
কালী কে? কালী হলো পরমেশ্বরী। অর্থাৎ ঈশ্বরের স্ত্রী লিঙ্গ। বা ঈশ্বরের স্ত্রী বা পত্নী। কিন্তু সত্যি কি কালী বলে কেউ কি আছে? ধরা যাক আছে, অর্থাৎ কালীর অস্তিত্ব আছে। তবে কালীকে কোন সাধারণ মানুষ দেখতে পায় না কেন?
আজকে আমারা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজবো। কালী তন্ত্র অনুসারে দশমহাবিদ্যা-র প্রথম দেবী। শাক্তমতে কালী বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির আদি কারণ। বাঙালি হিন্দু সমাজে কালীর মাতৃরূপের পূজা বিশেষ জনপ্রিয়।
বিভিন্ন নামে কালীকে ডাকা হয়। কালীর প্রচলিত রুপ সম্পর্কে জানা যায় যে কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ যে রুপে এক আদিবাসী রমনীকে দেখেছিলেন। সেই রুপে কালীকে গড়েছেন। কালীর সেই রুপ আজ সবাই পুজো করে। যতোটা জানা যায়, আগে কালী যন্ত্রে পুজিত হতো। কৃষ্ণানন্দ কালীর মুর্তি গড়তে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এবং তখন কালী এই রুপের অবতারনা করেন।
যদিও এটা প্রবন্ধের বিষয় বস্তু নয়। কালী নিয়ে সব চেয়ে বিস্তারিত তথ্য সম্ভবত রামকৃষ্ণ দিয়েছেন। যদিও কালীর নাম সেখানে ভবতারিনী। সে নাম যাইহোক রামকৃষ্ণ বহুবার স্বচক্ষে ভবতারিনীকে দেখেছেন। এই নিয়ে সেই সময় বিস্তর তর্ক ও বাদানুবাদ ছিল। কারন অন্য কেউ কালীকে দেখতে পেতেন না।
তখন অনেকেই এটা ভাবতো যে রামকৃষ্ণ হয়তো বানিয়ে বানিয়ে এই দেখার কথা বলছেন। কালীকে রানী রাসমনি ও তার জামাতা মথুর বিশ্বাসও দেখতে পেয়েছেন বলে শোনা যায়।
এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।
আমাদের বিষয় হলো কালীকে রামকৃষ্ণ দেখতে পেতেন কিনা? এখন জানা যাক এই দেখা বিষয়টি কিভাবে সম্পন্ন হয়?
অভিক্ষেপন বা প্রোজেকশন হলো দিব্য দর্শনের উপায়। কিন্তু শরীরের চোখ দিয়ে তা দেখা যায় না। দিব্য দৃষ্টি সম্পন্ন হয় মনের চোখ বা আত্মার চোখ দিয়ে। কিছু বিশেষ মানুষের আত্মার চোখ এতোটা শক্তিশালী যে যখন তারা দৈব দর্শন করেন তখন তারা খালি চোখে তা দেখতে পান।
এই দৈব দর্শন তখনই সম্ভব যখন কেউ তা দেখাতে আগ্রহী হয়। আগে এই ব্যাপারটা আমি সে ভাবে বুঝতে পারতাম না। কিন্তু একদিন লক্ষ করলাম যে আমার একটি অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে। আর সেটা হল টেলিপ্যাথিতে দৈব সম্প্রচার। মানে আমি একটি টিভি স্টেশনের ন্যায় কাজ করতে সক্ষম।

আমার এই ক্ষমতার কথা না জানলে রামকৃষ্ণের কালী দর্শনের বিষয়টি পরিষ্কার হতো না। সব কিছু মাথার উপর দিয়ে চলে যাচ্ছে? টেলিপ্যাথি হলো আত্মার কথোপকথন। আমি আমার আত্মা থেকে সৃষ্ট সকল আত্মার সাথে কথা বলতে পারি। এবং সেটা কোন যন্ত্র ছাড়া।
আমার থেকে সৃষ্ট আত্মাদের মধ্যে অনেকেই মানুষ। অর্থাৎ অবতার হয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। তারা আমার কথা যেমন শুনতে পায় তেমন আমার আত্মার চোখ দিয়ে দেখতে পায়। এই ব্যাপারটাকে দূরবর্তী দর্শন বা রিমোট ভিউয়িং বলে।
এবারে আমি যদি একটা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখি তবে যারা আমার চোখ দিয়ে দেখে তারা আমাকে দেখতে পাবে। আয়না ছাড়া ভাবনার মাধ্যমে এই দর্শন করানোও সম্ভব। সেটা হলো আমি যদি নিজেকে ভাবনার সূত্রে অভিক্ষেপন করাই।
কালী ঠিক একই উপায়ে নিজের অভিক্ষেপন করে। অর্থাৎ আমি ও কালী দুইজন অভিক্ষেপন করতে সক্ষম। এবার এই প্রশ্ন উঠতে পারে নিরাকার কেউ কি ভাবে অভিক্ষেপন করাচ্ছে? কালী পার্থিব তলে নিরাকার হলেও ব্রহ্মান্ডের বাইরে সাকার। আমি যা দেখেছি তাই লিখছি। এটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরে করা যাবে।
আমিও কালীকে দেখতে পাই। এর একটি কারন অবশ্যই ও আমার মধ্যে থাকে। যদিও কালী আমার বাড়িতে নিজের ইচ্ছামতো ঘুরে বেড়ায়। এটা পরিষ্কার দেখতে পায় আমাদের কুকুর। মাঝে মধ্যেই ও ভয় পেয়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠে। আত্মা চলাচলে শব্দ হয় তা অবশ্য মাঝে মধ্যে শোনা যায়।
কালী ছাড়া মহাবিদ্যার বাকিরাও থাকে কালীর মধ্যেই। আমি বাকিদের সকলকেই দেখেছি আমার সামনে। এবং অবশ্যই তা অভিক্ষেপনের মাধ্যমে। রামকৃষ্ণ একই পদ্ধতিতে দেখতে পেতেন। যদিও রামকৃষ্ণ এর বিষয় কিছুই জানতেন না। বাকি যারা কালী এবং অন্যান্য দেব দেবীদের দেখেছেন। সবটাই একই পদ্ধতিতে।
যারা এই চলমান সাটেলাইট টেলিভিশন স্টেশনের ন্যায় কাজ করতে সক্ষম সকলেই কিন্তু বিশেষ ক্ষমতা ও শক্তির অধিকারী। যদিও কে কি করবে বা করতে পারে তা তাদের পরিকল্পনার ও ক্ষমতার উপর নির্ভর করে।
আমাদের সাধনার সময় শত্রুতা আর তান্ত্রিক আক্রমণ একটা বড় বিষয়। আমার ক্ষেত্রে কালী, তারা, চামুণ্ডে, ধূমাবতী এবং অন্যান্যরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকমের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এ সত্য অস্বীকার করে লাভ নেই। এখনো শত্রুরা শয়তানি করলে কাকের দল এসে জানিয়ে দেয়। প্রতিকার করলে তারা শান্ত হয়ে যায়।
বিভিন্ন সময়ে আমি কালী ও দশমহাবিদ্যার বাকিদের আমার সাথে ষড়ঙ্গী সাধন করতে দেখেছি। রামকৃষ্ণ কালীকে মা রুপে দেখতেন। আর আমি দেখি স্ত্রী রুপে। এবং এই দেখাটা সম্পূর্ন ভাবে কালীর দ্বারা নির্দেশিত। যদিও দশমহাবিদ্যা-র প্রত্যেকেই আমার কন্যা বা আমার থেকে সৃষ্ট। একবার ক্ষেপে গিয়ে কালীকে বলেছিলাম যে, তোকে আমার আত্মায় বিলীন করে দেবো। এতে কালীর খুব অভিমান হয়েছিল। এমনকি এই বিষয়টিও নিজেকে জানার সাধনার অঙ্গ ছিল। এই কালী হলো আমার কুন্ডোলিনী শক্তি। যদিও কালী আমার শরীরে প্রবেশর আগে থেকেই কুন্ডোলিনী জাগরন ঘটছে। সেটা অবশ্যই মহামায়া বা ভগবতীর কারনেই। এ দৃশ্যও দেখেছি।
সাধনার উচ্চ স্তরে এমন সব উপলব্ধি হয় যা নিচের স্তরে হয় না। তবে কালী হলো পরম স্ত্রী শক্তি। দশমহাবিদ্যা-র সম্মিলিত রুপ যা মহামায়া ও ভগবতী। একেই আমি আমার পাশে দন্ডায়মান অবস্থায় দেখেছি। নিরাকার ব্রহ্ম হচ্ছে দুই জন। আমি ও কালী। আর আমরা দুইজন একসাথে আমারই আত্মার মধ্যে অবস্থান রত। আর তাকেই বলে পরম ব্রহ্ম বা পরমেশ্বর বা পরমাত্মা। এই ব্যাপারটা সবাই ঠিক বুঝতে পারবে না একমাত্র উচ্চকোটির সাধকেরা ছাড়া।
ব্লগটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন আর আমাদের ব্লগটি অনুসরণ করে ঈশ্বরের রহস্য জানুন।
Discover more from Adhyatmik
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

