
‘কালী আমার ভ্যালেন্টাইন’ শীর্ষক প্রবন্ধের নামকরণে কালী কে? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে শুরু করতে হবে বেশ আগে থেকে।
তন্ত্র মতে বঙ্গ দেশের অধিধাত্রী দেবী হলো কালী অর্থাৎ মহাকালী বা মা কালী। যুগ যুগ ধরে সাধকেরা এই কালীর সাথে তাদের মা ছেলের সম্পর্কের কাহিনী বলেছেন। কিন্তু এই কালীর সাথে আমার সম্পর্কটা সম্পূর্ন আলাদা রকমের। আর কালী কি ভাবে আমার ভ্যালেন্টাইন তা জানতে লেখাটি সম্পূর্ণ পড়তে হবে।
আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা একটি নাস্তিক পরিবারে। ফলে আমি কোনদিনই ঈশ্বর বিশ্বাসী ছিলাম না। আমার পূর্ব পুরুষরা ছিলেন ব্রাহ্ম ধর্মাবলম্বী। কৌলিনদের বিরুদ্ধে গিয়েই পূর্ব পুরুষদের ব্রাহ্ম ধর্ম গ্রহণ এ সত্য অস্বীকার করার জায়গা নেই।
তবে বাড়িতে আধ্যাত্মিক ভাবধারার প্রতি আকর্ষণ ছিল। আমার এক পূর্ব পুরুষ ছিলেন সাধু নাগ মহাশয়। আর এক দাদু, বাবাদের যোগেন কাকা ছিলেন বিপ্লবী আর আধ্যাত্মিক ক্ষমতার অধিকারী।
যদিও এদের প্রভাব আমার জীবনে কিছুই পড়েনি। এর কারন এদের কাউকেই আমি চাক্ষুষ দেখিনি। ছোট বেলায় কালো মহিলা দেখলে শরীরে শিহরণ জাগতো। এটা বাড়ির অনেকেই জানতেন, বিশেষত মা। আর স্বভাবতই কালীর মূর্তিতে সেই শিহরণ আমাকে চঞ্চল করে দিত একথা বলাই বাহুল্য। আধ্যাত্মিক জগতে প্রচলিত সত্য হলো, সময়ের আগে কিছু হয় না। তা আমার সাথে এর অন্যথা হয়নি।
এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।
তখন ব্যবসা করি। হঠাৎ একদিন রাত্রে স্বপ্ন দেখলাম যে কালী আমাকে ভ্যালেন্টাইন ডেতে একটি ফুল দিচ্ছে বা নিবেদন করছে। কালীর আমাকে ফুল নিবেদন ব্যপারটা ঠিক বুঝতে পারিনি।
এরকমটা অনেক শুনেছি যে পূজো করতে গিয়ে কালীর ফুল পড়ে যায়। কিন্তু কালী নিজের থেকে বা হাতে করে ফুল নিবেদন করছে তাও আবার ভ্যালেন্টাইনস ডেতে এরকমটা কোথাও শুনিনি বা পড়িনি। এটা শুধু মাত্র একটি স্বপ্ন হলে এর উপর প্রবন্ধ লেখা হতো না। কিন্তু এই স্বপ্নটি হয়ে গেল একটি অলৌকিক ঘটনার গুরুত্বপূর্ন অংশ। সেটাই লিখছি।
আমার কোম্পানিতে একজন মার্কেটিং এ কাজ করতো। সেই ছেলেটিকে আমি ডেকে বললাম, আরে তুমি তো আমাকে কালীর দেওয়া লাল জবা ফুলটি দিলে না? তখন ছেলেটি আমার চেম্বারে এসে পকেট থেকে একটি লাল জবা ফুল আমার হাতে দিয়ে একটি অদ্ভুত এবং অলৌকিক ঘটনা ব্যক্ত করল।
কলকাতার কালীঘাট মন্দিরের পুরোহিত বা সেবায়িতের বড় তরফের কাছে মার্কেটিং এর ছেলেটির পরিবার দীক্ষা নিয়েছিল। তার স্ত্রীকে ওরা বড় মা বলে ডাকতো। সেই মহিলা ঐ ছেলেটিকে ডেকে পাঠায়। আর আমার কাছে কালীর গলার মালার একটি ফুল নিয়ে পৌঁছে দিতে বলে।
এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।
তখন ছেলেটি বলে যে আমার মনিব নাস্তিক এবং এসব বিশ্বাস করেন না। তখন ঐ বড় মা তাকে বলেছেন যে তোমার মনিব নিজের থেকে লাল জবা চেয়ে নেবেন। কিভাবে উনি এটা বলছেন যখন ছেলেটি জানতে চায়। তখন তার উত্তরে উনি বলেছিলেন যে উনি স্বপ্নাদেশ আর দৈবাদেশ পেয়েছেন। কি ভাবে ঐ ফুল আমার কাছে পাঠানো হবে তার পুংখানুপুংখ বিবরন ঐ মহিলাকে স্বপ্নাদেশে দেওয়া হয়েছিল।
আমাকে নিয়ে এরকম স্বপ্নাদেশ বা দৈব বানী বহু বার হয়েছে। কিন্তু আমি আগে কখনো কালীঘাট মন্দিরে যাইনি, এমনকি ঐ মহিলা অর্থাৎ যাকে আমার কর্মচারী বড় মা বলে সম্বোধন করেছিল তাকে কখনো দেখিনি। এমনকি কোন রকমের পরিচয়ও নেই।
এই ঘটনা ভ্যালেন্টাইনস ডেতে ঘটেছিল। তাই কালী আমার ভ্যালেন্টাইন। আর তার পর ও তো আমার কাছেই থাকে বহু বছর ধরে। তাই এখন কোন মন্দিরে আর ওর কোন অস্তিত্ব নেই। সে অন্য বিষয়। তবে এই ঘটনার পর ছেলেটি একটি সরকারি কাজ পেয়ে যায়। আর আমার ব্যবসাটিও বন্ধ হয়ে যায়। এখন বুঝতে পারি ছেলেটির চাকরি এমনকি ব্যবসাটি পর্যন্ত হয়েছিল কালীর ফুল পাঠানোর উদ্দেশ্যে।
প্রবন্ধটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন আর আমাদের ব্লগটি অনুসরণ করে ঈশ্বরের রহস্য জানুন।
Discover more from Adhyatmik
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

