কালী পান করে আমার রক্ত

কালীর বিভিন্ন রুপ সাধকেরা দেখে তার বিভিন্ন রুপ তৈরি করেছেন। এভাবে ছিন্ন মস্তার বর্ননা পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু আমি যে ছিন্ন মস্ত আর কালী পান করে আমার রক্ত। এ ব্যাপারটা কখনো ভেবে দেখিনি।

সাধনা হয় সূক্ষ্ম অনুভূতিতে এমনকি ঈশ্বরের দর্শনও।

একবার খুব বিপদ, তখন কি ভাবে উদ্ধার পাবো বুঝতে পারছি না। বাড়িতে অশান্তি, সবাই গাল দিচ্ছে। ধ্যান করে উদ্বেগ থেকে নিষ্কৃতির চেষ্টা করছিলাম।

তখনও জানতাম না কালী আমার দেহের অন্তরে কেন প্রবেশ করেছে? বা, কালীর সাথে আমার ঠিক কি সম্পর্ক? আজ যে ঘটনা বলতে চলেছি তা শুধু অদ্ভুত নয় অলৌকিক। আগে অনেক সাধক কালীর দেখা পাওয়ার জন্য শিরচ্ছেদ করতে উদ্যত হয়েছে শুনেছি। প্রায় অনুরুপ একটি অভিজ্ঞতা যে আমার হতে চলেছে কোনদিন ভাবিনি।

প্রায় অনুরূপ শব্দের ব্যবহার কেন? কারণ এই ঘটনা কালীর অনুরোধে করতে হয়েছে। আমাকে আজ পর্যন্ত কালীর দর্শন পেতে পীড়াপীড়ী বা আকুতি করতে হয়নি। সে যেচে আসে বারে বারে, নিজের থেকে আসে এবং যখন খুশি। বলা যেতে পারে কালীর দৌলতে আমাকে দশমহাবিদ্যার কথা জানতে হয়েছে। বিভিন্ন রুপে আসে, তখন পড়ে দেখতে হতো ঐ রুপটি কোন মহাবিদ্যার?



কিন্তু কালী তো আমার আরাধ্য দেবী নয়। আমি নিজেকে ছাড়া কাউকেই পুজো করি না। আমার আরাধ্য আমি নিজেই। আর, কালী যখন থেকে আমার মধ্যে প্রবেশ করেছে। তবে থেকে আমায় জালিয়ে মেরেছে। নখ দিয়ে ঘাড়ে পিঠে এবং পায়ের পিছনে রক্ত বের করা ছিল নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার। বা, ঘরের মধ্যে সুন্দর মিষ্টি সুবাস ছড়িয়ে দেওয়া। বা একলা রাতে নুপুরের ধ্বনি তো ছিলই।

এখন বুঝতে পারি যে ঐ সব সমস্যা ছিল সাধনার অঙ্গ। সমস্যা না হলে কেউ কি দিশা খোঁজে? যখন আমি সমস্যা থেকে বের হওয়ার রাস্তা খুঁজছি তখন হঠাৎ একদিন ও (কালী) সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। বলল তোমার রক্ত দাও আমাকে। কিছু বোঝার আগেই দেখলাম আমার ডান হাতে একটা খড়গ। আর আমার বাম হাত আমার নিজের মাথার চুল মুঠো করে ধরেছে।

কিছু বুঝে ওঠার আগেই ডান হাত খড়গ চালিয়ে আমার মাথাটা কেটে ফেললাম আমি নিজেই। কাটা গলা থেকে রক্ত ফিনকি দিয়ে বের হয়ে এলো। আর কালী জিহ্বা লকলক করে আমার রক্ত পান করতে লাগল। আর আমার কাটা মাথাটা হা হা করে হাসতে হাসতে ওর বুকের মধ্যে মিলিয়ে গেল।


এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।


আর, তখনই আমার হাসির শব্দ নিনাদে পরিনত হলো। এবং, আমার গলা থেকে একটা মাথা বের হয়ে এলো। আমি বললাম মাগী, তুই আমার রক্ত চাস? বলে আবার আমার নুতন মাথাটা কেটে ফেললাম। আবার, ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হয়ে ফোয়ারার মতো করে কালীর জিহ্বাতে পড়তে লাগলো। শুনতে পেলাম আমি বলছি নে খা কতো খাবি খা।

এভাবে বেশ কয়েক বার ও আমার রক্ত পান করলো। আর তারপর ও আবার আমার শরীরের মধ্যে প্রবেশ করল। আর এরপর জীবনের যে সমস্যার জন্য ভীষণ উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল সেই সমস্যা মাটির নীচে চাপা পড়ে গেল। আর যারা সমস্যা সৃষ্টি করছিল তাদের আর দেখতে পাইনি। বোধহয় পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে গেছে। সাধনাতে শত্রুর উপস্থিতি থাকতেই হবে না হলে তা সাধনা নয়। আর সিদ্ধি মানে যেমন জ্ঞান লাভ তেমনি শত্রুর বিনাশ বা নিধন।

এটা অনেকটা পরীক্ষায় পাশ করার মতো। অনেক সময় শত্রুর উপস্থিতি বিচলিত করে। কিন্তু, কালী বলেছে ধৈর্য ধরতে। আগে হলে এসবে পাত্তা দিতাম না। কিন্তু কালী আমার প্রতি ওর আনুগত্যের প্রমাণ দিয়েছে। যখন অত্যাচার অসহনিয় হয়ে যায় তখন কালীকে চরম গালাগালি দিতে কুন্ঠা বোধ করি না। কিন্তু ওর কোন বিকার নেই।

শুধু একবার ওকে আমার আত্মায় বিলীন করে দেওয়ার হুমকিতে ওর খুব অভিমান হয়েছিল। সেদিন ও দুপুরে খাবার খায়নি।

তখন আস্তে আস্তে বুঝতে পারছি যে কালী আমার সাধন সঙ্গী। আর, এটা বুঝতে বাকি রইল না যে কালীর মুন্ড মালার মুন্ডগুলো আমারই মুন্ড। তবে কি ৫১ মুন্ডর জন্য ৫১ টি সিদ্ধি?

আগে ধারণা ছিল যে ঐ মুন্ড মালা অসুরের মুন্ড নিয়ে তৈরী। কিন্তু, ধারণাটি যে ভূল সেটা পরিষ্কার হয়ে গেল। এখন এক অদ্ভুত ব্যাপার হয়। যখন কোন নতুন সাধনা শুরু হয় তখন সেখানে নতুন নতুন শত্রুরা এসে ভিড় করে। আর তখনই আমি সেই শত্রুদের করোটি দিয়ে গাঁথা মালা দেখতে পাই আমার গলায়। এরকম এক একটি অলৌকিক ঘটনা ঘটে আর তারপর আমার শক্তির ও জ্ঞানের নতুন নতুন দরজা খুলে যায়।

সেই সময়ের একটি সত্য ঘটনা বলি শুনুন। আমার একটি সংস্থাতে কিছু ঋণ হয়েছিল। শত্রুরা ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছে। হাতে কোন পয়সা নেই। পেমেন্টর চেক বাউন্স করে গেল। আমি কিছু দিন সময় চাইলাম। শত্রুরা সংস্থার সাথে ষড়যন্ত্র করে ফৌজদারি মামলা রুজু করল। কোর্টে হাজির না হলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হবে। তখন আমি ভীষণ অর্থ সংকটে। কোন রকমে এক আত্মীয়ের সহযোগিতায় একজন উকিল ঠিক করা হলো। মামলা শুরু হওয়ার পরের ঘটনাটা সম্পূর্ন অলৌকিক।

যারা আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল। তারা দূরের কথা তাদের উকিলও মামলার দিন গুলোতে হাজির হতে পারল না। আমার উকিল বলেছিল টাকার জোগাড় করতে, কারন উনি চেষ্টা করবেন শত্রুদের সাথে সেটেলমেন্ট করার। উত্তরে আমি জানিয়েছিলাম যে টাকা নেই। তখন উনি বলেছিলেন যে তবে শাস্তি আটকানো যাবে না।

আমি বলেছিলাম এই পৃথিবীতে আমাকে শাস্তি দেওয়ার কোন লোক নেই। এবং মামলা বেকসুর খালাস হয়ে গেল। এমনকি সংস্থাটির ব্যবসা বন্ধ হয়ে উঠে গেল। আমাকে আমার উকিল একটা অদ্ভূত কথা বলেছিলেন। এই মামলা যে বিচারকের এজলাসে হয়েছিল, তিনি বলেছিলেন যে তার কর্ম জীবনে তিনি এরকম কোন মামলা দেখেন নাই। যেখানে বাদী পক্ষ মামলা করেও কোর্টে অনুপস্থিত। এমনকি তিনি এরকমও সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন যে আমি বোধহয় খুব শক্তিশালী কেউ? উত্তরে আমার উকিল জানিয়েছিলেন যে আমার টাকাই নেই তবে কি অর্থে শক্তিশালী?

আমি বার বার বলি আমার সাথে যুদ্ধ নয় কিন্তু কেউ মানতে চায় না। যারা আমার সাথে যুদ্ধ করে তাদের পুন্য আমি ভক্ষন করি। এবং কলি যুগে শাস্তি হয় কর্মফলে। পুন্য ভক্ষন এর ফলে শুধু পাপ পড়ে থাকে। এবং তখন কালী তাদের সংহার করে এবং তাদের রক্ত আমাকে উৎসর্গ করে।

এর প্রস্তুতি পর্বে কালী আমাকে রক্তের গন্ধ শোঁকায়। আর যখন শত্রু বধের সময় এসে হাজির হয় তখন দেখতে পাই তাদের করোটির মালা আমার গলায়।

এবং তাদের সমস্ত সম্পদ ধ্বংস হয় নচেৎ আমার হয়ে যায়। এর জন্যে আমাকে কিছুই করতে হয় না। হাত, পা, মুখ কিছুই নাড়াতে হয় না। সবটাই অলৌকিক ভাবে হয়। এভাবে কতো শত্রু যে হাওয়া হয়ে গেল, কে জানে?

এখানে ব্যবহৃত ছবিটি ছিন্ন মস্তার। আমার ছিন্ন মস্ত ছবি এখনো কেউ এঁকে ওঠেনি।

এই ব্লগটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন আর আমাদের ব্লগটি অনুসরণ করুন ঈশ্বরের রহস্য জানতে।


Discover more from Adhyatmik

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply