আধ্যাত্মবাদ, আধিভৌতিকতা ও ভুত

আচ্ছা আপনারা কি ভুতে বিশ্বাস করেন? অল্প কিছু মানুষ হয়তো বলবেন করি। কেউ কেউ বলবেন ‘আমি ভুত দেখেছি তো’। আবার কেউ কেউ বলবেন যে কিছু জায়গায় গেলে গা ছমছম করে। ঘাড় থেকে শিরদাঁড়া বেয়ে একটা শীতল স্রোত নেমে যায়, আর ঘাড়ের লোম খাড়া হয়ে যায়। বেশিরভাগই বলবেন বিজ্ঞানের যুগে এসব ভুত ফুত আবার কেউ মানে নাকি? যতসব গাঁজাখুরি ভাবনা।


এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।


ভুতের গল্পের বই লোমহর্ষক হতে পারে। ভুতের সিনেমা রোমাঞ্চকর বা ভীতি সঞ্চার করতেই পারে। এগুলো পড়তে বা দেখতে বিজ্ঞান মনস্ক হওয়ার দরকার নেই। কিন্তু একথা জোর দিয়ে কি বলা যায় যে বিজ্ঞানের ছাত্ররা ভুতের গল্প পড়েন না? বা ভুতের সিনেমা দেখেন না?

এই কথাটা ভাবুন তো, যদি ভুতের সত্যিকারের অস্তিত্ব নাই থাকবে তবে, এই ভুতের ভাবনাটা ঠিক এলো কোথা থেকে? সব কিছু তো মনগড়া হতে পারে না। ভুত শব্দটার সুত্রপাত, ভুতকাল শব্দ থেকে। ভুতকাল মানে অতীত কাল। ভুত হলো মৃত মানুষের জীবিত অতিতের চেতনা। মানব জন্ম হয় তিনটি বা চারটি কারনে। সেগুলো হলো কর্ম, জ্ঞান, ইচ্ছা এবং ভক্তি। কিন্তু যখন জীবিত কালে মানুষের কোন আকাঙ্ক্ষা পূর্নতা পায় না, তখন সেই ব্যক্তির মৃত্যু হলেও আত্মা মুক্তি লাভ করে না।

এই ব্যক্তির মৃত্যু সাধারণ ক্ষেত্রে হঠাৎ এবং দুর্ঘটনায় হয়। অর্থাৎ সাধারণ ভাবে মৃত্যু হয় না। অনেক সময় তা অসুস্থতার কারণেও হতে পারে। বা আত্মহত্যা বা হত্যার কারণেও হতে পারে।

এই ভুতের বিশ্বাসের সাথে মানুষের মন এবং চেতনার একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

মানুষের মন তিন রকমের। সচেতন, অজ্ঞান, এবং অবচেতন। সচেতন মন মানে সাধারণ অবস্থায় যে মন। সাধারণ সুস্থ অবস্থায় আমরা চোখ দিয়ে দেখি, কান দিয়ে শুনি, নাক দিয়ে গন্ধ শুঁকি। মুখ দিয়ে খাই। আর জিহ্বা দিয়ে স্বাদ আস্বাদন করি। সচেতন মন এই অনুভূতি গুলোকে বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে বুঝতে চেষ্টা করে। এবং এটা সম্পাদন করে আমাদের মস্তিষ্কের যে, এই সমস্ত অনুভূতির তথ্য সংগ্রহ করা থাকে তার বিশ্লেষণের মাধ্যমে। সচেতন মন স্বপ্ন দেখায়, তবে তা তৈরি হয় সব জানা ও দেখা তথ্যের ভিত্তিতে।



অজ্ঞান মন যখন আমাদের জ্ঞান থাকে না, সেই মন। এই অবস্থাতেও আমারা স্বপ্ন দেখি, যা আসলে ত্রিমাত্রিক মনের আকার, আর জ্ঞান হারানোর মূহুর্তের প্রতিবিম্ব। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কিছু দেখতে পাওয়া যায় না।

এরপর অবচেতন মন, এই জায়গাটা মানুষের মনের এক বিশেষ ও বিশাল অংশ প্রায় ৯২%। যা আমাদের জ্ঞানের সম্পূর্ণ বাইরে। এই অংশটা সম্পূর্ণ ভাবে আত্মা পরিচালনা করে। ফলে এখানে সব কিছুই আধ্যাত্মিক, আধিভৌতিক। এই স্থানের মধ্যেই থাকে ভুতের ভাবনা চিন্তা। এবং যে সমস্ত ব্যাক্তির আত্মার জাগরন ঘটে না বা জাগ্রত হয় না তাদের ভুতের ভাবনা চিন্তা ও ভয় হয় বেশি।

অনেকেই আত্মার অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন না। আমি “জন্মান্তরবাদ ও আত্মার অস্তিত্ব” প্রবন্ধে আত্মার প্রমাণ দিয়েছি। যারা এখনো পড়েন নাই, তারা অবশ্যই পড়ে দেখবেন। fb.me/gotoself পেজটি দেখুন।

আত্মা বিশ্বাস না করলে আধিভৌতিকতা বিশ্বাস করা যাবে না, এটা সঠিক না। কিন্তু বিশ্বাস করলে ভুতের ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে এবং ভয় থেকে বেরিয়ে আসার পথের সন্ধান পাওয়া যাবে।



আধ্যাত্মিকতা হল এমন একটা মানসিক চেতনার জায়গা যেখানে মানুষ আত্মার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে। আত্মাতে বিশ্বাস করা খুব কঠিন, যখন একে সাধারণত সামনাসামনি বা খালি চোখে দেখা যায় না। দেখা যায় না বললে ভুল হবে। সিদ্ধ যোগীরা আত্মার উপস্থিতি শুধু টের পায় না। তাদেরকে দেখতে পায়। এমনকি আত্মারা তাদের নির্দেশ মেনে চলে।

আর যে ভগবান বা ঈশ্বর সেই কেবল আত্মাকে মুক্তি দিতে পারে। মানুষের মৃত্যু হলে তার আত্মা শরীর ত্যাগ করে বাইরে বের হয়ে আসে। কিন্তু সাথে সাথেই তার পুনর্জন্ম হয় না। কারন অবশ্যই কর্ম ফলের ভোগান্তি। কর্মের ঋণ শোধ করার সুযোগের অপেক্ষা করতে হয়। যাদের প্রচুর ঋনাত্মক কর্ম রয়েছে তাদের নরক দর্শন হয়।

অনেকেই ভাবতে পারেন নরক, সত্যি নাকি? এসব হয়তো গাঁজাখুরি। শরীরই থাকে না তবে, কি করে ভয়ানক সব অত্যাচার হয়? এসব ধর্মের মনগড়া কথা মানুষকে অন্যায়ের পথ থেকে দূরে রাখার জন্যে। এখানে আমি ধর্ম নিয়ে কথা বলছি না। কিন্তু উপরোক্ত ব্যাপারটা বোঝার জন্য আমাদের আত্মা সম্পর্কে একটু ভালো করে বুঝতে হবে।

জীবিত অবস্থায় আমাদের দুটি শরীর থাকে। একটা বাইরের স্থূল শরীর আর একটা ভিতরের সূক্ষ্ম শরীর। সূক্ষ্ম শরীর আমাদের কপাল থেকে এক মধ্যমা দূরে অবস্থিত। যোগীরা এই সূক্ষ্ম শরীর নিয়ে যা খুশি তাই করতে পারেন। যেকোন স্থানে যেতে পারেন। যেকোন মৃত প্রানী, উদ্ভিদ এবং বস্তুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারেন। আর সে যদি ঈশ্বর হয় তবে সে সূক্ষ্ম শরীর নিয়ে যা কিছু করতে পারে যা মানুষের জ্ঞানে ভাবাই অসম্ভব। যেমন একমাত্র ঈশ্বরই জীবিত ও মৃত প্রানী ও উদ্ভিদে প্রবেশ করতে পারেন। এমনকি যে কোন আকার নিতে পারেন।

ঈশ্বরের অনেক গুলো শরীর থাকে। যেমন অগনিত মাথা, চোখ, মুখ, হাত, পা এবং ধড়। ফলে ঈশ্বরের অসম্ভব বলে কিছু হয় না। আর এই চেতনার দরজাটা হল অবচেতন মন। ঈশ্বরের এই অঙ্গ প্রত্যঙ্গ গুলো সারা জগতে এবং তার বাইরের বিভিন্ন তলে অবস্থান করে। মানে ব্যপারটা অনেকটা হলো ঈশ্বরের চেতনার মধ্যেই বিভিন্ন তলে, জগতের অবস্থান। এই তল গুলোকে বলে লোক। যেমন মর্তলোক, স্বর্গলোক, প্রেতলোক প্রভৃতি। এরকম অনেক গুলো লোক আছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত বলা যাবে।

মানুষের মৃত্যুর পর আত্মা সূক্ষ্ম শরীরে আবদ্ধ থাকে। যতক্ষণ না সে নরক থেকে ছাড়া পায়। এই সূক্ষ্ম শরীর মানুষের মৃত্যুর আগের স্থূল শরীরের প্রতিরুপ। মানুষ যখন ভুত দেখে তখন মৃত ব্যক্তির সূক্ষ্ম শরীরই দেখতে পায়। আত্মা মানুষের অবচেতন মনে একটা প্রভাব বিস্তার করে, যার ফলে সেই ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির সূক্ষ্ম শরীর দেখতে পায়। অবশ্যই সেই ব্যক্তির কিছু কর্ম ফল এই দৃশ্য দেখার জন্যে দায়ি।

একমাত্র ঈশ্বরই পবিত্র অগ্নি রচনা করতে পারেন। সূক্ষ্ম শরীর পবিত্র অগ্নিতে দহন না হলে আত্মা মুক্ত হয় না এবং পুনর্জন্ম পায় না।

আত্মার জাগরন একপ্রকার সিদ্ধি। যার ফলে আত্মা জাগ্রত হয় এবং ঈশ্বরের অলৌকিক জগতে প্রবেশের অধিকার লাভ করে। পৃথিবীর সমস্ত আধ্যাত্মিক মহাপ্রানেদের আত্মা জাগরন হয়েছিল বা হয়েছে। কারন তা না হলে কোন প্রকার আধ্যাত্মিক উন্নতি সম্ভব নয়।

আত্মার জাগরন হয়েছে এমন ব্যক্তি অন্য আত্মাদের আকুতি শুনতে পায়। তারা কানে কানে কথা বলে। এমনকি বিভিন্ন শব্দ করে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেষ্টা করে। আত্মা ঐ আত্মা জগরিত ব্যাক্তিকে তার মতো আত্মাই ভাবে। মানুষ বলে বুঝাতে পারে না। কিন্তু এটা বুঝতে পারে যে সে খুব শক্তিশালী, ফলে মুক্তির জন্যে সাহায্য প্রার্থনা করে।

কিন্তু একমাত্র ঈশ্বর ছাড়া এই কাজ কেউ করতে সক্ষম হন না। তবে এই প্রেতলোকের আত্মারা আত্মা জাগ্রত ব্যক্তিকে অনেক সময় আক্রমণ করে। এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ঘুমের সময়, কারণ আত্মা জাগ্রত ব্যক্তির তেজের সামনে তারা আসতে পারে না। নখ দিয়ে রক্ত বের করে দেওয়া অতি সাধারণ ক্রিয়া। এটা সাধারণ ভাবে পিঠে, বুকে ও পেটে করে। কেউ কেউ অবশ্যই এটা দেখেছেন, বা নখের দাগ পেয়েছেন শরীরে, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর। কিন্তু এর কারন বুঝতে পারেননি। এছাড়া ঘরের আলো নেভানো ও জালানো। আবার মিষ্টি গন্ধ ছড়িয়ে উপস্থিতি বোঝানোর চেষ্টাও করে।

সিদ্ধ যোগীদের সাথে অনেক আত্মা থাকে। কারন ঈশ্বরের কাছে একমাত্র তারাই ওদের পাঠাতে পারেন। এই আত্মারা অনেক সময় সেই সব যোগীদের সহায়তা করে।

আমার ভুত দেখার অভিজ্ঞতা নেহাত কম নয়। এখন যেখানে থাকি সেখানে বহুকাল পূর্বে ব্যবসা করতাম। তখন একদিন অফিসের টেবিলে বসে জানালার দিকে পিছন ফিরে কাজ করছি। সন্ধ্যা হয়েছে, তখন জায়গাটা ফাঁকা ফাঁকা ছিল। রাস্তায় আলোর জোরও কম ছিল।

হঠাৎ মনে হল পিছনে কেউ যেন রয়েছে। জানালার সামনে উঠে গিয়ে কাউকে দেখতে পেলাম না। আবার চেয়ারে এসে বসেছি। কিন্তু মনে হচ্ছে কেউ একজন পিছনে রয়েছে। আবার জানালার সামনে দাঁড়াতেই দেখি, জানালার নীচে বারান্দায় কে একজন বসে আছে।

আমি একজন কর্মচারীকে ডেকে বললাম যে সিকিউরিটিকে বাইরে পাঠাতে। সে দেখুক কে ঢুকেছে? কিছুক্ষণ পর শুনতে পেলাম সিকিউরিটি বলছে “তুই কে মা?” বুঝলাম কোন মহিলা ঢুকে পড়েছেন। আমি বাইরে দেখতে গেলাম এবং সাথে সাথে সমস্ত কর্মচারীরা। দেখলাম বাইরের বারান্দায় এক মহিলা ঘোমটা টেনে বসে আছে।

আমি সিকিউরিটিকে বললাম কি কর তুমি? এ ঢুকে পড়ল কি করে? আমার পিছনের জানালার পাশে মেইন গেট বা প্রবেশদ্বার। সেখান থেকে কেউ ঢুকলে সব থেকে প্রথমে আমি শব্দ শুনতে পাবো। কিন্তু সেরকম শব্দ তো পাইনি। বার বার প্রশ্ন করা হলেও ঐ মহিলার কোন নড়নচড়ন দেখা গেল না।

সিকিউরিটি বলল হয়তো এই মহিলা ক্লান্ত ও ক্ষুধার্ত। খাবার পেলে হয়তো কথা বলতে পারবে। ও প্রশ্ন করলো যে “মা তুই কিছু খাবি?” মহিলা মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো। সিকিউরিটি তাকে দুটি রুটি, তরকারি ও জল এনে দিল। এরপরই যা সব ঘটতে লাগলো তা শুধু অবিশ্বাস্য নয় ভৌতিক।

মহিলাটি তার রোগা হাত দিয়ে রুটি ছিড়ে তরকারি তুলে ঘোমটার তলায় ধরতে লাগলো। আমি এটা দেখে ভাবছিলাম যে এটা ঠিক কি হচ্ছে? কারন মহিলাটির ঘোমটা ওর বুকের নীচে বা পেটের উপর পর্যন্ত টানা। তার উপরতো বুক এবং গলা। আর তার উপরে মুখের অবস্থান। তবে অত নীচে থেকে খাবার খাচ্ছে কি করে? অন্যরা ভয় পাবে ভেবে আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগলাম। জল খাওয়ার সময় আমি পুরো যাকে বলে, হতবাক হয়ে গেলাম। গেলাস ঘোমটার তলায় খালি হয়ে গেল। কর্মচারীদের একজন তো বলেই ফেললো যে এই মহিলার মনে হয় হাতির মতো শুঁড় আছে।

খাওয়ার পর আমি সিকিউরিটিকে বললাম এবার তো প্রশ্ন করো। কিন্তু প্রশ্নের কোন উত্তর পাওয়া গেল না। শেষে ভাবলাম একেতো বাইরে এভাবে বের করা যাবে না আবার বাড়িতে রাখা যাবে না। তবে পুলিশ ডাকা যাক। শেষে পুলিশকে ফোন করে বললাম যে এক অচেনা মহিলা বাড়িতে ঢুকে পড়েছে, দয়া করে আসুন। ওরা জানালেন যে একটা টহলদারি গাড়ি ওরা পাঠাচ্ছেন।

আমরা সবাই ঐ মহিলার সামনেই দাড়িয়ে আছি। সেই সময় একটি পুলিশের বড় জীপ এসে থামল। এক অফিসার প্রশ্ন করলেন যে আপনারা পুলিশকে খবর দিয়েছেন? কোন অচেনা মহিলা বাড়িতে ঢুকে গেছে?

আমি গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা অফিসারকে ঐ মহিলাটিকে দেখাতেই, দেখি এক অদ্ভুত ব্যাপার হলো। ঐ অফিসারটি মহিলাটির সামনে চলে এল। শুধু আমি কেন, উপস্থিত সকলেই অবাক হয়ে গেলাম। সবাই তখন ভাবছি ঐ লোকটা বন্ধ গেট দিয়ে ভিতরে এলো কিভাবে? যাইহোক আমি ভাবলাম চোখের ভুল।

অফিসার দুটি কনস্টেবলকে ডাকলেন। এবং তারাও ঐ মহিলার সামনে এসে হাজির। এই বার আমার কর্মীদের কয়েকজন বলে উঠল। এসব হচ্ছেটা কি? বন্ধ গেট দিয়ে এরা ঢুকছে কি ভাবে? আমার তো মাথা ঘুরতে লাগলো। ভাবলাম স্বপ্ন দেখছি নাতো? এক কনস্টেবল প্রশ্ন করল এই মা তুই কে? কোথা থেকে এসছিস আর কোথায় যাবি? বলতে বলতে দেখি ঐ কনস্টেবল দুটির সাথে ঐ মহিলা জীপে বসে আছে। তখন আমি বাধ্য হয়ে নিজে গেট খুলে বেরিয়ে এলাম পিছনে অফিসারটি। এরপর ওরা চলে গেল। আমি ভাবলাম যাক আপদ বিদেয় হয়েছে।

আমরা বাড়িতে ঢুকতে যাব, শুনতে পেলাম কেউ ডাকছে আর গেটে শব্দ করছে। এগিয়ে গিয়ে দেখি আরো একটি পুলিশের টহলদারি ভ্যান। আমি বললাম আপনারা দেরি করে ফেলেছেন। আর একটা গাড়ি এসে মহিলাটিকে নিয়ে গেছে। আমার কথা শুনে শুধু অফিসারটি নয় সাথের কনস্টেবলটিও, যাকে বলে চমকে উঠল। অফিসার আমাকে গাড়ির কাছে ডাকলেন। যাওয়ার পর ওয়ারলেসের মারফত বুঝিয়ে দিলেন এই অঞ্চলে এটাই একমাত্র টহলদারি ভ্যান। কোন দ্বিতীয় গাড়ি নেই। আমি সম্পূর্ন হতবাক, তবে কারা এসে ঐ মহিলাকে নিয়ে গেল? তখন আর একটি কনস্টেবল এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন যে আপনি ঐ অফিসারের নাম দেখেছেন কি? আমি বললাম সম্ভবত ইন্সপেক্টর ঘোষ ( আসল নাম নয়) হবেন। তখন কনস্টেবলটি বললেন ঘোষ সাহেব আবার দেখা দিলেন। আমি বললাম আবার দেখা দিলেন, মানে কি? উনি কি ভুত না ভগবান যে দেখা দেবেন? ভদ্রলোক বললেন ভুত। শুনে আমি খেপে উঠলাম, কি মজা করছেন? এখানে সবাই দেখেছেন যে গাড়ি করে নিয়ে যেতে। তখন উনি বললেন অনেক দিন আগে এরকম এক সন্ধ্যায় একটি অপরিচিত মেয়েকে গাড়ি করে নিয়ে যেতে গিয়ে গাড়িটি দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়ে সবাই নিহত হন। তার পর থেকে শোনা যায় এরা মাঝে মাঝে দেখা দেন। আমরা সবাই অবাক, এরকম সত্যি হয় নাকি? কিন্তু সব ঘটনা আমাদের চোখের সামনেই ঘটেছিল।

ঈশ্বরের রহস্য সব অদ্ভুত। কিন্তু সময়ের আগে তা উন্মোচিত হয় না। অনেক দিন আগে, একদিন ধ্যান করছি। হঠাৎ মনে হল সামনে একটা আগুন জ্বালানো যাক। তাই একটা মোমবাতি জ্বালিয়ে ধ্যান করতে লাগলাম। মোমবাতির শিখা আমার অন্তরের শক্তির সাথে মিলে তা পবিত্র অগ্নিতে রুপান্তরিত হলো। তারপর, হঠাৎ মনে হলো বাড়িতে আরও একজন কেউ এসেছে। কিন্তু আমি সেদিন একলা ছিলাম এবং দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। তাহলে ভেতরে কেউ ঢুকবে কি উপায়ে? কিন্তু আমি ধ্যানেই বসে রইলাম। দেখলাম ঘরের পর্দাটা কেউ সরিয়ে দিল। পর্দা সরিয়ে ঘরে ঢুকলে যেমনটি হয়, ঠিক তেমনি। এবং বুঝতে পারলাম কেউ ঘরের মধ্যে প্রবেশ করেছে।

এরপর কেউ একজন ঐ পবিত্র শিখায় প্রবেশ করার জন্য অনুরোধ করতে লাগল। আমি তাকে অগ্নিতে প্রবেশ করার দ্বার খুলে দিতেই দেখলাম কিছু একটা অগ্নি শিখায় প্রবেশ করল। এবং স্পষ্ট দেখতে পেলাম, সেটা পুড়তে লাগলো। একটা অদ্ভূত গন্ধ নাকে এল, সেটা অনেকটা পুরনো পচা মাংসের গন্ধ।

ব্লগটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন। আর ঈশ্বরের রহস্য জানতে আমাদের ব্লগটি ফলো / follow করুন।


Discover more from Adhyatmik

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply