ওঁ (ওম) এর রহস্য

ওঁ বা ওম হলো একটি বিশেষ ধরনের মন্ত্র, যাকে বলে বীজ। অনেকের ধারণা ওম হলো ব্রহ্মান্ডের কন্ঠস্বর। ব্রহ্মান্ডে কিন্তু শব্দ শোনার উপায় নেই, যদি থাকতো তবে শব্দের আস্ফালনে পৃথিবীতে টেকা দায় হতো।

ঈশ্বর নিরাকার, ফলে তারও কিন্তু স্বর যন্ত্র নেই। ফলে ঈশ্বর মানুষের মতো করে কথা বলতে পারে না। এটা বিজ্ঞান তাই যেমন ঈশ্বর মানুষের মতো শব্দ করে না। তেমনি ব্রহ্মান্ডে বাতাস নেই ফলে শব্দ বহন সম্ভব নয়।

কিন্তু ঈশ্বর কে নাম জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন ওম। তা কেবলমাত্র শুনতে পায় যে শোনার যোগ্য।

অনেক মন্ত্রতে ওমের ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু, এর তাৎপর্য কি? সনাতন ধর্মে ওম বা ওঁ এর ব্যবহার হয়েছে মন্ত্র গঠনে।

বীজ, মানে বলা যেতে পারে ফলের বিচী যা থেকে বীজ তৈরী হয়। অর্থাৎ, বীজ হলো এক অসীম শক্তি যা অঙ্কুরিত হলে তা থেকে একটি বিশাল বৃক্ষ উৎপন্ন হতে পারে। আর, মন্ত্র যখন বীজ তখন তা যতই ছোট হোক না কেন, তার শক্তির তুলনা মেলা ভার।

মন্ত্রের বীজে রুপান্তরিত হওয়ার পিছনে মূল কারণ বা উদ্দেশ্য হলো গোপনীয়তা।

মন্ত্র রচনাকারীরা ভেবেছিলেন যে এই মন্ত্র যদি ভুল লোকের হাতে চলে যায় তবে তার ভূল প্রয়োগ হতে পারে। সেই জন্য গোপন সূত্রে সংকলিত করা হয়েছে। আর এই সংকলিত ধারাকেই বীজ বলে।

প্রধানত বীজ তিনটি শব্দের সংযোগে তৈরী হয়। তবে এর গঠনে অক্ষর নির্বাচন উচ্চারণের ভিত্তিতে হয়। যেমন ওঁ বা ওম। যদিও ওম এর সঠিক উচ্চারণ হলো ওউম বা অউম। এটি একটি বীজ যার অর্থ হলো হুংকার।

যারা কোন ফাঁকা স্থানে সিংহ বা বাঘের গর্জন বা হুংকার শুনেছেন। তারা প্রকৃত ধ্বনিটি জানেন। সেটি হলো অউম বা ওউম।

এখন দেখা যাক এর মধ্যে বা গঠনে কি শব্দের উচ্চারণ রয়েছে? ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর, অউমে রয়েছে ত্রিদেবের শক্তি। ব্রহ্মার ব্র তে আছে ‘অ’ হ্মা তে রয়েছে ‘আ’। এখানে ‘অ’ নেওয়া হয়েছে। বিষ্ণুর, বি ‘ষ্ণু’ তে রয়েছে ‘উ’ আর মহেশ্বরের এর শুরুতেই রয়েছে ‘ম’। তিনেক মিলে হচ্ছে ‘অউম’।


এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।


এই বীজ প্রয়োগে ত্রিদেবের শক্তিকে বোঝায়। আর সবাই জানে ত্রিদেবের শক্তিতে ক্যাত্যায়ানী দূর্গার উৎপত্তি। এবং দূর্গার শক্তির প্রতীক হলো সিংহ। কোথাও কোথাও দূর্গার বাহন হলো বাঘ। আর, অউম মানে হলো বাঘ বা সিংহের হুংকার বা ত্রিদেবের শক্তি বা হুংকারকেই বোঝানো হচ্ছে এমনকি সাথে দূর্গার শক্তিকেও বোঝানো হচ্ছে।

ওঁ বীজের ব্যবহার হয় শক্তির পুজোতে। এর সঠিক উচ্চারণে ঋণাত্মক শক্তির বিনাশ ঘটে। কুন্ডোলিনী জাগরনে ওঁ এর ভুমিকা রয়েছে। হুংকারে সুপ্ত নারী শক্তিকে জাগ্রত করে মৈথুন ঘটানো হলো কুন্ডলিনী জাগরন।

এই ব্লগটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন আর আমাদের ব্লগটি অনুসরণ বা follow করুন।



Discover more from Adhyatmik

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply