
সবাই আমি আমি বা আমার আমার করে। কিন্তু কোন কিছুই মানুষের নয়। কেউ কি বলতে পারেন যে পৃথিবীতে আসার সময় সাথে করে কিছু নিয়ে এসেছেন? বা যাওয়ার সময় কিছু নিয়ে যাবেন?
তাহলেও আমার আমার বলতে কেউই ছাড়ে না। আমরা যা কিছু ব্যবহার করি তার সমস্ত কিছুই ঈশ্বরের দান। যে জল পান করি তা ঈশ্বরের সৃষ্টি আর, যে খাদ্য দ্রব্য ভক্ষন করি তার উপাদানও ঐ ঈশ্বরই জুটিয়ে দেন। কিন্তু সে সত্য খুব কম মানুষই স্বীকার করেন।
একটি বয়স্ক মারোয়াড়ী রোজ গঙ্গা স্নান করতে যেতো। তার সাথে তার চাকর ও ড্রাইভার যেতো। ঐ বয়স্ক লোকটি গঙ্গার ঘাটে একটি বুড়ি ভিখারিকে প্রতিদিন এক টাকা করে দিতেন। ঐ পয়সায় বুড়ি ভিখারি মুড়ি কিনে খেতো। এইভাবেই দিন কাটছিল।
হঠাৎ, একদিন ঐ বয়স্ক লোকটি পরলোক গমন করলেন। শ্মশানে তার বাড়ির লোক তার শেষকৃত্য করতে উপস্থিত হলো। সাথে তার ড্রাইভার ও চাকরটিও শ্মশানে উপস্থিত হয়েছিল। তারা একটা ব্যাপার দেখে গোল জুড়ে দিল।
তারা শ্মশানে গিয়ে দেখে ঐদিন গঙ্গার ঘাটের সেই বুড়িটিও পরলোক গমন করেছে। এবং তার মরদেহ ঐ মারোয়াড়ীর মরদেহের আগে শায়িত রাখা আছে। ঐ বুড়ি মারোয়াড়ী লোকটির টাকার উপর নির্ভরশীল ছিল। তাই চাকর আর ড্রাইভার চাইছিল যে বুড়ির আগে মারোয়াড়ীর মরদেহের অন্তিম যাত্রা সম্পন্ন হয়।
কিন্তু শ্মশানে একটি অলিখিত নিয়ম আছে। সেটা হলো যার সময় যখন তার সময় তখন। যতো ধনী তুমি হও না কেন। বাঁশের চাটাইয়ের উপর ছাড়া গতি নেই। আর লাইন ভেঙ্গে আগে যাওয়ারও উপায় নেই।
অর্থাৎ ঐ মারোয়াড়ীর সময় ছিল বুড়ির পরেই তাই তার মরদেহে লাইনে বুড়ির পরে শায়িত রাখা হয়েছে। জন্ম, মৃত্যু জীবন সব কিছুই ঈশ্বরের নির্দেশে হয়। তাতে ধনী, দরিদ্র, জাত, পাত, এবং ধর্ম কোন রকমের প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে না। তাই যখন মানুষ এইসব অহংকার নিয়ে গোলযোগ সৃষ্টি করে তখন ঈশ্বর পিছনে হাসেন।
এটাই ঈশ্বরের অমূল্য সত্য।
প্রবন্ধটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন আর আমাদের ব্লগটি অনুসরণ করুন ।
এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।
Discover more from Adhyatmik
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
