নীল রংয়ের রহস্য

কেন পঞ্চ দেবদেবী শিব, কালী, বিষ্ণু, রাম এবং কৃষ্ণের গাত্র বর্ন নীল?

এই বিষয়টি কোন মানুষের অজানা নেই যে হিন্দু ধর্মের যে প্রধান দেব, দেবী যেমন শিব, বিষ্ণু, কালী এমনকি রামায়ণে বর্নিত রামচন্দ্র এবং মহাভারতের সময়কার বিষ্ণু অবতার কৃষ্ণের গায়ের রং নীল দেখানো হয়েছে।

সত্যিকারের কি মানুষ বা অবতার বা ঈশ্বরের গায়ের রং নীল হতো? কিন্তু পৃথিবীতে বিভিন্ন বর্নের মানুষ পাওয়া গেলেও, এখনও নীল রং এর মানুষের সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে হিন্দু ধর্মের এই বিশেষ কয়েকজন দেবতার গাত্র বর্ন নীল, এই রহস্য এখনো পর্যন্ত কেউ উন্মোচনও করেনি।

আজ, আমারা জানবো সেই রহস্য। এই রহস্যের চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে কুন্ডোলিনী চক্রের মধ্যে। অনেকেই বলে থাকেন যে উপরোক্ত দেবতা ও অবতারদের গায়ের রং কালো হবে, কিন্তু তাদেরকে নীল রং এর দেখানো হয়েছে। কার কথায় কি এসে যায়। এর উত্তর রয়েছে আধ্যাত্মিক জ্ঞানের মধ্যে।


কুন্ডোলিনী চক্র ধ্যান শিখুন


এই নীল রং এর উৎস লুকিয়ে রয়েছে কুন্ডোলিনী শক্তি চক্রের পঞ্চম চক্রে। এই কুন্ডোলিনী শক্তি চক্র যা মূলাধার থেকে সহস্রার চক্রে বিন্যস্ত। এই চক্র গুলো আসলে এক একটি স্নায়ু চক্র আধার বা স্নায়ু শক্তির আধার। এরা সক্রিয় হলে কুন্ডলিকৃত নারী শক্তি এই শক্তি চক্রে রচিত একটি সিড়ির মাধ্যমে উপরে উঠে আসে।

এই কুন্ডলিনী শক্তি চক্র গুলি মানুষের শরীরে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারন তারা শারীরিক বিভিন্ন প্রক্রিয়াকে শুধু প্রভাবিত করেনা বরং তার সাথে শক্তি সঞ্চালিত করে।

এগুলো জাগরনে মানব দেহে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন সাধিত হয়, যা আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য বিশেষ ভাবে জরুরি। মানব দেহে এরকম বহু শক্তি চক্র বিদ্যমান। তবে কুন্ডোলিনী শক্তি চক্র গুলো সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এদের অধিকাংশই এক একটি মানুষের বিশেষ বিশেষ ক্ষমতা, গুন, ও পরিচয়কে নির্দেশ করে।

যেমন পঞ্চ চক্রটি, এর নাম বিশুদ্ধ চক্র। এই চক্রটির অবস্থান কন্ঠের পিছনের দিকে। বা কপাল থেকে তিন ইঞ্চি পিছনে মেরুদণ্ডের সামনের তল দেশে কুন্ডোলিনী চক্রের শক্তি চক্র গুলির অবস্থান। কন্ঠের পিছনে মেরুদণ্ডের তলে বিশুদ্ধ চক্রের অবস্থান। এর রং গাঢ় নীল। যাদের এই চক্রটি শক্তিশালী থাকে, তারা গাঢ় নীল রং পছন্দ করে। গায়ে নীল রং মেখে রাখে, এমনকি শরীরে নীল বস্ত্র পর্যন্ত পরিধান করে। বহু মানুষ নীল রং পছন্দ করেন, তা অবশ্যই বিশুদ্ধ চক্রের শক্তি মত্তার জন্য। তবে তাদের অধিকাংশই এ বিষয়ে অজ্ঞ।

বিশুদ্ধ চক্র সাধারণ ভাবে কন্ঠ সমন্ধীয় যে বিষয় গুলি থাকে তার উপর প্রভাব বিস্তার করে। যেমন সর্দি, কাশি, গলা ব্যাথা, বা সঙ্গীত প্রভৃতি। তবে আরো কতকগুলি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে নির্দেশ করে, তার মধ্যে দৈব্য শক্তি অন্যতম। যদিও সেই গুলো পেতে বিশুদ্ধ চক্রে সাধনা করা অত্যন্ত জরুরি। যার বিশুদ্ধ চক্রের সিদ্ধি হয়েছে, তার কন্ঠের গুন ও শক্তি অপরিসীম। তার কন্ঠ থেকে নির্গত ভাষায় সম্মোহনী শক্তি থাকে। অর্থাৎ তার কথা শুনলে মানুষ আকৃষ্ট হয়।

এছাড়া সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিশুদ্ধ চক্রের সিদ্ধিতে যে দৈব শক্তি লাভ হয় তা হলো বাকসিদ্ধি। অর্থাৎ যার বলা কথা কখনো খন্ডিত হয় না, বা খন্ডন করা যায় না।

এই উপরোক্ত দেব দেবীরা সকলেই বাকসিদ্ধ সৃষ্টিগত ভাবে। যদি এরা বাকসিদ্ধ না হতো তবে এদের উপাসনাতে কোন ফল লাভ হতো না। অর্থাৎ যে কালী বা শিবের সাধনা করবে সে বর পেলেও তা কার্যকারি হতো না।

#পরমব্রহ্মঅবতার #পরমাত্মা #শিব #আত্মা #কালী #বিষ্ণু #কৃষ্ণ #রামচন্দ্র #নীলদেবতা #নীলদেবী #কুন্ডোলিনীচক্র #বিশুদ্ধচক্র

ব্লগটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন আর আমাদের ব্লগ সাইট ফলো বা অনুসরণ করুন। যাতে পরবর্তী সময়ে অন্যান্য ব্লগ আপনি পড়তে পারেন।


এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।



Discover more from Adhyatmik

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply