
সবাই বাড়ি বা গাড়ি কেনার বা ভ্রমনের জন্য ব্যাঙ্কের থেকে ঋণ গ্রহণ করে থাকে, তা ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রয়োজনে ঋণ নিয়ে থাকি আমরা। কিন্তু অনেকে সময়ের মধ্যে ঋণ শোধ করতে পারেন না এবং ফলস্বরূপ তাঁদের ওপর ঋণের বোঝা বাড়তে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে হিন্দু ও জ্যোতিষ শাস্ত্র মুক্তির পথ দেখাতে পারে। কোন উপায় ঋণমুক্তি সম্ভব জেনে নিন?
এ ঋণ মুক্তির একাধিক উপায় সম্পর্কে জানানো রয়েছে। কিছু কিছু উপায় করলে লক্ষ্মী প্রসন্ন হন এবং ব্যক্তিকে প্রচুর ধন-সম্পত্তি লাভের আশীর্বাদ দেন। আবার শাস্ত্র অনুযায়ী দেবতাদের কোষাধ্যক্ষ হলেন কুবের। বলা হয়েছে, কুবেরের পুজো করলে জীবনের সমস্ত আর্থিক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। জীবনের কোনও না-কোনও সময় আমরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ি। আবার বাড়ি, গাড়ি কেনার জন্যও ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে থাকি। কিন্তু ঋণের বোঝা বাড়তে থাকলে ব্যক্তির জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এ ক্ষেত্রে হিন্দু শাস্ত্রে বর্ণিত কিছু ঘোরোয়া উপায়ের মাধ্যমে ব্যক্তি ঋণমুক্ত হতে পারে।

বাড়িতে ঠাকুর ঘরে কুবেরের মূর্তি রেখে, নিয়মিত তাঁর পুজো করা উচিত। আবার কুবেরকে নিয়মিত শমী পাতা অর্পণ করলে শুভ ফল পাওয়া যায়। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী রামের পূর্বপুরষ রাজা রঘুকে প্রচুর স্বর্ণ দিয়েছিলেন কুবের। কথিত আছে যে, ঋণগ্রস্ত মহারাজা রঘু কুবেরের ওপর আক্রমণ করতে প্রস্তুত হন। তখনই আত্মরক্ষার্থে কুবের শমীর পাতাকে সোনায় পরিণত করে দেন। এই সোনা দিয়েই নিজের ঋণমুক্তি ঘটান রঘু। এ কারণে কুবেরের পুজো করার কথা বলা হয়। এ ছাড়াও কুবের মন্ত্র ‘ওম শ্রীং, ঔং হৃীং শ্রীং, ঔং হৃীং ক্লীং বিত্তেশ্বরায়ছ নমঃ’ জপ করুন।
ঋণ জর্জরিত থাকলে উজ্জৈনর ঋণমুক্তেশ্বর মন্দিরে গিয়ে পুজো দিন। এই মন্দিরে হলুদ পুজো করলে ঋণ মুক্তি ঘটানো সম্ভব হবে। হলুদ পুজো অর্থাৎ, হলুদ রঙের কাপড়ে ছোলার ডাল, হলুদ ফুল, গোটা হলুদ ও গুড় বেঁধে নিজের মনস্কামনা বলে জলাধারাতে অর্পণ করে দিন। মোক্ষদায়িনী শিপ্রা নদীর তীরে অবস্থিত এই মন্দির।
মঙ্গল জাতককে জাতিকাদের ঋণগ্ৰস্ত করে। এটা তখনই হয় যখন জাতকের মঙ্গল দোষ থাকে বা জাতক জাতিকা মাঙ্গলিক হয়। এর থেকে মুক্তি পেতে মঙ্গলকে শান্ত করতে হয়। গুরু মন্ত্র নিয়ে মঙ্গল দোষ প্রতিকার মন্ত্র পাঠ করা যায়। আবার যারা মন্ত্র পাঠ করতে পারেন না বা পারবেন না তারা বাড়িতে মন্ত্রপুত মঙ্গল প্রতিকার যন্ত্র স্থাপন করে প্রতিকার পেতে পারেন।
ঋণ শোধ করার পরও যদি বার বার ঋণ গ্রস্ত হয়ে পড়েন, তা হলে শিবলিঙ্গে আখের রসের অভিষেক করুন। এ সময় ওম নমঃ শিবায় বা মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র ১০৮ বার জপ করুন। পাশাপাশি দেবাদিদেবকে নিজের সমস্যা সম্পর্কে জানান। এর ফলে ধীরে ধীরে ঋণ মুক্ত হতে পারবেন।
ঋণের কারণে অত্যধিক দুশ্চিন্তায় ভুগতে থাকলে শনিবার সন্ধ্যাবেলা অশ্বত্থ গাছের নীচে আটার দিয়ার তৈরি চারমুখী প্রদীপ জ্বালান। এতে সরষের তেল ব্যবহার করবেন। মনে করা হয় শনিবার অশ্বত্থ গাছে সমস্ত দেবী-দেবতা বাস করেন। তাই এ দিন প্রার্থনা করলে সমস্ত মনস্কামনা পূর্ণ হয়।
ঋণমুক্তির জন্য ২১টি শনিবার হনুমান মন্দির যান। সেখানে ১১ বার শ্রদ্ধা-ভক্তি ভরে হনুমান চালিসা পাঠ করুন। এর ফলে ঋণ মুক্তি ঘটবে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক পরিস্থিতিও উন্নত হবে।
লক্ষ্মীকে সাদা রঙের জিনিস যেমন পায়েস, দুধ দিয়ে তৈরি খাদ্যবস্তু অর্পণ করুন। গৃহলক্ষ্মী, মা অথবা পরিবারের সবচেয়ে বয়স্ক মহিলা সদস্যকে সম্মান-সহ প্রসাদ বিতরণ করুন। শেষে নিজের প্রসাদ গ্রহণ করবেন। এর প্রভাবে ব্যক্তি ঋণ মুক্ত হতে পারবেন।
ঋণমুক্তির জন্য প্রতিদিন লাল মুসুর ডাল দান করুন। এর প্রভাবে ধীরে ধীরে ঋণ কমতে শুরু করবে। পাশাপাশি মঙ্গলবার শিবলিঙ্গে মুসুর ডাল ও জল অর্পণ করুন। এ সময় “ওম ঋণ মুক্তেশ্বর মহাদেবায় নমঃ” মন্ত্র জপ করবেন।
আপনি নিজের গৃহে দেবদেবীর যখন পুজো করবেন, তখন প্রদীপে সাদা সলতের পরিবর্তে লাল সলতে ব্যবহার করুন। এর ফলে আর্থিক সমৃদ্ধি ঘটবে এবং ঋণ মুক্তি হবে।
বিশেষ করে একটি দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন, বাড়িতে যেন ঝুল বা খুব নোংরা না জমে, এতে পরিবারের সুখ শান্তি নষ্ট হয় এবং ঋণে জরিয়ে পড়তে হয়।
আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।
Discover more from Adhyatmik
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
