সর্ষের মধ্যে ভুত

সর্ষের মধ্যে ভুত এই বহুল প্রচলিত বাংলা প্রবাদ বাক্যটি আমরা অনেকেই জানি। হঠাৎ সর্ষ কেন প্রবাদ হলো? সর্ষ হলো এক প্রকার তৈল বীজ, অর্থাৎ যার থেকে ভোজ্য তেল তৈরী হয়। যদিও বাংলাদেশের মানুষ সর্ষ তেল গায়ে মাখেন, মুখে মাখেন, নাকে দেন, কানে দেন, পায়ে দেন। সর্ষের ঝাঁঝ খুব বেশী, ফলে এর প্রোকপে নাক চোখ জ্বালা করে।

সর্ষ মোটামুটি সমস্ত রান্না ঘরে থাকেই, তবে শোয়ার ঘরে বা শয়ন কক্ষে রাখা উচিত নয়। কারন, পরিবারের মৃত ব্যক্তির আত্মারা কিন্তু তা একদম সহ্য করতে পারে না। রাখলে মাটিতে ফেলে দেবে। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। মৃত ব্যক্তির আত্মা যারা যেখানে মারা যান বা পরলোক গমন করেন তারা সেখানেই থাকে যতক্ষণ না পর্যন্ত পুনর্জন্ম হচ্ছে। এটা মনে রাখতে হবে যে শ্রাদ্ধ্য প্রক্রিয়া মানুষের সন্তুষ্টি, ভুতের নয়। সর্ষ কিন্তু ভুত ভালো চোখে দেখে না।



এই ঝাঁঝের কারনেই সম্ভবত সর্ষের এতো কদর। তবে এর মধ্যে অনেক উপকারী সামগ্রি রয়েছে যা মানুষের শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। যদিও মানুষের দেহে রোগ মুক্ত করতে বা রোগের প্রকোপ কমাতে গ্রহ শান্তিতে সর্ষের প্রোয়োগ আছে তন্ত্র শাস্ত্রে। যা প্রাচীন কালে ব্যবহৃত হতো।

কিছু সর্ষ নিয়ে “ওঁ ওঁ হ্রীঁ হ্রীঁ হ্রঃ হ্রঃ ফট্ স্বাহা” মন্ত্র প্রোয়োগে রোগীর গায়ে বা মাথায় নিক্ষেপ করলে গ্রহ শান্তি ঘটে। ফলে রোগের প্রকোপ কমে যায়। এটি একটি তান্ত্রিক প্রক্রিয়া।

মানুষের শরীরের সমস্ত রোগ উপসর্গ স্নায়ু তন্ত্র দ্বারা প্রভাবিত। আমি নিজে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মূমূর্ষ রোগীর উপর সর্ষের প্রোয়োগ করে দেখেছি। সেখানে রোগের প্রকোপ কম হয়েছে এবং নিরাময় ঘটেছে। কিন্তু কি কারণে এই নিরাময় ঘটে তা কি ইন্দ্রজাল না বিজ্ঞান? আজ সেই উত্তর খোঁজা যাক।

সর্ষের বীজে প্রচুর পরিমাণে সেলেনিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম আছে। সর্ষেতে ভিটামিন এ, সি কে আছে ৷ সর্ষ শরীরে প্রচুর পরমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট প্রস্তুত করে। শরীরে ক্যান্সারের কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রণ করে সর্ষে ৷ শরীরে রক্তপ্রবাহ ঠিক রেখে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমায়। এতে আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, তামা-সহ একাধিক উপকারী খনিজ আছে।

আমাদের শরীরে যে স্নায়ু কোষ বা নিউরন আছে তার উপর সর্ষের বেশ শক্তিশালী প্রভাব আছে। যেমন নিউরনে সেলেনিয়াম, ভিটামিন এ, আয়রন, প্রভৃতির বিশেষ ভাবে প্রয়োজন যা সর্ষেতে থাকে যথেষ্ঠ পরিমাণে। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এক প্রকার ভিটামিন যা শরীরের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

মানব শরীরের সুস্থতা নিয়ন্ত্রণ করে কুন্ডোলিনী চক্র। স্নায়ু গ্রন্থি দ্বারা সংযুক্ত সাতটি শক্তি চক্রের অবস্থান সূক্ষ্ম শরীরে। কিন্তু ঐ সাত চক্রের সাতটি রং সূর্যের আলোর সাত রং যা মানুষের শরীরের চারপাশে একটা আভার চাদর বানিয়ে রাখে।

বিভিন্ন গ্রহ, নক্ষত্র এবং সময়ের পরিবর্তনে এই আভা চক্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যা সরাসরি শরীরের শক্তি চক্রের উপর প্রভাব বিস্তার করে। এবং মানব শরীরে রোগ উপসর্গ দেখা দেয়।

সর্ষের মধ্যে সেলেনিয়াম একটি বিশেষ অধাতু খনিজ যার থেকে সৌর কোষ বা সোলার সেল তৈরী হয়। ফলে এই খনিজ মানুষের নিউরনকে চার্য বা উজ্জীবিত করে একথা বলাই যায়। বা বলা যায় সৌর শক্তি আহরণ করে।

কিন্তু সেলেনিয়ামের আরো একটি বিশেষ গুন আছে যেটি কাঁচে ব্যবহৃত বা বলা যেতে পারে ক্যামেরার লেন্স তৈরীতে ব্যবহৃত হয়।

সূর্য মানব জীবনে শুধু নয় বরং সারা পৃথিবী সূর্যের উপর নির্ভরশীল। আলো কে পজিটিভ বা ধনাত্মক শক্তি হিসেবে ধরা হয়। সমস্ত মানুষ অল্প বিস্তর সূর্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়। সূর্যের আলো মানুষের আভা চক্রকে মেরামত করতে পারে।

সর্ষের সাথে আলোর সংযোগে সেলেনিয়াম অনেকটা লেন্সের মতো কাজ করে এবং প্রয়োজনীয় আলোক রশ্মিকে মাথা থেকে চক্রাকারে আভা চক্রের ক্ষতি গ্রস্ত অংশ মেরামত করে। এই জন্য যদি কোন অসুস্থ ব্যাক্তি সর্ষ মাথায় নিয়ে সূর্যের আলোর কাছে উপস্থিত হন তবে তার শরীরে রোগ উপসর্গ কম পরিলক্ষিত হবে। এমনকি রোগী নিজেও সেটা বুঝতে পারবেন।

অসুস্থ ব্যক্তির কুন্ডোলিনী চক্র কাজ করে না বলেই সে অসুস্থা হয়। এখানে যে মন্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে এগুলো বিভিন্ন বীজ। আর সকল বীজ গুলি মিলে এটি একটি ক্লিবলিঙ্গ মন্ত্র। এই বীজ ব্যবহার করে ঐশ্বরিক তরঙ্গ ব্যবহার করা যায়। এতে শুধু গ্রহ দোষ কাটে না বরং ঐ তরঙ্গ সূক্ষ্ম শরীরের অবস্থিত কুন্ডোলিনী চক্রকে সংস্কার করে নিউরনে মাধ্যমে স্নায়ু তন্ত্রের পথে। চক্র গুলি পুনরায় কাজ শুরু করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ফিরে আসে।

তবে সর্ষ দানা গুলো রোগীর চুলের বা কেশের তলায় রাখতে হবে। এবং যতোদীন রোগ নিরাময় না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত রাখতে হবে। আর এই বীজ মন্ত্রটি চারবার সঠিক উচ্চারণে বলতে হবে। তখন কালো রং এর সর্ষ দানা গুলি হাতের তালুতে মুঠো বন্ধ করে রাখতে হবে।

প্রবন্ধটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন আর আমাদের ব্লগটি অনুসরণ করুন।


এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।



Discover more from Adhyatmik

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply