বশীকরণ কথার অর্থ হলো বশ করা বা বশে আনা। যখন কেউ কোন ব্যক্তিকে সংসারে মেনে নেয় না বা মেনে নিতে চায় না বা সহ্য করতে পারে না তখন এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার অন্যতম উপায় হলো বশীকরণ।
আবার কাউকে বা এক সাথে একাধিক ব্যক্তি কে মোহগ্ৰস্ত করতেও বশীকরণ ব্যবহৃত হয়।
বশীকরণ হলো তন্ত্র শাস্ত্রের ষটকর্মের একটি অলৌকিক এবং দৈবিক ক্রিয়া। এই ক্রিয়া বিভিন্ন তান্ত্রিক উপাচার, ষটকর্মের দেবী পূজা, মন্ত্র সিদ্ধি, মন্ত্র নিক্ষেপ এবং তান্ত্রিকের সিদ্ধির শক্তি, তন্ত্রের দেবতা ও দেবী শক্তি দ্বারা প্রয়োগ করা হয়।
বশীকরণ এ যাকে বা যাদের বশীভূত করা হচ্ছে তাদের চেতন এবং অবচেতন মনে যে বশীকরণ করছে তার বিভিন্ন ছবি বা চেহারা ভেসে ওঠে। এবং তা কোন মতেই আটকানো যায় না। সে বা সেই সব ব্যাক্তি যে বশীকরণ করছে তার কথা না ভাবলেও তার চেহারা তার বা তাদের মনে ভেসে ওঠে।
এর ফলে তার প্রতি মন দুর্বল হয় এবং প্রচ্ছন্ন ভালো লাগা বা ভালোবাসার সৃষ্টি হয়। যা ধীরে ধীরে শক্তিশালী আকার ধারণ করে।
প্রেমের সম্পর্কে অভিভাবকরা অনেক সময় বিয়েতে রাজি থাকেন না। অনেকেই অভিভাবকদের না জানিয়ে বিবাহ করেন। তারপর স্ত্রী ও মায়ের মধ্যে সম্পর্ক তৈরিতে সমস্যা সৃষ্টি হয়। শ্বশুর ও জামাই এবং শ্বশুর ও পুত্র বধুর মধ্যে মনোমালিন্য, ঝগড়া, ঝামেলা হয়। শ্বশুর জামাই এবং পুত্রবধূকে মেনে নিতে পারে না।
সেই গোলযোগের কারণে সংসারে নিত্যদিনের ঝামেলা, গোলমাল, ঝগড়া প্রভৃতি চলতেই থাকে। এমনকি ছেলের বউকে তাড়ানোর বা মারন ক্রিয়া করার জন্য অনেকেই তান্ত্রিকের স্মরনাপন্ন হন।
তবে অভিভাবকদের ও বশীকরণ করা যায়। প্রেমের বিবাহে অভিভাবকদের বোঝানোর তান্ত্রিক ক্রিয়া রয়েছে। যা অভিভাবক বশীকরণ মন্ত্র নামে পরিচিত। যার প্রয়োগে অভিভাবকরা বশীভূত হয় এবং ছেলের স্ত্রীকে মেনে নেয়। বা মেয়ের স্বামিকে মান্যতা দেয়।
এই বশীকরণ ক্রিয়ার মন্ত্র নিক্ষেপের অংশ ছেলের বউকে তার শ্বাশুড়ীর ও শ্বশুরের উপর প্রয়োগ করতে হয়। আর যদি মেয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় তখন জামাইকে তার স্ত্রীর বাবা মায়ের উপর প্রয়োগ করতে হবে।
Discover more from Adhyatmik
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
