ব্রহ্মান্ড ও ইচ্ছা শক্তি

ইচ্ছা শক্তি হলো এমন এক অসীম শক্তি যা সমস্ত মানুষের কম বেশি থাকে। অনেক মানুষ এই শক্তির পরিস্ফুটন ঘটিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলে। কিন্তু মানুষ সাধারণ কাজ কর্ম বা দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে খুব বেশি ইচ্ছা শক্তির ব্যবহার বা প্রোয়োগ করে না।

দেখা গেছে কোন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কোন দূরুহ কাজ করতে এর ব্যবহার করে থাকে, এবং বহু ক্ষেত্রে তারা সফলতা অর্জন করেছে। আবার যারা দুঃসাহসিক অভিযান বা ভ্রমণ করে, তাদেরও অনেক ক্ষেত্রে এই ইচ্ছা শক্তির প্রয়োগে কোন দূরূহ অভিযান সম্পন্ন করতে দেখা গেছে।

এখানেই ইচ্ছা শক্তির ব্যবহার ও তাৎপর্য প্রকাশ পায়। কিন্তু কোন মানুষই সে ভাবে ইচ্ছা শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। কারণ, তারা জানে না যে কি ভাবে ইচ্ছা শক্তি নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়। এবং এই জন্য মানুষ তার দৈনন্দিন চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে ইচ্ছা শক্তির ব্যবহার করতে পারে না।

এই ইচ্ছা শক্তিটি ব্রহ্মান্ড ভাবনার মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে। ব্রহ্মান্ড কথাটার সন্ধি বিচ্ছেদ করলে দাঁড়ায় ব্রহ্ম ভান্ড, অর্থাৎ ব্রহ্মের ভান্ড বা ব্রহ্মার ভাড় । যদি আমরা একটা মাটির ভাড়ে কানায় কানায় বালি ভর্তি করে আঙ্গুল দিয়ে খুব জোরে চাপ দেই। তবে দেখা যাবে ভাড় উল্টো করে ধরলেও বালি নীচে পড়ে যাচ্ছে না। কারন আঙ্গুলের চাপে বালির কনা গুলোর মধ্যে একটা আকর্ষণ বা একটা চুম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

এই আকর্ষন শক্তি প্রকাশ ভেদে বিভিন্ন শক্তির আধার, আর তার মধ্যে অন্যতম হল ইচ্ছা শক্তি। এই ব্রহ্মান্ডের সমস্ত কিছু এক বিশাল চুম্বক শক্তির আধারে আবদ্ধ। অর্থাৎ এর মধ্যে সমস্ত মহাজাগতিক বস্তু সমূহ এমনকি মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণী সকল অবস্থান করছে। এই কারনে মানুষের ইচ্ছা শক্তি কখনো কখনো অসম্ভব কাজ করে ফেলে।



এটা তখনই সম্ভব হয়, যখন মানুষের মস্তিষ্ক এই ইচ্ছা শক্তির পরিস্ফুটন ঘটাতে পারে। কিন্তু সমস্ত মানুষের মস্তিষ্ক সমান ভাবে কাজ করে না, ফলে তাদের ইচ্ছা শক্তির পরিস্ফুটন ঘটে না।

কিভাবে এই ইচ্ছা শক্তি কাজ করে? যখন কেউ মনস্থ করে কোন কাজ করার জন্য, তখন সেই ব্যক্তির মনের ধ্যান জ্ঞান হয়ে যায় তার অভীষ্ট কর্ম বা লক্ষ্য। ফলে সে অন্য সমস্ত কাজে তার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তার অবচেতন ও চেতন মন একপ্রকার সামঞ্জস্য তৈরি করে। এবং মস্তিষ্কের গতি প্রকৃতিকে সরাসরি তরান্বিত করে, যার ফলে মস্তিষ্কের বহু হরমোন তার স্বাভাবিক ক্ষরনে ফিরে আসে। এম আর আই স্ক্যানে এই পর্যায়ে মস্তিষ্কের অবস্থা পরিবর্তন চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করেছে।

ব্যাপারটা অনেকটা এরকম, মানুষের মনকে মন্দিরের সাথে তুলনা করা হয়। যা প্রাচীন মন্দির স্থাপত্যে পরিলক্ষিত হয়েছে। মন্দিরের বিগ্রহের অবস্থান থাকে মনে, যা মস্তিষ্কের পর্যায়ে অবস্থিত।

আর মস্তিষ্কে যে বিভিন্ন গুচ্ছ বা এলাকা থাকে, সেগুলো ডার্ক ম্যাটারে পরিপূর্ণ থাকে। ধ্যান চলার সময় সেগুলো গ্রে ম্যাটারে পরিবর্তিত হয়। কারন, ভাবনা শূন্যতা মস্তিষ্কের গুচ্ছ গুলোর উপর প্রভাব বিস্তার করে।

