
যুগান্তরের শেষ পর্বে দাড়িয়ে মহাকাল বলে উঠল তাঁরও ইচ্ছে হয় স্বপ্ন পূরণ করার। কি ছিল তার ইচ্ছা তথা স্বপ্ন?
তার ইচ্ছা ছিল তাঁর নামের যেন সার্থকতা থাকে। অর্থাৎ, জয় বলতে বিজেতা। বা সফলতা অর্জন। আমি আমার যাওয়া দেখেছি এমনকি গন্তব্যও দেখতে পেয়েছি। যেতে হবেই, কিন্তু হেরে গিয়ে নয়, অসম্পূর্ণ হয়ে নয় বরং সফল ও সার্থক ভাবে।
আমারো কিছু মনস্কামনা থাকতে পারে। যেমন শত্রু জয়। জীবনে জয় আর ইচ্ছে পূরণে থাকবে নামের সার্থকতা। তাই ততোদিন এই পৃথিবী থাকবে। তা বলে অনন্ত কাল নয়। আমার আরো একটা ইচ্ছা হয়েছে। আর সেটা হলো হলো কালীকে সোনার গহনাতে ঢেকে দেওয়ার।
আর কালী আমার মনস্কামনা জানতে পেরে অভিক্ষেপন করে দেখিয়ে দিল। যে সোনার গয়না দিয়ে ঢাকলে ওকে কেমন দেখতে লাগবে। নয়ন জুড়ে গেল ওর ঐ রুপ দেখে।
কালী দেবী হতে পারে কিন্তু ও একটি মেয়ে। আর যেকোন মেয়ে ঐ গহনাতে কাত। এমনকি কালীও এর ব্যতিক্রম নয়। তাই বলি:
কাল বলে কাল নয়
কালে দাঁড়িয়েই কালী হয়।।
মহাকালেরও ইচ্ছা হয়
সোহাগ ভোগে কালী কয়।।
ইচ্ছে করে বলে জয়
সংসারে তে কালী রয়।।
গহনাতে সোহাগ হয়
অভিক্ষেপনে দেখিয়ে দেয়।।
ইচ্ছে পূরণ করবে জয়
ততোদিন বুঝি ধরিত্রি রয়।।
মহাকাল চায় তার শত্রু নিধন
তাই তো কালীর নব বোধন।।
এও এক মহা সাধন
এজন্যই কালী বেঁধেছে বাধন।।
তার দুই দিন পর শত্রু জয়ের মনস্কামনা পূরন করার জন্য কালী আবার আমাকে দর্শন দিল। ওর এই রুপ আগে কখনো দেখিনি।
কাত্যায়নীকে দেখেছি এই রুপে কিন্তু কালীকে নয়। কালীর ত্রিশূল হাতে যে ছবি আমরা দেখতে অভ্যস্ত তা অবশ্যই বরাভয়প্রদা। অর্থাৎ সেখানে কালী স্থির এবং শান্ত।
এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।
সেখানে কালীর হাতের ত্রিশূল উর্ধমুখী। অর্থাৎ আকাশের দিকে মুখ করে রয়েছে। তাই সে শান্ত কারন ত্রিশূলের মাথা উপরে তুলে যুদ্ধ যেমন করা যায় না। তেমন কাউকে বধও করা যায় না।
কিন্তু আমি কালীর যে রুপ দেখলাম। সেখানে ত্রিশূলের মাথা নীচের দিকে। সামনের দুই হাতে ত্রিশূল ধরা রয়েছে। একেবারে কাত্যায়ানী মহিষাসুরের বধ করার জন্যে ত্রিশূল যে ভাবে ধরেছিল। ঠিক সেই ভাবে ধরে রয়েছে। যদিও এখানে কালীর চামুন্ডার মতো মুখ নয়। কিন্তু মুখে একটা দৃঢ় ভাব রয়েছে শত্রু নিধনের হেতু। সুতরাং এটি কালীর উগ্র রুপ। (ভাবছি কোন চিত্রকরকে দিয়ে এই রুপের একটি চিত্র বানাবো)
ত্রিশূল কথাটার অর্থ তিনটি শূল। শূল শব্দের অর্থ যেমন তীক্ষ্ণাগ্র অস্ত্রবিশেষে ব্যবহৃত হয়, তেমনি শূল বলতে যন্ত্রণা বা ব্যাথাও বোঝানো হয়। যেমন দন্ত-শূল মানে দাঁতের যন্ত্রণা।
তন্ত্রে শূলকে যন্ত্রণাই বলা হয়েছে। সুতরাং ত্রিশূল নিম্ন মুখি বলতে যন্ত্রণায় নিধন বোঝানো হয়েছে। কিন্তু কালী কেন এই রুপে অবতীর্ণ হলো? ও আমাকে কিছুতেই শত্রু বধ করতে দেবে না। শত্রু বধ করতে আমার বাক্যই যথেষ্ট। কারন আমি বাকসিদ্ধ। কিন্তু এখানে ও আমার শত্রুদের বিনাশ করবেই।
তবে শত্রু নিকেশ করতে বাক শক্তির প্রোয়গের প্রয়োজন আমার কখনো হয়নি। আমার যে প্রতিঘাত কবচ আছে, তাই যথেষ্ট শক্তিশালী। এই কবচের প্রক্রিয়া অদ্ভুত রকমের। এর প্রয়োগ একমাত্র শত্রুরা দেখতে পায়। ঘাত হলে এ শুধু আটকায় না সাথে প্রতিঘাত দেয়। আর প্রতিঘাতে ঘাতকের পঞ্চত্ব প্রাপ্তি ঘটে যায়।
শত্রুরা কি দেখে বলতে পারি না। তবে যখন ছাত্র রাজনীতির সময়ে নিরস্ত্র এবং একাকী শতাধিক সশস্ত্র শত্রুর সামনে দাঁড়িয়েছি। তখন তারা কিছু একটা দেখে ভয় পেতো। তারা আমার রনসংহার রুদ্র রুপ দেখে পিছনে ছুটতো, এটা মিথ্যা নয়।
তবুও কালী সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। কারন কলি যুগে একমাত্র কালী হলো বিনাশকারী শক্তি। যে নিধন করলে ধর্ম সঙ্কট হয় না। তাই কালী আমার শত্রুদের, নিজে, স্ব-হস্তে নিধন করতে বদ্ধপরিকর। যারা আমার শত্রু তাদের দিন ঘনিয়ে আসছে, এটা বলাই বাহুল্য।
কালীর এই রুপে অবতীর্ণ হওয়ার একটা দিক এখন থেকে দেখা যাচ্ছে। আর, সেটা হলো করোনাভাইরাস। একটা অদ্ভুত ব্যাপার অনেকেই হয়তো লক্ষ্য করেননি। আর সেটা হলো কালী এবং কোভিড এমনকি করোনাভাইরাসের প্রথম অক্ষর হলো ‘ক’। করোনাভাইরাসের নব কলেবরে আগমন ঘটেছে। এবার তা প্রানঘাতী হতে চলেছে। তাই সবাই সাবধান, যারা কোন রুপ পাপ কার্যে লিপ্ত তাদের যে কি হবে তা সহজেই অনুমেয়।
আমি কালীর উগ্রচণ্ডা রুপের ব্যাখ্যা দিয়ে দিলাম। এবার যার যা অভিরুচী।
উপরোক্ত ব্লগটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন আর আমাদের ব্লগটি অনুসরণ করুন।
Discover more from Adhyatmik
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

