স্বজ্ঞা এমন এক অলৌকিক শক্তি যা ঋনাত্মক তরঙ্গকে এবং তার উৎস চিনিয়ে দেয়।

স্বজ্ঞা হলো আধ্যাত্মিকতার উন্মেষের অন্যতম চাবিকাঠি। এটা না থাকলে সাধনাই হয় না। যদি সাধক ঋণাত্মক তরঙ্গ এবং তার উৎস সম্পর্কে অবগত না হতে পারেন তবে সাধনাই হবে না।

সাধনা এক প্রকার জীবন শৈলী যার মাধ্যমে আমরা নিজেদেরকে সম্পূর্ণ করে তুলি। তার জন্য একটি নির্দিষ্ট পথ আছে। কিন্তু কে বলে দেবে কি সেই পথ? কোথায় রয়েছে বাধা এবং বিপদ?

মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি হলো, যখন সে সমস্যা বা বিপদ গ্রস্ত হয়। তখন সে সমস্যা ও বিপদের মধ্যে পথের খোঁজ করে বা সমাধান সূত্রের খোঁজ করে। আর সেই খোঁজ হলো সাধন। পথে চলতে চলতে মেলে পাথেয় অর্থাৎ অলৌকিক শক্তি।



যদিও তার প্রয়োগ সাধনার পথেই করা হয়। স্বজ্ঞা হলো সেরকম একটা শক্তি। যা বলে দেয় পথের দিশা। জানিয়ে দেয় ঋণাত্মক তরঙ্গ ও তার উৎসের উপস্থিতি।

সাধনার পথে ঋণাত্মক শক্তির আগমন ঘটবেই ঘটবে। তারা সাধককে বিপথ গামী করতে চেষ্টা করবে। আর সচেষ্ট হবে সাধনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে। আর ষড়ঙ্গী সাধনাতে এই ঋনাত্মক শক্তি কিন্তু অচেনা কেউ নয় বরং নিজের আত্মার অংশ বা আত্মা বান্ধবী যে মানব শরীরে অবতীর্ণ হয়েছে।

যখন এই ঋনাত্মক আত্মা শক্তি কাছে আসে তার সূত্র মূলাধার চক্রে নিহীত থাকে। অর্থাৎ এক পুরুষের আত্মা থেকে যত আত্মা সৃষ্টি হয়, সেই সব আত্মার সূত্র তার অবতারের মুলাধারে আটকে থাকে। এদের মধ্যে যে ঋনাত্মক আত্মা, সে শক্তি প্রয়োগে সাধনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এবং চেষ্টা করে সাধকের ক্ষতি সাধন করতে। সাধকের যেমন ঋনাত্মক আত্মা বান্ধবী থাকে, তেমনি অগনিত ধনাত্মক আত্মা বান্ধবীও থাকে।


এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।


স্বজ্ঞা প্রতি মুহূর্তে জানিয়ে দেয় ঐ ঋণাত্মক শক্তির আস্ফালন। কিন্তু কর্মের ঋণের কারনে সাধক এর থেকে মুক্তি পেতে পারে না। যতক্ষণ না পর্যন্ত তার ধনাত্মক আত্মা শক্তি তথা ধনাত্মক আত্মা বান্ধবী বা বান্ধবীরা তাকে সহায়তা করছে। এবং সাধক প্রতিনিয়ত সেই ঋণাত্মক আত্মাকে ধনাত্মক সত্ত্বায় বদলানোর চেষ্টা করে। কিন্তু যদি সে সেই পথ গ্রহণ না করে তবে তার বিনাশ বা বধ ছাড়া দ্বিতীয় কোন উপায় থাকে না। এবং ধনাত্মক আত্মা শক্তির সহযোগিতায় যখন ঋণ মুক্তি ঘটে তখন মুলাধার চক্র থেকে ঋনাত্মক আত্মার সূত্র বিচ্যুত বা পৃথক হয়ে যায়।

এটা অনেকটা নাড়ী ছেড়ার মতো ঘটনা। এর ফলে সাধকের মূলাধারে বেদনা বা ব্যাথা অনুভুত হয়। এটা হওয়ার পর ঐ ঋণাত্মক আত্মার দ্বারা যে মানব জীবন চলমান রয়েছে তার নিধন অনিবার্য হয়ে পড়ে। অর্থাৎ, একবার নাড়ী ছিন্ন হলে মৃত্যু ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ নেই।

স্বজ্ঞা কি? স্বজ্ঞা বলতে অনেকটা সহজাত প্রবনতা বা প্রবণতাকেই বোঝানো হয়। যদিও সম্পূর্ন ভাবে স্বজ্ঞা কিন্তু প্রবণতা বা সহজাত প্রবনতা নয়। এর মানে অনেক গভীর যা এক অন্তর্বর্তী প্রবনতার ভাবনা বা সহকারী যা এক আধ্যাত্মিক ব্যক্তিকে স্বচ্ছন্দ ও নিরাপদ করে তোলে তার উন্মেষের পথে।

সহজাত প্রবনতা ঠিক কি? এটা একটা অন্তরের ভাবনা অনেকটা কম্পিউটার প্রোগ্রামের মতন। প্রবনতা ব্যাপারটা সবচেয়ে ভালো পশুদের মধ্যে দেখা যায়। কি উপায়ে সদ্যোজাত পশুর শিশু মায়ের স্তন খুঁজে নেয়? এটাই সহজাত প্রবনতা। এটা না থাকলে ঐ পাশব শিশু বেঁচে থাকার রসদ পাবে না। কিন্তু কেউ তাকে বলে দেয় না কোথায় তার মায়ের স্তন রয়েছে।

মানুষের মধ্যে ঠিক এটা পরিলক্ষিত হয় না। কিন্তু মানুষের শিশুরা যখন স্তনবৃন্তের কাছে পৌঁছে যায়। তখন তারা কি উপায়ে স্তন থেকে দুগ্ধ টানে? কে তাদের বলে দেয় যে দুগ্ধ টানতে হবে? এটাই সহজাত প্রবনতা।

আবার কিছু মানুষের বিশেষত মেয়েদের এবং অল্প সংখ্যক পুরুষের মধ্যে এই সহজাত প্রবনতা দেখা যায়। সেইরকম কোন মেয়েকে ও পুরুষকে কেউ অনুসরণ করলে সে অনায়াসে বুঝতে পারে পিছনে কেউ অনুসরণ করছে।

স্বজ্ঞা ঠিক সহজাত প্রবনতা নয়। কারন এটা সাধারণত সমস্ত মানুষের মধ্যে উপলব্ধ হয় না। বরং সাধনা কালে সাধক লাভ করে তার সাধনার দ্বারা।

এই স্বজ্ঞা এতোটাই শক্তিশালী যে এর নির্ণয় কখনোই ভূল হয় না। আমি স্বজ্ঞার নির্ণয়তে কখনো ভুল পাইনি।

এখন জানা যাক স্বজ্ঞার অনুভূতির ব্যাপারে। এটা সাধককে শারীরিক অনুভূতির মাধ্যমে জানান দেয় ঋণাত্মক আত্মা শক্তির উপস্থিতি। প্রতিটি মানুষের কিছু ভালো লাগা থাকে। যেমন ধরা যাক কেউ শক্তিশালী চেহারা বানাতে চায়। বা কেউ মোটা হতে বা রোগা হতে পছন্দ করে। বা কেউ নিজেকে সুন্দর দেখতে ভালোবাসে।

যখন ঐ অনুভূতি প্রদর্শনের সময় উপস্থিত হয় তখন সাধকের শরীরে কিছু বিশেষ শারীরিক অনুভূতির সূচনা হয়। যেমন আকস্মিক সে তার ভালো লাগার উল্টো অনুভূতির শিকার হয়ে পড়ে। বা, সাময়িক শারীরিক অসুস্থতার শিকার হয়।

আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি যে আমার হাতের আঙ্গুলের আংটি আলগা হয়ে যায়, সাময়িক সময়ের জন্য। আবার, নাকে সুরসুরি লাগে এবং ঠান্ডা লাগার অনুভূতি হয় বা নাক ভিজে যায়, যদিও এর স্থিতিকাল খুব অল্প সময়ের জন্য।

এবং যখন ঐ ঋণাত্মক তরঙ্গ বা আত্মার উপস্থিতি সম্পর্কে অবগত হয়ে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া যায়। ঠিক তখনই এই অনুভূতি বদলে যায়।

আধ্যাত্মিক জগতে যেমন সোজা পথ আছে তেমনি বাঁকা পথ কম নেই। গন্তব্য যখন আগে থেকেই স্থির করা আছে তখন দূর্গম পথে যেতে বাঁধা কোথায়? আর সাথে যেমন অলৌকিক শক্তি থাকে তেমনি স্বজ্ঞাও থেকে থাকে। যা, চলার পথকে সহজ করে দেয়। আর তাতে প্রাপ্তিও কম মেলে না।

ভালো লাগলে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন আর আমাদের ব্লগটি অনুসরণ করুন।


Discover more from Adhyatmik

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply