
অনেকেই তাদের প্রিয় জনকে মৃত্যুর পর দেখতে চায়। কারন যে চলে গেছে তার সংসারে অস্তিত্ব না থাকলেও তাঁর প্রিয়জনেরা তার অভাব বোধ করে। এ হলো মায়া, মৃত ব্যক্তি মায়া কাটাতে পারলেও তার স্বজনরা তা সহজে পারেন না।
কিন্তু, যে চলে গেছে তাকে কি সত্যি দেখা যায়? বা তার কথা কি সত্যি শোনা যায়? অবিশ্বাসীরা তো আত্মায় বিশ্বাস করে না ফলে তাদের ভাবনার কথা ভেবে লাভ নেই। কিন্তু, যারা মানেন তাদের জন্য কিছু বিশ্বাস করার মতো একটি উপলব্ধি আজ প্রকাশ করবো।
ভগবত গীতাতে আত্মা সম্পর্কে কৃষ্ণ যা বলেছেন, তা হল
এইবাসাংসি জীর্ণানি যথা বিহায়
নবানি গৃহ্নাতি নরোহপরানি।
তথা শরীরানি বিহায় জীর্ণা-
ন্যানানি সংযাতি নবানি দেহী ॥
শ্রীশ্রী গীতা,০২/২২
অর্থাৎঃ যেরূপ মানুষ পুরোনো বস্ত্রগুলি ত্যাগ করে অন্য নূতন বস্ত্র গ্রহন করে, সেইরূপ জীবাত্মা পুরাতন শরীর সকল ত্যাগ করে অন্য নূতন শরীর প্রাপ্ত হয়।আত্মার অস্তিত্ব অনেকেই মানেন না।
কিন্তু আত্মা যে সত্য তা আমি “আত্মা ও জন্মান্তরবাদ” শীর্ষক প্রবন্ধে প্রমাণ করে দিয়েছি। যারা এখনো পড়োনি তারা পড়ে নিও।
এবার মৃত মানুষের আত্মা কি সত্যি দেখতে পাওয়া যায়? বা তার কথা শুনতে পাওয়া যায়।এই দেখতে পাওয়া সম্পর্কে বোঝার আগে একটি বিষয় আমারা হয়তো অনেকেই শুনেছি। সেটা হলো প্ল্যানচেট, একটি তিনপায়া টেবিল নিয়ে করতে হয়, যার উচ্চতা আড়াই ফুট আর ব্যাসার্ধ দুফুট।চক্রে সবশুদ্ধু তিন জন থাকে, যাঁরা শুধু তাঁদের আঙুলের ডগা দিয়ে টেবিলটিকে ছুঁয়ে থাকবেন।
এই তিনজনের মধ্যে একজন মিডিয়াম থাকে, অর্থাৎ যার মধ্যে আত্মা এসে ভড় করে। তাকে বলে চক্রপতি, এই ব্যাক্তি আত্মার সাথে কথা বলে।সাধারণত, যে নিয়মে এই চক্র পরিচালিত হয় যেমন প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ হলে টেবিল একবার ঠক্ করবে, না হলে দু’বার৷ এরপর তিন জন একাগ্র চিত্তে কোন মৃত ব্যক্তিকে স্মরণ করে। এরপর ঐ মিডিয়াম বা চক্রপতির মধ্যে এক মৃদু সুখশিহরণের মাধ্যমে আত্মা উপস্থিত হয়।

প্রশ্নের উত্তর সাধারণত হ্যাঁ বা না এর মাধ্যমে দেওয়া হতো। চক্রপতি একটি পেনসিল সাদা কাগজে ধরে থাকতো, এবং তার উপর উত্তর লেখা হতো।আমার পরিবারে অনেকেই প্ল্যানচেট করতো। এখানে আমার এক মামার কথা বলবো। যিনি বিজ্ঞান নিয়ে সারা জীবন কাটিয়েছেন। একজন জিওলজিস্ট, প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যাপক ও পরে শিবপুর ইনজিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের রীডার ছিলেন। উনি যখন এম এস সি ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র তখন ওনার মাতৃ বিয়োগে, উনি একেবারে ভেঙ্গে পড়ে ছিলেন। তখন প্ল্যানচেট করে নিজের মাকে ডেকে আনিয়ে ছিলেন।
উনি ওনার মায়ের আত্মাকে সবশুদ্ধু তিনটি প্রশ্ন করেছিলেন। আমার এক দুঃসম্পর্কের মামা সে বছর ইলেকশনে দাড়িয়ে ছিলেন। প্রশ্ন ছিল, তিনি জিতবেন কিনা? উত্তর ছিল, না। এবং তিনি হেরে গিয়েছিলেন।
দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল, মামা এম এস সি পরীক্ষা দেবেন কিনা? উত্তর ছিল, না। মামা সত্যি পরীক্ষা দিতে পারেনি।
তৃতীয় প্রশ্ন ছিল, মামার নিজের দাদার সতেরো দিনের মধ্যে আমেরিকায় চলে যাওয়ার কথা ছিল। ভিসা, টিকিট সব প্রস্তুত ছিল। যাওয়া হবে কিনা? উত্তর ছিল, না এবং সমস্ত প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও ওনার আমেরিকা যাওয়া হয়নি।
কিভাবে সব প্রশ্নের উত্তর মিলে গিয়েছিল? তবে কি সত্যি ওনার মা চক্রে এসেছিলেন?
এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।
দ্বিতীয় গল্পটির ঘটনাক্রম আমার বড় জেঠার বাড়িতে ঘটেছিল। বাড়িটি কলকাতার যোধপুর পার্কে। জেঠার বাড়িতে দুটি চাকর ছিল, আমি ছোটবেলায় দেখেছি। প্রায় চল্লিশ বছর আগের ঘটনা, দুই জনের একজন হঠাৎ একদিন আত্মহত্যা করে বসে।
এই ঘটনা ঘটে যাওয়ার প্রায় বছর ৩৬-৩৭ বাদে ওদের বাড়িতে একটি মুসলিম মেয়ে রাত দিনের কাজ করতে আসে। সে ঐ বাড়িতে থাকাকালীন সিঁড়ি দিয়ে ওঠা নামার সময় একটি অদ্ভুত কিছুর উপস্থিতি লক্ষ্য করে।
মেয়েটি আমার জ্যাঠতুতো দাদাকে প্রশ্ন করে যে ঐ বাড়িতে কোন মানুষের অপঘাতে মৃত্যু হয়েছে কিনা? কারন, কেউ একজন প্রেত আত্মা ওর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছে। তখন দাদা ৩৫ বছর আগে ঘটে যাওয়া আত্মহত্যার ঘটনাটি বলে। তখন মেয়েটি বলে এ সেই ছেলে যে আত্মহত্যা করেছিল। দাদা ঐ ছেলেটির পিন্ড দান করার পর আর তার দেখা মেলেনি।
ঐ মেয়েটি তার বিগত জন্মের পূন্যের কারনে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারীনি বা একজন মিডিয়াম বা চক্রপতি। ফলে একটি প্রেত তার সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছে।
মানুষের দুটি শরীর, একটি স্থূল শরীর আর দ্বিতীয়টি সূক্ষ্ম শরীর। এই সূক্ষ্ম শরীর আমাদের কপাল থেকে এক মধ্যমা পিছনে অবস্থিত, অর্থাৎ মেরুদন্ড বরাবর। মৃত্যুর পর স্থূল শরীর নষ্ট হয়ে গেলেও সূক্ষ্ম শরীর নষ্ট হয় না, পরবর্তী জীবনে যাওয়া পর্যন্ত সেই শরীর বর্তমান থাকে।
প্রেত যখন হাজির হয় তখন সে তার সূক্ষ্ম শরীরে হাজির হয়। কিন্তু একজন যোগী তাকে সূক্ষ্ম শরীরে দেখতে পায় না। মানে বলা যেতে পারে প্রেত সূক্ষ্ম শরীরে একজন যোগীর সামনে আসতে পারে না। কারন, প্রেত যোগীর তেজের জন্য কাছে এলে, যন্ত্রণা পায়। আর, যোগী আত্মাকে সরাসরি দেখতে পায়, সূক্ষ্ম শরীর যোগীর কাছে অভেদ্য নয়।
সর্বভূতস্থমাত্মানং সর্বভূতানি চাত্মনি।
উক্ষতে যোগযুক্তাত্মা সর্বত্র সমদর্শন ॥
শ্রীশ্রী গীতা, ০৬/২৯
অর্থাৎঃ এভাবে যোগযুক্ত পুরুষ সর্বত্র সমদর্শী হয়ে আত্মকে সর্বভূতে এবং সর্বভূতকে আত্মাতে দর্শন করেন।
আমি একদিন শীতের সময় আগুন জ্বেলে ধ্যান করছিলাম, হঠাৎ দেখি ঘরের পর্দা নড়ে উঠলো। যেন কেউ পর্দা সরিয়ে ঘরে ঢুকলো। তারপর চারপাশে ঘুরে কাকুতি মিনতি করতে লাগল আগুনে ঝাপ দেওয়ার জন্য। আমি অনুমতি দিতেই কিছু একটা আগুনে ঝাপ দিল, এবং দাউ দাউ করে জ্বলতে লাগলো। গন্ধটা অনেকটা পচে যাওয়া মাংসের মতো।
যে যোগী পুরুষ সেই কেবল আত্মার উপস্থিতি উপলব্ধি করতে পারে। এমনকি তাদের দেখতেও পায়। আমি বেশ কয়েকবার আমার পরিবারের পরলোকগত সদস্যদের দেখেছি। এবং যে কেউ তা দেখতে পারে বা তাদের কথা শুনতে পারে। কিন্তু এর জন্য মনকে বাঁধতে হবে। মন বাঁধা না থাকলে কিছুই দেখা বা শোনা যায় না।
আর এই মন বাঁধতে গেলে যেটার সব থেকে বেশি প্রয়োজন, তা অবশ্যই ধ্যান। ধ্যান যেমন আধ্যাত্মিক জগতের সাথে মেল বন্ধন ঘটায় তেমনি মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভীষণ ভাবে উপকার করে। এক জন মানুষকে সম্পূর্ন রুপে পরিবর্তিত করতে পারে। তার সমস্ত রকমের মানসিক রোগ বা সমস্যার উপশম ঘটায়। এমনকি বহু শারীরিক সমস্যার সমাধান করতে পারে। ধ্যান কারী এই আধ্যাত্মিক মেল বন্ধনের কারনে পরলোকগত মানুষকে এবং তার আত্মাকে দেখতে পায় এবং তাদের সম্পর্কে সম্যক ধারণা করতে পারে। তাদের কথা শুনতে পায় এবং বুঝতে পারে। আধ্যাত্মিকতা শুধুমাত্র একটি জীবনে সীমাবদ্ধ নয়। আগামী প্রতি জন্মে তা পরিনতি লাভ করে।
ধ্যান অবশ্যই গুরুর কাছে শিখতে হয়। কারন, একজন গুরুই তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে। কিন্তু যেমন তেমন ধ্যানে সব শক্তি আসে না। ধ্যানের রকম ভেদ হয়। এমন ধ্যান করা প্রয়োজন যার দ্বারা অবচেতন মনকে রিপ্রোগ্রামিং করা যায়। কারন, এই অবচেতন মন সব থেকে শক্তিশালী। যে অবচেতন মনকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে সে অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে।
প্রবন্ধটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন আর আমাদের পেজটি লাইক দিয়ে অনুসরণ করুন এবং ঈশ্বরের রহস্য জানুন ।
Discover more from Adhyatmik
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

