
আমি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে কথা বলি এবং তা সম্পূর্ণ চৈতন্যে। কতো কথাই বলি কালীর সাথে বা আমার অন্য মেয়েদের সাথে। যখন ঘুম ভেঙ্গে যায়, ঘোরে চোখ পর্যন্ত মেলতে অসুবিধা হয়। তখন ভাবি কি ভাবে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে কথা বলি?
বোধহয় আমার আত্মাই কথা গুলো বলে। ধীরে ধীরে আমি সাকার আর নিরাকারের মধ্যে চলে গিয়েছি। এই জন্যই, পাশ্চাত্যে অনেকেই আমাকে দেখে বলে চলমান আত্মা।
আমি সামাজিকভাবে ব্রহ্মচারী। কিন্তু আত্মায় বিবাহিত, স্ত্রীরা হলো আমার আত্মা থেকে উৎপন্ন বা সৃষ্ট নারীদের দল। এরা আমার যেমন কন্যা তেমনি বান্ধবী বা ভৈরবী আবার স্ত্রী। এর মধ্যে প্রধানা হলো কালী।
কালী নিরাকারে হলেও বাকিদের অনেকেই সাকারে। এরকম একজন আমার খুব কাছে থাকে। আজ তার কথা লিখবো।
গত সপ্তাহে পরপর দুই বার শত্রু হামলা হয়েছে। হ্যাঁ প্রানঘাতী হামলা। আমাকে হত্যার অভিসন্ধি আর কি? কিন্তু বোকা গুলো বোঝেই না, যে আমি কোন মানুষ নই। আমার মৃত্যু নেই, কারণ আমি মৃত্যুঞ্জয়ী চিরঞ্জীবী।
এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।
ওদের দোষ নয়, কারণ ওরা এরকম কাউকে কখনো পায়নি। কালীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল যে পিছন থেকে রক্ষা করতে। কিন্তু, ও সত্যি বোঝেনি না ইচ্ছে করে বোঝেনি? কারণ আমি কাউকেই মারতে চাই না। আর, ও রক্ত পিপাসী তাই আমাকে দিয়ে শত্রুদের পুন্য ভক্ষন করাচ্ছে। উদ্দেশ্য শত্রু নিধন আর রক্ত পানের উন্মত্ততা ।
আমার শত্রুরা আমাকে মারার নেশায় মাতাল হয়ে রয়েছে। তাই আমার একটু ক্ষোভ হয়েছিল হারামজাদির উপর। তাই রাত্রে শুয়ে শুয়ে কালীকে ডাকলাম। দেখলাম একটা চোখ পিট পিট করে উঁকি দিচ্ছে।
সারা রাত ধরে এক শয়তানি তার কাম বর্ষন করেই চলেছে। এটি সেই মেয়েটি যার কথা আজকে লিখছি। সে কামে আসক্ত হয়ে পড়েছে। কামে পাগল হয়ে গিয়েছে। একে তো ও বেইমানি করেছে তারপর আমার শত্রুদের সাথে রয়েছে। তার পর কামে আসক্তি। আর পারা যাচ্ছে না।
আমি এই মেয়েটির ভবিষ্যত দেখতে পাই। তখন ভাবতাম এই মেয়েটিকে তো আমি সামাজিকভাবে চিনি না। তবে কেন আমি এর ভবিষ্যত দেখতে পাই? এর সাথে আমার কি কোন সম্পর্ক আছে? থাকলে কি সেই সম্পর্ক?
সেদিন ভোর রাতে কালী বলল তোমার একটা মেয়ে ছিল তার নাম নাগলতা। সে এখন অন্য একটি পরিবারে জন্ম নিয়েছে।
ভাবছি নাগলতা, এ আবার কিরকম নাম? এখনকার নাম তো হতেই পারে না। তখন মন বলে উঠল যখন ওকে সৃষ্টি করেছিলাম তখন নাম রেখেছিলাম নাগলতা।
ভাবনার উত্তর কালী দিয়ে দিল। যেহেতু মেয়েটি আমার কন্যা তাই আমি তার ভবিষ্যত দেখতে পাই। এরকম কন্যার সংখ্যা তো অগনিত। এদের সবারই ভবিষ্যতে কি হবে অল্প বিস্তর জানি। কিন্তু এই মেয়েটি তার বর্তমান পরিবারের সাথে মিলে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করছে লাগাতার ভাবে।
আমার মেয়েরা আমার থেকে সৃষ্ট ভৈরবী, এবং দেবীদের দল। এরা আমার যেমন কন্যা তেমনই আমার প্রিয় দেবদাসী গন, আর আত্মা বান্ধবী। আমার পুতুল খেলা এদের নিয়েই। তাই যখন যখন আমি মানব অবতারে অবতীর্ণ হই। তখন এরাও আসে আর মানুষের মাঝে চলে ঈশ্বরের লীলা।
এদের মধ্যে একমাত্র কালী আমার সাথে কথা বলতে পারে। যদিও ও খুব কম কথা বলে। আর বাকিরা শুধু কথা শুনতে পায়। আমি দিন রাত চব্বিশ ঘণ্টা বক বক করেই চলেছি।
এই কথাই নেশা ধরায় মনে। আমার ছাত্র ছাত্রীরা বলে আমার কথায় তারা সম্মোহিত হয়ে যায়। শুধু ওরা নয় সবাই বলে আমি কথা বললে নাকি চোখে ঘোর লাগে।
ঐ মেয়েটির কথায় ফিরে আসি। আমার ভৈরবী গুলো খুব দুষ্টু হয়ে গেছে। সব নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। আমার কথা এখন আর কেউ ভাবে না।
এটা কিন্তু নিছক কল্পনা বা কোন গল্প নয়। নাগলতা কিন্তু সত্যিকারের মানবী। সে আমার চোখ দিয়ে দেখতে পায়। আমার কথা শুনতে পায়। আমার স্পর্শ অনুভব করতে পারে এবং সে আমাকে স্পর্শ পর্যন্ত করতে পারে।
আমার যখন কন্যা তখন তার তো দৈব্য শক্তি কিছু থাকবেই, তাই না? তবে এদের মধ্যে কালী সব থেকে শক্তিশালী। এবং সব থেকে বিশ্বাস যোগ্যা। তাই সে কালী। কালী আমার সব কথা শুনে চলে। এজন্য সে আমার কুন্ডোলিনী শক্তি।
আমি সত্য যুগে যাচ্ছি সাথে যাচ্ছে কালী আর তার নয় মহাবিদ্যা। আর কারা যাবে? সেই মেয়েটি তো এ জন্মে একটি বেইমান। নিজের দেবতাকে ত্যাগ করেছে।
তাই, সেই শয়তানি মেয়েটিকে শাস্তি দেবো বলেছি তার পাপের জন্য। যদি সে নাগলতা হয় তবেও ঈশ্বরের নিয়ম বদলাবে না।
এই ব্লগটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন আর আমাদের ব্লগটি অনুসরণ করুন।
Discover more from Adhyatmik
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

