
আমার পরমেশ্বরী। আরে, কালীকে আমি মাঝে মধ্যে পরমেশ্বরী বলে ডাকি। অর্থাৎ, আমার বা পরমেশ্বরের স্ত্রী লিঙ্গ।
সে যাই হউক কালীর ব্যপার স্যাপার সম্পূর্ন একটি ঘরোয়া মেয়ের মতো। রাগলে জ্ঞান থাকে না, স্বামীর জিনিস পত্র ছোড়া ছুড়ি করে।
আর সময় অসময়ে কাধে চেপে ঘুরে বেড়ায়। ছুটে এসে কোলে উঠে বসে। আগেই বলেছি যে আমি কোন কালী সাধক নই বা কোনদিনই ছিলাম না। তাই দশ মহাবিদ্যা সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। কালীর বাকি বিদ্যারাও কালীর মাধ্যমে আমার শরীরের মধ্যে বসত করে। এমনকি মহামায়াকেও বা ভগবতীকে দেখেছি আমার মধ্যে থাকতে।
এদের সাথে আমার দাম্পত্য সম্পর্ক রয়েছে। অর্থাৎ, এরা শুধু আমার থেকে সৃষ্ট আত্মা বান্ধবী নয়। নিরাকারে আমার মধ্যে বা বলা যেতে পারে আমার বাম দিকে থাকে। আর দাম্পত্য সম্পর্ক ব্যপারটা আগে জানতাম না। কিন্তু সম্প্রতি কালী ও মহামায়া সেটা ঘটিয়েছে। এটা যে সাধনার কোন স্তর বলতে পারি না। তবে আগে কোন সাধকের উপলব্ধি হয়েছে কিনা জানি না। আর যদি হয়ে থাকে তবে সেই সাধক যে আমারই কোন পূর্ব জন্ম এ সত্য লুকিয়ে লাভ নেই।
তাই বিভিন্ন সময়ে এক একজন কে আসতে দেখি আমার মধ্যে। তখন ইন্টারনেট খুলে সেই সব রুপের বর্ননা জেনেছি। এখন মোটামুটি সবাইকেই চিনি। আবার অন্য কথায় চলে যাচ্ছি। এ আমার এক বিষম দোষ সব সময় অবান্তর কথায় চলে যাই।
আগে এরকমটা ছিল না। কিন্তু সিদ্ধির কারনেই এসব হচ্ছে, এটা বলাই বাহুল্য। আমি সাকার ও নিরাকারের মধ্যে বিচরণ করছি। ফলে অনেক চেতনার বিলুপ্তি ঘটেছে।
এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।
মানে চলতে চলতে কোন কিছুতে ধাক্কা লাগলে টের পাই না। রক্ত বের হয়ে এলেও ব্যাথা পাইনা। মনে হয় আমি জীবন ও মৃত্যুর চক্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছি।
ফিরে আসি মূল কাহিনীতে। কালী এখন আমার সব থেকে নিকট আত্মীয়। ওকে ছাড়া কিছুই ভাবতে পারিনা। কালী প্রলয় চাইছে। আর তার নির্ঘন্ট বদলে দেওয়ায় কালীর তান্ডব। একথা আমি আগেই লিখেছি।
ও একটি সাধারণ মেয়ের মতো রেগে ওঠে। ওর ও একটি সাধারণ মেয়ের মতো অভিমান হয়। ও যখন আমাকে আমার অন্য মেয়েদের সাথে কথা বলতে দেখে তখন ও হিংসুক হয়ে ওঠে। কোন ভাবেই আমি ওকে কোন একটি সাধারণ মেয়ের থেকে আলাদা করতে পারি না।
আগে যখন অন্য কোন মেয়ের সাথে কোনরকম সম্পর্ক থাকলে, কালী আমাকে ভয় দেখাতো। কানে কানে বলতো ঐ মেয়েকে ছাড়ো, নয়তো তোমার অমুক পরিনতি হবে, তমুক পরিনতি হবে।
একবার আমি কালীকে তিরস্কার করেছিলাম, আমার কথা না শোনার জন্যে। রাগে অভিমানে ও ওর খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। ওর খাওয়া হয় আমার মাধ্যমে। কারন ও আমার মধ্যে বিরাজমান। তাই যে পরিমাণ আমি প্রতিদিন খাই, তার প্রায় 35% (শতাংশ) কমে গেল। বুঝলাম মেয়ের রাগ হয়েছে। কিন্তু, ও কি আমার উপর রাগ করে থাকতে পারে? আমি বোঝালাম ওকে আর, রাগ গলে জল হয়ে গেল। আর, আমার খাওয়ার পরিমাণ আবার বৃদ্ধি পেল।
এসব ঘটনা তো সংসারে প্রতিনিয়ত হয়ে থাকে। কিন্তু যে পরমেশ্বরী, সেও যে এর বাইরে নয় তা জানাতেই এই লেখা।
মনে আছে লকডাউন পর্বের আগে ওকে বললাম চল মায়ের হাতের রান্না খাই। ও তো এক কথায় রাজী, কারণ আমি তো কোনরকমে সেদ্ধ টেদ্ধ দিয়ে চালিয়ে দিতাম। আমার রান্না খুব যে খারাপ তা নয়। বরং আমার সব সময় রান্না নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা। ফল স্বরূপ ভয়াবহ সব খাবার, আমি চোখ বুজে খাই। কিন্তু, ও হয়তো কষ্ট করে খায়।
লকডাউন পর্বে আমার বৃদ্ধা মা যেন যুবতী হয়ে উঠেছিল। আর, আমি ও কালী মনের আনন্দে মার রান্না করা খাবার উপভোগ করেছি প্রতিদিন। মেয়েরা অনেক কিছু পারে, যদি তাদের সদিচ্ছা থাকে। এই জন্যই মেয়েদের প্রকৃতির সাথে তুলনা করা হয়।
আগে বিভিন্ন মন্দিরে ভালো ভালো ভোগ নিবেদন হতো। তবে পরমেশ্বরী যে খেতে পেতো না, এ তো আর মিথ্যা নয়। মানুষেরা আমার প্রিয়াকে অনাহারে রেখেছিল। ধরা যাক এক কেজি খাদ্য ভোগ দেওয়া হয়েছে। প্রসাদ তো ঐ এক কেজিরই হতো, 1% ও কমতো না। তবে বেটি খেতো কি?
আমি আগে 750 মিলি গ্রাম ভাত খেতাম। ওর দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটা অলৌকিক ভাবে 1200 মিলি গ্রাম হয়ে গেছে। ও না খেলে এই পরিমাপ আবার কমেও যায়। কিন্তু যখন ও আবার খাওয়া শুরু করে, তখন আমার খাওয়ার পরিমাপ বৃদ্ধি পেয়ে আবার 1200 মিলি গ্রাম হয়ে যায়। এই পরিবর্তন আমার স্বজ্ঞা আমাকে জানিয়ে দেয়। স্বজ্ঞা শুধু মাত্র ঋণাত্মকের উপস্থিতি জানিয়ে দেয় না, সাথে ধনাত্মকের অনুভূতিও জানায়।
অনেকেই ভাবতে পারেন যে এ লোকটির মাথা হয়তো খারাপ হয়ে গেছে। কিসব উল্টো পাল্টা লিখেছে। কিন্তু এটা মাথা খারাপ হওয়ার মতোই বিষয়। আমার আত্মা বান্ধবীরা অনেকেই কৃতী। তাদের মধ্যে যেমন ভারত সুন্দরী আছে, তেমন বিখ্যাত অভিনেত্রীরাও রয়েছে। তাদের নাম বললে হইচই বেধে যাবে। কিন্তু এদের সাথে আমার সম্পর্ক একটা সীমানা পর্যন্ত। অজ্ঞাত কারণে কিছুতেই তার আগে যেতে পারিনি। এখন বুঝতে পারি ঐ কারনটি কি ছিল? আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন? আরে ওটা কালীই। ঐ পিছনে কলকাঠি নাড়তো।
কালীর সাথে সম্পর্ক একটা প্রবন্ধে শেষ হওয়ার নয়। এর মধ্যে যেমন প্রেম আছে। তেমনি মতবিরোধও আছে। তবে ও যা চায় তা আমাকে প্রোজেকশন বা অভিক্ষেপন করে দেখিয়ে দেয়। সেই গল্প আর একদিন বলব।
যেমন কেউ আমার সাথে শত্রুতা করলে, ও সংহারকারিনী রুপে আবির্ভূতা হয়। যারা শত্রুতা করেছে তাদের বিপদ আছে। শুধু বিপদ নয় বরং বলা যেতে পারে ভয়ঙ্কর বিপদ। কারন, কালীকে দিন কয়েক আগে দেখলাম একটা ত্রিশূল নিয়ে উগ্র নৃত্য করতে। এই রুপ আগে কখনো দেখিনি। বুঝতে পারছি ও আমার শত্রুদের নিধন করতে চলেছে।
এমনিতেই আমার সাথে যারা শত্রুতা করে তাদের অলৌকিক ভাবে বিশেষত অদ্ভুত রোগ বা দূর্ঘটনাতে মৃত্যু হয়। এই ব্যাপারটা বললাম, কারণ এটা এতো বার দেখেছি আর তার কখনো অন্যথা হয়নি। তাই আমি সবাইকে বলি আমার সাথে শত্রুতা নয়। কিন্তু কিছু মানুষের সারা দিনের একটাই কাজ আর সেটা হলো আমার সাথে শত্রুতা করা।
এটা টের পেয়েছি বা বলা যেতে পারে জানতে পেয়েছি যে আমার শত্রুরা বড় রকমের একটা কিছু করতে চলেছে। তবে এসবে আমি বিচলিত হওয়ার লোক নই। সেটার কারণ অবশ্য কালী নয়। বরং আমি নিজে। আমি এতোবার মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছি যা কোন সাধারণ মানুষ দাঁড়ায়নি বা কখনো দাঁড়াবে না। এই এক সপ্তাহ আগে আমার পিছন থেকে একটা লোক হাইপোডারমিক সিরীঞ্জ গলার বাম দিকে ফুটিয়ে দিল। তাতে কি হলো? কিস্যু না। আমি ও কালী কোন কিছুই লুকিয়ে বা পিছনে করি না। বদলে বলে করি, বা বলা যেতে পারে চ্যালেঞ্জ দিয়ে করি। মানুষ ভাবে সেই বেশি শক্তিশালী কিন্তু ঈশ্বরের কাছে সে নগন্য থেকে নগন্যতর।
আর কেন কালীর এই রুপ? কারন কলি যুগে একমাত্র বিনাশিনী কিন্তু কালী। তাই ঐ চন্ডী রুপের অবতারনা।
অনেকেই ভাবতে পারেন যে এই গল্পের সত্যতা কি? তার উত্তর হলো এই করোনা পরিস্থিতি। এই করোনাভাইরাসকে তাড়াতে কালীর কতো পূজোই না করা হয়েছে। কিন্তু সব ব্যর্থ হয়েছে কারণ কালী এখন আমার মধ্যে বিরাজমান। তাই আমাকে বাদ দিয়ে কালীর কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা বৃথা। তাই বলি
আমি থাকলে অসন্তুষ্ট।
কেমনে থাকে কালী সন্তুষ্ট।।
মহাকালে দাঁড়িয়ে কালী।
দুজনায় জগৎ সাজালি।।
জগতেশ্বর না থাকলে, থাকতো কোথায় তোর পরমেশ্বরী।
প্রিয়তমা থাকে আমারই অন্তরে, তাই সে জগতেশ্বরী।।
বামে ঈশ্বরী ডানে ঈশ্বর।
জয় বলে, আমিই মহাকালী পতি পরমেশ্বর।।
এই ব্লগটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন আর আমাদের ব্লগটি অনুসরণ করে ঈশ্বরের রহস্য জানুন।
Discover more from Adhyatmik
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

