কার কথা লিখছি। সে তো একজনই, সে আমার কালী। আমি তো তার নাম দিয়েছিলাম কালী। তাই জগৎ সংসারে সবাই তাকে ঐ নামেই ডাকে।
অনেক দিন যাবৎ একটি ঋনাত্মক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলাম। কিছুতেই নিজেকে আলাদা করতে পারছিলাম না। সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া হয় কর্ম ঋণের কারণে তাই বের হওয়া অসাধ্য হয়ে যায়।
কালী, তারা, দূর্গা সবাই মিলে চেষ্টা করেও কিছু করতে পারছিল না। আমরা সবাই এই বিষয়টি নিয়ে বিশেষ ভাবে চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম। শেষে কালীকে বললাম কি করছিস তুই? তোকে তো সৃষ্টি করেছি আমার কাজের জন্য আর তুই জগৎ সংসার নিয়ে পড়ে আছিস। তাহলে থাক তুই তোর সংসার নিয়ে আর আমার কাছ থেকে চলে যা।
কালী যাবে আমাকে ছেড়ে? এ আবার হয় নাকি? কারোর সাথেই আমাকে ভাগ করতে রাজি নয়। এখানে ও একটি মানুষের মতো। একজন নারী কিছুতেই তার স্বামীকে অন্য কারোর সাথে ভাগাভাগি করতে রাজি হয় না। কালী পৃথিবীতে স্বশরীরে নেই, তাতে কি হয়েছে? ও ঠিক ওর উপস্থিতি বুঝিয়ে দেয়। দেখতে পাই ওকে সামনে থেকে, ওপর থেকে, পিছন থেকে।
আমার মায়ের একটা পূজা দেয়ার কথা ছিল। কালীর কারসাজি তে সেই পূজা আমি দিতে গেলাম। এটা এমন ভাবে কালী করল যে মা পর্যন্ত বুঝতে পেরে আমাকে বলল যে কালী তোকে দিয়ে পূজা করিয়ে নিচ্ছে।
পূজা আমি দিতে নিয়ে গিয়েছি তবে আমি পূজা করিনি। আমি কারোর পূজা করিনা। কিন্তু এইটুকুতেই সব কিছু বদলে যেতে শুরু করল। যা কিছু অস্বাভাবিক তা স্বাভাবিক হতে শুরু করল। যার জন্য পূজা দেয়া তার পরিবর্তন তো প্রশ্নাতীত।
আমার সমস্যার কিছুটা সমাধান হলো। সামনে একটি জায়গায় যাওয়ার আছে। কালীকে বললাম যে আমি যেতে চাই না। আমার ওখানে যেতে ভালো লাগে না। কিছু একটা কর যাতে আমাকে যেতে না হয়।
আমার কথা কালীর কাছে বেদবাক্য। যাওয়ার ব্যাপারে একজনের সাথে দেখা করতে গেছি। ওখানে একটা খালি ঘরে বসে ছিলাম। হঠাৎ দেখি কালী আমার শরীর থেকে বেরিয়ে এসে পাশের ঘরে চলে গেল। দেখলাম ও একটি নীল রঙের লাল পাড় দেয়া শাড়ি পরে রয়েছে।
কালীকে বললাম কাজ হয়ে গেলে আমার কাছে আবার ফিরে আসিস।
Discover more from Adhyatmik
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