ভাড়ের বালি কনা গুলির ন্যায় ব্রহ্মান্ডের সব কিছুই পরস্পরের সাথে এক চুম্বকীয় শক্তিতে আবদ্ধ। ইচ্ছা হলো এক চুম্বকীয় বা আকর্ষণীয় শক্তির প্রকার ভেদ, যা ছোট ছোট ক্ষেত্র রচনা করে। একাগ্র চিত্তে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর ভাবনা মানুষকে একপ্রকার পথ বা জ্ঞান প্রদান করে যার দ্বারা মস্তিষ্ক প্রভাবিত হয়ে যায় এবং অসম্ভব সম্ভব হয়।

আর, ব্রহ্মান্ড মানুষের প্রেরিত তরঙ্গকে ফিরিয়ে দেয়। এবং, ইচ্ছা শক্তি ঐশ্বরিক শক্তিকে আকর্ষন করে নিয়ে আসে। এটা অনেকটা এরকম। ধরা যাক একটা বড় গামলায় জল রাখা আছে। একেবারে মাঝখানে একটা ঢিল ফেলা হলো। দেখা যাবে ঢেউ এর তরঙ্গ সৃষ্টি হবে। যা গামলার চারপাশে ধাবিত হবে এবং তারপর কেন্দ্র বিন্দুতে ফিরে আসবে।

আর আমারা সবাই জানি যে মস্তিষ্কের নির্দেশেই শরীর চলে। যখন ইচ্ছা শক্তি কাজ করে তখন অসম্ভব সম্ভব হয়ে যায়। না হওয়া কাজ সম্পন্ন হয়, না পাওয়া বস্তু ও মানুষ কাছে চলে আস, এবং আরও কতো কি ঘটে।


কিন্তু এই ইচ্ছা শক্তির পরিস্ফুটন সবার ক্ষেত্রে সমান ভাবে কাজ করে না। এমনকি দেখা গেছে যার ক্ষেত্রে কখনো করেছে তারও সব সময় করে না। এটার কারণ অবশ্যই ষড়রিপুর উত্থান, যা মস্তিষ্কের ভাবনার উপর সরাসরি প্রভাব বিস্তার করে।

একমাত্র বিশেষ প্রকার ধ্যানের মাধ্যমে এই শক্তির নিয়ন্ত্রণ সম্ভব ফলে ধ্যানকারী ব্যক্তির সমস্ত চাহিদা পূরণ হয়ে যায় অতি সহজেই। প্রাচীন কালে মুনি ঋষিরা অনেক কাজ করতো ধ্যানের মাধ্যমে। যা, আমরা বিভিন্ন কাহিনীতে পড়েছি।

আমি আমার বাস্তব জীবনে যা দেখেছি তা একেবারেই অলৌকিক। যেমন আমার কখনো শরীর খারাপ করে না। যদিও বা কিছু হয়, তা নিজে নিজে নিরাময় করতে পারি অনায়াসে। কোন চাহিদা অপূর্ণ থাকে না। এমনকি ইচ্ছে শক্তির প্রয়োগে ছোট খাটো দৈনন্দিন চাহিদাও পূর্ণ হয়ে যায়। এর জন্যে বিশেষ পরিশ্রমের প্রয়োজন পড়ে না।

আমার কথা যে শ্রবণ করে সে এক প্রকার সম্মোহিত হয়ে যায়। অনেকেই ঘুমিয়ে পড়ে। কোন স্থানে পদার্পণ করলে সমস্ত মানুষ আমার উপস্থিতি টের পেয়ে যায়। ফলে কখনো কোথাও গিয়ে কাজের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না।


এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।


মানুষের চেহারা জন্মগত, কিন্তু ধ্যান তাকে এমন ভাবে প্রভাবিত করে যা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। আমি কোন সেলিব্রিটি নই , কিন্তু আমার আকর্ষণীয় ক্ষমতা রীতিমত ঈর্ষানীয়। এ সবকিছুই ধ্যানের জন্য লাভ হয়েছে।

মানুষের জীবনে অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইচ্ছা থাকে। যার সচরাচর প্রকাশ ঘটে না, সেই ইচ্ছা ইচ্ছাই থেকে যায়। অথচ, অনায়াসে আমরা ধ্যানের দ্বারা বহু ইচ্ছা পূরণ করতে পারি। ব্রহ্ম হলো ব্রহ্মান্ডেরই প্রকাশ আর মানব শরীর তার ক্ষুদ্র সংস্করণ। অবচেতন মন সেই দুই ব্রহ্মান্ডের সেতুবন্ধন করে থাকে। ধ্যানে মনকে বেঁধে রাখা যায় ফলে মনের ইচ্ছায় ব্রহ্মান্ড সাড়া দেয়।

আমাদের ব্লগটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে অনুসরণ বা ফলো করুন এবং শেয়ার করুন।




Discover more from Adhyatmik

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply