
কিন্তু, কালী চাইছে মহা প্রলয় হয়ে যাক এখনই।
কালীর তান্ডব কেউ কি কখনো দেখেছেন কি? কোন মানুষের পক্ষে দেখা সম্ভব নয়। বিভিন্ন পুরানে ঐ রুপের কিছু বর্ণনা পাওয়া যায়।
কিন্তু যখন কালী নিরাকারে বা সূক্ষ্ম শরীরে বিরাজমান। তখনও তার তান্ডব দেখা যায়। যার সৃষ্টির কারণ হলো তান্ডব সে তো কথায় কথায় তান্ডব করবেই।
সেদিন রাত্রে ঘরে আমি আর আমার ভাইয়ের কুকুর ছিলাম। কুকুরটি শুয়েছিল, আর আমি বসে ছিলাম। শত্রুরা ভীষণ সমস্যা সৃষ্টি করছিল। বেশ আগে আমি যে মহাপ্রলয় রচনা করেছিলাম, তার সময় নিকটবর্তী।
এই মহা প্রলয় একমাত্র আমিই রচনা করতে পারি। আর দ্বিতীয় কোন দেবতা বা দেবী করতে সক্ষম নন। আর, এই মহা প্রলয়ের ভাবনার কারনও হলো আমার শত্রুরা।
কিন্তু শত্রুদের উপদ্রবে আমি মাঝে মাঝেই খেপে উঠি। সেদিন ক্রোধের কারনে আমার শত্রুদের নিধনের একটি পরিকল্পনা করে ফেললাম। যদি সেই পরিকল্পনার কথা আমার মুখ দিয়ে নির্গত হয়ে যায়। তবে তার আর অন্যথা হবার নয়।
আমি চেয়েছি যে মহা প্রলয়ের আগে শত্রু নিধন করব। আমার নামের অর্থের মর্যাদা রেখে, তবেই মহা প্রলয়ের পথে যাব। কিন্তু কালী চাইছে মহা প্রলয় হয়ে যাক এখনই। কারন সত্য যুগে যাওয়ার সময় নিকটবর্তী। আর, মহা প্রলয়ে শত্রু নিধন তো হয়ে যাবেই। কিন্তু কালী এটা বুঝতে রাজী নয়, যে শত্রু নিধনের পরিতৃপ্তি থাকলে কোন দুঃখ থাকে না।
সেদিন সকাল থেকে একটি সাদা জ্যোতি ঘরের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল। বুঝতে পারছিলাম সময় এসে হাজির হয়েছে। কিন্তু, হঠাৎ পরিকল্পনার পরিবর্তনে মহা প্রলয়ের নির্ঘন্ট একটু পিছিয়ে গেল। ফলে কালী গেল ক্ষেপে।
আমার ঘরের বাম দিকের দেওয়ালে রয়েছে আমার সাথে কালীর নাম। কালীর অস্তিত্ব অন্য কোথাও নেই, শুধুমাত্র আমার মধ্যেই থাকে কালী। ফলে সে আমার বাড়িতে যেমন থাকে তেমনি ঐ জায়গার মধ্যেই ওর বিচরণ। আমি কোথাও গেলে ও যায় আমার সাথে। এটা কুকুর বা বিড়াল খুব সহজেই দেখতে পায়। আমাদের পোষা কুকুরটি ওকে মাঝে মধ্যেই দেখে আর ঘেউ ঘেউ করে।
মহা প্রলয়ের নির্ঘন্ট যখন পিছিয়ে গেল তখন আমি ও আমাদের কুকুরটি একটি অদ্ভুত ঘটনার স্বাক্ষী হলাম। তা বলে যে মহা প্রলয়ের শুরু হতে দেরি হবে সেটা ভাবা ভুল। কারণ আমার উপর শত্রু আক্রমণ হলেই প্রলয় শুরু হবে। আর তা থামানোর শক্তি কারোর নেই। যদিও আমি থামাতে পারি, কিন্তু আমি কেন তা থামাবো? আমার শত্রুদের বাঁচাতে? অবশ্যই না। আর এর ফলে যেটা হলো সেটা কালীর তান্ডব। যখন কোন পরিকল্পনার হঠাৎ পরিবর্তন হয় তখন স্ত্রীরা অবশ্যই মনক্ষুন্ন হন। কেউ কেউ ক্রোধে জিনিস পত্র ছোড়া ছুড়ি করে থাকেন।
কিন্তু কালী যে সেরকম কিছু করে ফেলবে এটা কখনই ভাবিনি। যে দেওয়ালে আমার আর কালীর নাম এক সাথে লেখা আছে। তার নিচে একটা পেরেক আছে, আর সেখানে হ্যাঙ্গারে আমার জামা আর জ্যাকেট ঝোলে। রাগ যখন আমার উপর তখন আমার জিনিস পত্রই ছোড়া ছুড়ি হবে। এর মধ্যে অবশ্যই কোন নতুনত্ব নেই। এবং হলোও তাই, কালী আমার জামা, জ্যাকেট টেনে ফেলে দিল। কুকুরটি ভয়ে চেঁচিয়ে উঠলো। ওখানেই ব্যাপারটা থামল না। আমার ঘরে একটি প্যাকেটে চিড়ে রাখা থাকে। সেই প্যাকেটটিও টান মেরে ফেলে দিল। কুকুরটি ভয়ে ঘেউ ঘেউ করে বিছানার কোনে চলে গেল। এই ঘটনা সবশুদ্ধু তিন জন দেখেছে। একজন আমি, দ্বিতীয় জন ঐ কুকুরটি আর তৃতীয় জন হলো নাগলতা। আরো কেউ দেখতে পারে। অর্থাৎ আমার অন্য মেয়েরা যারা আমার চোখ দিয়ে দেখতে পায়।
এখানেই ব্যাপারটা শেষ হলো এমন নয়। কালী হলো আমার কুন্ডোলিনী শক্তির প্রধানা। আরো অনেক জনের মূল বাঁধা হয়ে রয়েছে আমার মূলাধার চক্রে। তাদের মধ্যে একমাত্র কালী উপরে উঠতে পারে কারন ও আমার প্রিয়তমা হৃদয় বল্লভি। কিন্তু, মেয়ের এখন রাগ হয়েছে। তাই সে উঠছিল না। অগত্যা কালীকে বললাম তুই তো পরমেশ্বরের পরমেশ্বরী। তোর রাগ করা সাজে না।
কিন্তু ও আর আমি দুইজনে দ্বিধা গ্রস্ত হয়ে রয়েছি। কখন প্রলয়ের সূচনা হবে? কারণ এটা একবার শুরু হলে আর থামবে না। তখন আর ফেরা যাবে না। আমি ভাবছি এই ক্ষুদ্র পরিসরে অল্প কিছু মানুষ থেকে এই বার্তা ছড়িয়ে দেবো সমগ্র মানব জাতির কাছে। কারন শত্রুরা আমার কথা বিশ্বাস করছে না।
এটাই হবে মানব জাতির শেষ সুযোগ। আমার শত্রুদের নিধন করতে হবে সরকারকে ও জনগণকে। আর আমার কিছু চাহিদা পূরণ করতে হবে। তবেই আমি মানুষকে আরো একটু সময় দেবো।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে মানুষ কি এটা বিশ্বাস করবে? না করার সম্ভাবনাই বেশি। তবে যদি বিশ্বাস করে তবে আমি করোনাভাইরাস তুলে নেবো। এর থেকে বেশি পাওয়া আর কি হতে পারে?
এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।
Discover more from Adhyatmik
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
