
সেবার হঠাৎ দিল্লি যাওয়ার সুযোগ হয়ে গেল। তখন ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা করি। দিল্লির একটি হোটেল গ্রুপ আমার সাথে একটা ব্যবসায়িক চুক্তি করতে আগ্রহ প্রকাশ করল। এবং আমাকে তাদের হোটেলে থেকে এবং দেখে বা পর্যবেক্ষণ করে চুক্তি করতে আমন্ত্রণ জানালো। এরকম ট্রিপকে ফ্যাম ট্রিপ (familiarization trip) অর্থাৎ পরিচিতি করন ভ্রমণ বলে।
আমার ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসার দৌলতে হোটেলে থাকার পয়সা লাগতো না। এমনকি অনেকেই খাবারের বিলও নিতেন না। দিল্লির ফ্লাইট এর আগের দুই দিন ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ভ্রমণ মেলা বা Travel Fair ছিল। তখন গরম কাল। স্টল সাজাতে গিয়ে ঘেমে নেয়ে হাল খারাপ হয়ে গেল। স্টেডিয়াম একটা বদ্ধ জায়গা সেখানে কোন পাখা নেই এমনকি এসিও চলছিল না। গাড়িতে উঠে এসি চালিয়ে দিলাম। এবং সাথে সাথে সর্দি লেগে গেল। পরের দুই দিন মেলা চলাকালীন ধূম জ্বর ১০৩-৪°C। এন্টিবায়োটিক চালু করতে হলো কারন দিল্লি যাওয়া আছে।
Learn to Meditate online
ধুম জ্বর নিয়ে প্লেনে উঠলাম। গাড়ি ভাড়া করা ছিল এয়ার পোর্ট থেকে সোজা হোটেলে গিয়ে একদম বিছানায়। তখন দিল্লিতেও ভীষণ গরম। তবে দিল্লির গরম শুকনো, কলকাতার মতো নয়। ঘাম সেভাবে হয় না। জ্বর নিয়ে হোটেলের বাইরে একগাদা মিটিং কভার করে, হোটেলে এসে রাত ১২টা অব্দি মিটিং চলল। পরদিন বেশ কতকগুলি ব্যবসায়িক সাক্ষাৎকার ছিল। যদিও গাড়িতে করে ঘুরেছি।
পরদিন সকালে চেক আউট করে দিল্লি ঘুরতে বের হলাম ঐ জ্বর নিয়েই। এটা কিন্তু শুধুমাত্র একটি ভ্রমন কাহিনী নয়। এই ট্রিপে এমন কিছু অদ্ভুত বা অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল যে না বলে পারলাম না। এর সাথে আত্মা জাগরন সিদ্ধি জড়িত থাকার কারণে এই ঘটনাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। যা আমার আধ্যাত্মিক চেতনাকে উন্নততর করেছিল।
আমার কলকাতার ফ্লাইট ছিল সন্ধ্যা সাতটার পর ফলে দিল্লিতে ছোট খাটো একটা দর্শন তো হয়েই যাবে। এই উদ্দেশ্য নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। তখনও জ্বর সারেনি। আর আমি সাধারণত ১০৩-৪° জ্বরে কাবু হইনা। আর তখন সে ভাবে ধ্যান করতাম না ফলে জ্বরে ভুগতে হয়েছিল। ধ্যান করলে কোন রোগ হয় না, এবং কিছুই ছুঁতে পারে না।
ঠিক করেছিলাম দুটি সৌধ্য দেখবো, যা আগের বার দেখা হয়নি। একটি রেড ফোর্ট আর অন্যটি হুমায়ূন টুম্ব বা হুমায়ূনের কবরখানা।
তখন আত্মা জাগরণ সিদ্ধি হয়েছে, মাঝে মাঝে বিভোর হয়ে যাই। কিন্তু এর যে কি তাৎপর্য তা তখনও জানা হয়নি। কিন্তু সেই তাৎপর্য সম্পর্কে অবগত হওয়া যে দিল্লিতে হবে সেটা কোন মতেই আঁচ করতে পারিনি।
আত্মা জাগরন সিদ্ধি হলে নিরাকার অশরীরি আত্মার দর্শন মেলে। এছাড়া আমার এমন কিছু একটা ঐশ্বরিক ক্ষমতা আছে। যা থাকলে ভুত, প্রেত, পিশাচ, প্রভৃতিরা রীতিমত সন্মান করে বা ভয় পায়। এই ব্যাপারটা আমি বিভিন্ন ঘটনায় দেখেছি। এমনকি আমি ইচ্ছা করলে কোন আত্মার ভাগ্য পরিবর্তন করতে সক্ষম। এই ঘটনা পরে কোন প্রবন্ধে লিখবো।
প্রথম ঘটনাটি ঘটলো রেড ফোর্টে। রেড ফোর্ট সম্রাট শাহজাহান নির্মিত লাল বেলে পাথর দিয়ে তৈরি একটি দুর্গ। এর একদিকে যমুনা নদী বহমান রয়েছে। এটি একটি ঐতিহাসিক দ্রষ্টব্য স্থান, যদিও এর একটি অংশে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর আওতাধীন। আমি সম্ভবত ২০০৭ এর ১৫ই অগাস্টের কিছু আগে গিয়েছিলাম। ফলে তখন সিকিউরিটি খুব কড়া ছিল।
আত্মা হলো অনেকটা ভৌতিক ব্যাপার। আত্মা যদিও শরীরের ভিতরে থাকে তাহলেও এর ভৌতিকতার বিস্তার গগন চুম্বি। যার আত্মা জাগরন ঘটছে তাকে চলমান ভুত বলা যেতে পারে। তার অনেক কিছুই ভৌতিক বা আধিভৌতিক। আমরা যে নিরাকার শক্তিকে ঈশ্বর রুপে কল্পনা করি। সেও কিন্তু একটা ভুত আর তার পত্নী অর্থাৎ কালী একজন ভুতনি। একটা শ্লোকে ঈশ্বরীকে ভূতানী বলে পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে।
ঈশ্বর নিরাকার। রূপহীন। যে কারণে প্রাচীন বৈদিক আর্যরা ঈশ্বরের রূপ বর্ণনা করেছেন এভাবে-
‘রূপংরূপ বিবর্জিতস্য ভবতো ধ্যানেন যদবর্ণিতং।’
এর মানে হল-‘হে রূপহীন ঈশ্বর! ধ্যানে তোমার রূপ বর্ণনা করেছি।’ ফলে একথা বলাই যায় যে ঈশ্বর দর্শন হলো ভূত দর্শনের সমান। অর্থাৎ যে ভূত দেখতে পায় তার পক্ষেই ঈশ্বর দর্শন সম্ভব।
আর আমার ভূত দেখার অভিজ্ঞতা এতো যে বর্ননা করলে একটা মোটা ভুতের উপন্যাস লেখা হয়ে যাবে। লালকিলা দেখতে একটা টেবিলের মতো। এর ভিতর অনেক গুলো ছোট বড় প্রাসাদ সদৃশ বাড়ি রয়েছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। আর রয়েছে অনেক গুলো বাগান। তবে এর আসল রহস্য রয়েছে মাটির তলায়। এর বিভিন্ন জায়গায় মাটির তলায় অনেক ঘর বা চেম্বার আছে। যেখানে যুদ্ধ চলাকালীন বাদশাহর পরিবার ও পরিজনেরা থাকতো। এবং সমস্ত সম্পদ বা ধন রত্ন ঐসব মাটির নিচের ঘর গুলোতে বা চেম্বারে রাখা হতো।
এই ঘটনাটি যখন ঘটে তখন সাধারণ মানুষ জানতো না যে লাল কেল্লার তলায় কোন চেম্বার আছে। যদিও ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক সংস্থা সম্ভবত এই বিষয়ে অবগত ছিল। এটির অস্তিত্ব আরো পরে সম্ভবত ২০১৬ বা ১৭ তে জনগনকে জানানো হয়েছে।
লাল কেল্লার একদিকে প্রচুর ভাঙ্গা চোরা পাথর স্তুপাকৃত করে রাখা ছিল। সেখানে একটা ছোট প্রাসাদের পিছনে একটি দরজার দিকে চোখ যেতেই দেখি কতকগুলি লোক পুরনো আমলের পোষাক পরে ঐ দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকে গেল। আর, আমি ঐ লোকটির পিছনে গিয়ে দেখি একটা পাথরের সিঁড়ি নিচে নেমে গেছে। নীচে নেমে দেখি একটি প্রকোষ্ঠ আর, সেখানে অনেক গুলো লোক বাদশাহী আমলের পোষাক পরে ঘোরাঘুরি করছে। আমি ভাবলাম যে হয়তো কোন শুটিং চলছে। কিন্তু কোথাও কোন ক্যামেরা দেখতে পেলাম না। হঠাৎ, একটা লোক তার কোমর বন্ধনী থেকে একটা বড় তরোয়াল বের করে আর একটা লোকের পেটে সটান ঢুকিয়ে দিল। ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হয়ে এলো। এবং তার পর সেটা বের করে একটা লোকের মাথা কেটে ফেলল। এবং লোকটা সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ছুটে উঠতে লাগল। আর, আমি খুন খুন বলে চেঁচিয়ে ওর পিছনে দৌড় দিলাম।
বাইরে এসে ঐ লোকটাকে আর দেখতে পেলাম না। তখন, একজন বন্দুক ধারী সিকিউরিটিকে ঘটনাটি ব্যক্ত করলাম। আরো কিছু লোক জুটে গেল সাথে। সবাই মিলে ঐ দরজার সামনে ফিরে এলাম। অদ্ভুত কান্ড দেখি দরজাতে একটা বড় তালা ঝুলছে। আমি সিকিউরিটিকে বললাম এই দরজায় কে তালা লাগলো? এর পিছনে নীচে ঐ লাশ দুটি পড়ে রয়েছে। সব লোকজন হইচই শুরু করে দিল। সিকিউরিটি গেল ঘাবড়ে, তখন সে তার অফিসারকে ফোন করে ডাকলো।
সিকিউরিটি অফিসার আর তার সাথে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগের এক অফিসার এসে হাজির হলো। আমার কথা শুনে সবাই ভীষণ অবাক। এএসআই (ASI) এর অফিসার তালা চেক করে বললেন। আপনি এই দরজার পিছনে ঠিক কি দেখেছেন? বললাম এর পিছনে একটি সিঁড়ি নীচে নেমে একটা হলের মতো জায়গা আছে। সেখানে বাইরের আলো প্রবেশ করে না, তবে মশাল আছে। আর আমার দেখা ঘটনাটি ব্যক্ত করলাম।
আমার কথা শুনে ভদ্রলোক একবারে অবাক হয়ে গেলেন। এবং বললেন সত্যিই ঐ দরজার পিছনে একটি সিঁড়ি নীচে নেমে গেছে এবং সেটা একটা হলের প্রবেশ পথ। কিন্তু কি এক সরকারি নির্দেশে এই দরজাতে বিগত চল্লিশ বছর ধরে তালা ঝুলছে। খোলা হয়না, কিন্তু উনি খুব অবাক যে আমি তালা বন্ধ দরজার পিছনে কিভাবে গিয়েছিলাম? এরপর আর ওখানে দাঁড়াইনি, সোজা রেড ফোর্টের বাইরে।
ব্লগটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন আর আমাদের ব্লগটি অনুসরণ করে ঈশ্বরের রহস্য জানুন।
এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।
Discover more from Adhyatmik
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

