
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে, বৃহস্পতিকে বলা হয় দেব গুরু। এই গ্ৰহ জ্ঞান, সমৃদ্ধি এবং ভাগ্যের গ্রহ হিসাবে বিবেচনা করা হয় এবং এটি জ্যোতিষশাস্ত্রে পঞ্চম, নবম ঘরের কারক গ্রহ। বৃহস্পতি গ্রহ শিক্ষা, নৈতিকতা এবং প্রজ্ঞার প্রতিনিধিত্ব করে। এটি একটি শুভ গ্রহ এবং সর্বদা জাতকদেরদের ভাগ্য বৃদ্ধি করে।
এমনকি যখন কোনও ব্যক্তির কুণ্ডলীতে এই গ্রহের সঙ্গে অশুভ কোনও গ্রহের সংযোগ থাকে, তখন এটি সর্বদা ব্যক্তিকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। তবে, কখনও কখনও এই গ্রহটি কুণ্ডলিতে নির্দিষ্ট অবস্থান এবং সংমিশ্রণের কারণে দুর্বল হতে পারে।

আমরা সকলেই বৃহস্পতি গ্রহ সম্পর্কে কম বেশি জানি। বৃহস্পতিই আমাদের জীবনের পরিপূরক কারণ এটাই একমাত্র গ্রহ যা আমাদের জীবনে সব করাতে পারে। যেমন এই গ্রহ কাউকে প্রখর জ্ঞান প্রদান করে, আবার উল্টো দিকে জ্ঞানহীনও করতে পারে।
এই গ্রহ এক দিকে উদারতা দেয়, আবার উল্টো দিকে কাউকে কৃপণ বানায়। এই গ্রহ মানুষকে সব থেকে ভাল কাজ করতে সাহায্য করে, আবার খারাপ কাজ করাতেও ইনিই পারেন। এই গ্রহই মানুষের ঋণ তৈরি করে আবার ঋণ থেকে মুক্তির পথও এই গ্রহই দেয়।
তাই অবশ্যই সবাইকে মনে রাখতে হবে বৃহস্পতি জন্মছকে যদি খারাপ অবস্থায় থাকে তা হলে তো তাঁর প্রতিকার করতেই হবে, কিন্তু যদি বৃহস্পতি ভাল অবস্থায় বা যে কোনও অবস্থাতেই থাকুক না কেন বৃহস্পতির প্রতিকার অবশ্যই করে নেওয়া প্রয়োজন। এর ফলে জীবনের প্রচুর অংশে শুভ ফল পাওয়া যায়। এ ছাড়া গ্রহের প্রতিকার করার পরেও বিশেষ কিছু কাজ থাকে সেগুলো যদি করা যায় তবে জীবনে নানা অংশে উপকার পাওয়া যায়।

বৃহস্পতি গ্ৰহের প্রতিকারের ঘরোয়া টোটকা:
– যদি বৃহস্পতি জন্মছকে খুবই খারাপ বা দুর্বল অবস্থায় থাকে তা হলে সব সময় একটা সোনার হার গলায় পরে থাকতে হবে।
– প্রতি দিন সকালে কপালে কেশর এবং চন্দনের তিলক লাগাতে হবে।
– রাতে এক গ্লাস জলে রুদ্রাক্ষ ভিজিয়ে রেখে সেই জল সকালে পান করতে হবে।
– নিজের থেকে বড় অর্থাৎ যে কোনও গুরুজনের চরণ স্পর্শ করতে হবে।
– যদি সম্ভব হয় সপ্তাহে বা মাসে এক বার দুস্থদের ছোলার ডাল দান করুন।
– হলুদ বা সোনালি পোশাক পরুন এবং আপনার দৈনন্দিন জীবনে হলুদ বা সোনালি রঙের জিনিস ব্যবহার করুন।
– প্রতিদিন ওম গুরুভে নমঃ মন্ত্রটি জপ করুন। এটি বৃহস্পতিকে সন্তুষ্ট করে এবং সৌভাগ্য এবং সমৃদ্ধি আনতে সাহায্য করে।
আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।
Discover more from Adhyatmik
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
