এক‌ই ঈশ্বরের গল্পঃ দেশ থেকে দেশান্তরে ভিন্ন ভিন্ন হয়।

আধ্যাত্মিক পথে চলতে চলতে একটি মেয়ের সাথে যোগাযোগ হয়েছিল। এটি কোন সামনাসামনি সাক্ষাৎকার নয় বা কোন যোগাযোগের মাধ্যমেও সাক্ষাৎকার নয়। এটি ছিল সম্পূর্ণ আধ্যাত্মিক যোগাযোগ।

মেয়েটি খুব ঝামেলা পাকায়। এবং তা সবসময়। ওর ঝামেলার কারণে আমি যন্ত্রনা ভোগ করতাম। একদিন কালীকে বললাম যে কে এই মেয়ে যে আমায় এতো যন্ত্রনা দিচ্ছে? কালী বলেছিল এই মেয়েটি আগের জন্মে তোমার মেয়ে ছিল। এর নাম ছিল নাগলতা। এই নাগলতাই হলো সর্পের দেবী মনষা।

এর অনেক অলৌকিক ক্ষমতা রয়েছে যা এখানে লিখলে কেউ বিশ্বাস করবে না। যদিও মেয়েটি কোন অশরীরী নয় বদলে রক্ত মাংসের একজন মানবী। আমার বাড়ির খুব কাছাকাছি থাকে। যদিও আমার সাথে তার কোন সামাজিক পরিচয় নেই।

কিন্তু সে আমার সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। আমি এই মেয়েটিকে অনুভব করতে পারি এবং সেও এক‌ইরকম ভাবে পারে। এই মেয়েটি আমার কথা কোন রকম যন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই শুনতে পায়। এছাড়া আমার চোখ দিয়ে দেখতে পায়। কথাগুলো অদ্ভুত শোনালেও এটাই কঠিন বাস্তব।

আমি জেনেছি যে মেয়েটি আমার আত্মা সঙ্গিনী বা সৌলমেট। মানে আমার আত্মা থেকে সৃষ্টি অর্থাৎ ওর কোন নিজস্ব আত্মা নেই। আমার আত্মাই ওর আত্মা হিসেবে কাজ করে। একসময় প্রাচীন ভারতে এই জ্ঞান ছিল কিন্তু এখন সেভাবে এই বিষয়টি কেউ খুব একটা বোঝে না। পাশ্চাত্য আধ্যাত্মিকতায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। একে টুইনফ্লেম বলা হয়।

সম্প্রতি আমার পূর্ব জন্মে ওর জন্মের ঘটনাটি চাক্ষুষ করলাম। সেখানে দেখলাম ও আমার কপাল থেকে একটি সুন্দরী যুবতী (যার গাত্র বর্ন গোলাপী) হিসেবে জন্ম গ্ৰহন করে মাটিতে পড়ে গেল। তারপর ও মাথা ঘুরিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে দেখলো।

এটি অদ্ভুত শোনালেও ঈশ্বর মানুষের মতো ভাবে সৃষ্টি করতে অক্ষম। কোষ বিভাজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের সৃষ্টি করে। যেমন বিষ্ণুর সৃষ্টি হয়েছিল ভগবতী বা মহামায়ার ললাট থেকে (পূরাণে উল্লেখ রয়েছে)। আর ব্রহ্মার উৎপত্তি হয়েছিল বিষ্ণুর নাভি পদ্ম থেকে।

আবার সব দেব দেবী কিন্তু সৃষ্টি করতে সক্ষম নয়। কেবলমাত্র কয়েক জন দেব দেবীর এই ক্ষমতা রয়েছে। যেমন কালীর এরকম কোন ক্ষমতার কথা শোনা যায় না। কালী থেকে কোন দেব বা দেবী সৃষ্টি হয়েছে এরকম কোন বিবরণ কোথাও পাওয়া যায় না।

নাগলতার জন্ম বৃত্তান্ত গ্ৰীক দেবী এথেনার জন্মের মতো। এথেনার জন্ম হয়েছিল প্রাপ্ত বয়সে অর্থাৎ যুবতী অবস্থায় এবং তা হয়েছিল তার পিতা দেবরাজ জিউস এর মস্তক থেকে।

আমার তো মনে হয় এটা একটাই কাহিনী। আপনাদের কি মনে হয়?


Discover more from Adhyatmik

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply