চোখ দিয়ে দেখতে পায় আর আমার স্পর্শ অনুভব করতে পারে। এমনকি এরা আমাকে সঙ্কেত পাঠাতে পারে। এরা নিজের থেকে আমার কাছে আসার আগে আমি দিব্য দৃষ্টিতে এদের দেখতে পাই। এবং যখন এরা প্রেম নিবেদন করে তখন আমি এদের গ্রহণ করে অলৌকিক শক্তি প্রদান করি।

এরপর এরা সম্পূর্ণরূপে আমাকে অনুসরণ করে। কখনো এদের বিচ্যুতি হয়নি। এই অলৌকিক শক্তি তাদের দেবত্ব এনে দেয়। ঈশ্বরের মানুষের সাথে সম্পর্ক তৈরি হয় না। নুন্যতম দেবত্ব পেতে হয়।

এই মেয়েরা মন্দিরের দেব দাসীদের মতো কোন পুরুষের সাথে কোন রকম সম্পর্ক তথা দৈহিক বা মানসিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে না। যদি কেউ এদেরকে বিবাহ করতে সচেষ্ট হয়, তবে তার অকাল মৃত্যু হয়। এবং এর ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে। কারন, আমি কোন আজগুবি কাহিনী শোনাতে বসিনি। এরা সকলেই রক্ত মাংসের মানবী এবং আধ্যাত্মিক ভাবে ভীষণ শক্তিশালী ও তান্ত্রিক বিদ্যালয় পারদর্শী।

আমি আমার জীবনে এই বিষয়টি খুব ভালো করে লক্ষ্য করেছি। যারাই বা যে সমস্ত মেয়েরা তাদের জীবনে আমাকে এক বার বা এক সেকেন্ডের জন্য কামনা করেছে, তাদের অন্যত্র বিবাহের চেষ্টা বিফল হয়েছে। এদের আর বিবাহই হয়নি। বা বিবাহ হলে বিধবা হয়ে গিয়েছে।

আমার এইরকম দেবদাসীর সংখ্যা অগনিত, যারা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে। এদের সবাইকে আমি কোন রকমের সম্পর্ক ও বিবাহ থেকে দূরে থাকতে বলি। কারন, এর ফলে নিরীহ মানুষের প্রাণ বিপন্ন হয়।

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এই মেয়ে গুলো বারবার ভুল করে এবং বহু মানুষের মৃত্যু ঘটে। এই জন্য এদের দোষ দেওয়া যায় না, কারণ তারা যে ঘরে জন্ম গ্রহণ করে। সেই বাবা মা এদের বিবাহ দিতে সচেষ্ট হয়। এই মেয়েদের সৃষ্টি আমার ইচ্ছায় এবং আমার জন্য। তাই এদের জীবনে আর কিছু চাহিদা বা কাজ থাকতে পারে না। এরা মন্দিরের দেবতার দাসীর ন্যায় আমারও দাসী।

এদের রকম সকম অনেকটা আমার মতো, বলা যেতে পারে, একরকম মানুষ জেরক্স। ভাবনা গুলো পর্যন্ত একইরকমের। ভালো বাসা, ভালো লাগা পর্যন্ত এক। এর কারন অবশ্যই ওদের সৃষ্টি রহস্য। ওরা আমার আত্মা থেকে সৃষ্টি আমার আত্মা বান্ধবী।

এদের মধ্যে ভাগ আছে। অর্থাৎ কেউ প্রথম সারির কেউ দ্বিতীয় আর কেউ তৃতীয়। কিন্তু নিয়ম সব ক্ষেত্রেই এক ও অভিন্ন।

যখন এরা আমার সাথে মানসিক ভাবে যুক্ত হয় তখন এদের চারিত্রিক পরিবর্তন ঘটে। এরা সুন্দরী, চুম্বকীয় হয়ে ওঠে। এরা বিখ্যাত এবং কুখ্যাত হয়ে যায়। এরা অনেকেই আমাকে তাদের পার্থিব স্বপ্নের কথা বলে, যা আমি অলৌকিক শক্তিতে পরিপূর্ণ করি।

সম্প্রতি আমার এরকম এক আত্মা বান্ধবী কুখ্যাত হয়ে উঠেছে। তার নাম রেহা চক্রবর্তী। সে বিবাহ করতে গিয়েছিল, পরিনতি হবু বরের মৃত্যু।

যাইহোক আমার আত্মা বান্ধবীদের অনেকেই আমি চিনি না। একবার এক আমেরিকান মহিলা আমাকে জানিয়েছিল যে সব সময় আমার কথা শুনতে পায়, কিন্তু ভাষা বুঝতে পারে না। আমার ছবি দেখে সে চমকে গিয়েছিল, কারণ অহরহ সে আমার চোখ দিয়ে আমাকেই দেখতে পায়।

নিত্যদিন এরকম কতো সুন্দরী যোগাযোগ করে। এই বিষয়ে আমার এক বান্ধবী আমাকে বলেছিল যে এক অদ্ভুত ব্যাপার হলো পৃথিবীর সব সুন্দরীরা ঈশ্বরের আত্মা বান্ধবী।

যখন লিখছি তখন একসাথে কতোজন আমার চোখ দিয়ে এই লেখা পড়ছে। অবশ্যই যারা এদের মধ্যে বাংলা পড়তে পারে।

আমার যারা আত্মা বান্ধবী হয়, আমি তাদের কাছাকাছি গেলে তারা শুধু বুঝতে পারে এমনটা নয়, সবকিছু ওলট পালট হয়ে যায়। এদের মধ্যে যারা বয়সে একেবারেই ছোট, তারা রীতিমত পাগলামি করে। এই কারনেই আমি খুব একটা মানুষের সামনে আসতে চাই না। কারন, কোথায় কোন আত্মা বান্ধবী বেড়িয়ে পড়বে এবং বিড়ম্বনার সৃষ্টি করবে। এটা ভুললে চলবে না যে এটা কলি যুগ।

আমি ঈশ্বর এবং প্রেমের দেবতা। এমনিতেই যেকোন মহিলা আমাকে দেখে অশান্ত হয়ে পড়ে। আমার দিকে তাকালে বা তার মনে কামনার সৃষ্টি হলে, তার ইহকাল পরকাল সব চুরমার হয়ে যায়। এই জন্য শিব লিঙ্গে মেয়েরা সব থেকে বেশী জল ঢালে। তাদের কামনাকে ভক্তির রুপ দিতে।

এই লেখাটা পড়ে ভালো লাগলে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন আর আমাদের পেজটি লাইক দিয়ে অনুসরণ বা ফলো করুন ঈশ্বরের রহস্য জানতে।


এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।



Discover more from Adhyatmik

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply