
মহাকাল, কোন শক্তি নয় বরং ঈশ্বরের পরম রুপ। পরম পুরুষ সেই পরমাত্মা বা পরম ব্রহ্মত্মা যিনি আদী ও অনন্ত, যার অধিষ্ঠান রয়েছে আমার অন্তরে এ শুধুমাত্র দেখা নয় বরং আত্ম উপলব্ধি।
কিন্তু শুধু আত্ম উপলব্ধি বা নিজের দেখা দিয়ে কি সত্যি বলা যায়? এবং তার বিশ্বাসযোগ্যতা কতখানি? যে আমাকে ঈশ্বর মনে করে, সে মেনে নেবে আমার কথা ধ্রুব সত্য বলে। কিন্তু বাকিরা? কারণ, এই দুটি তো আমার নিজস্ব ভাবনাও হতে পারে।
সুতরাং আমি যে মহাকাল তার জন্য প্রমাণ প্রয়োজন, কারণ এমনি মুখের কথায় কিছু প্রমাণ হয় না। এই প্রবন্ধে আমি প্রমাণ করে দেব যে আমার উপলব্ধি ও দেখা শুধুমাত্র মনের ভাবনা নয় বরং চিরায়ত সত্য। আর এই সত্য উন্মোচনের সময় এসে গেছে।

আমার কথায় আসার পুর্বে দেখা যাক ধর্ম, শাস্ত্র, পুরান, ভগবত গীতাতে মহাকাল নিয়ে কি বলা হয়েছে। মহাকাল মানে এমন এক শক্তি যে কাল অর্থাৎ সময়কে নিয়ন্ত্রণ করে। যার নির্দেশে বা ইচ্ছায় জগৎ চলে। সুতরাং সে ঈশ্বর ছাড়া দ্বিতীয় কোনো ব্যাক্তি হতে পারে না। এবং ঈশ্বর স্বয়ং বিধাতা পুরুষ, যার বিধানে সমস্ত কিছু হয়। সাধকেরা একটা কথা প্রায়ই বলে থাকে, তা হলো “মহাকালের কোলে কালী”।
কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ চলাকালীন একদিন অর্জুন লক্ষ্য করলেন যে এক উজ্জ্বল উগ্র পুরুষ তার রথের সামনে সামনে ঘুরছে, সেই পুরুষের পা মাটি থেকে কয়েক হাত উপরে (শূন্যে ভাসমান), অর্জুন যার উপরে তীর ছুঁড়ছে তার তীরের অনেক আগে গিয়েই সেই উগ্রপুরুষ সেই নির্দিষ্ট শত্রুকে শূল দিয়ে হত্যা করছে। অর্জুন লক্ষ্য করলেন যে আসলে তার তীর গিয়ে কেবল মৃতদেহের মধ্যে বিদ্ধ হচ্ছে। হত্যাকারী কিন্তু সেই পুরুষই ! হতবাক অর্জুন যুদ্ধ শেষ হলে মহর্ষি বেদব্যাসের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করলেনঃ
অর্জুন উবাচঃ
“সংগ্রামে ন্যহনম শত্রুন্সুরুঘইরবিমলৈরহম।
অগ্রতো লক্ষ্যয়ে যান্তম পুরুষম পাবকপ্রভম।। ৪
জ্বলন্তম শূলমুদ্যম্য যা দিশম প্রতিপদ্যতে।
তস্যা দিশি বিদির্যান্তে শত্রভো মে মহামুনে।। ৫
তেন ভগ্নানরিসর্বন্মদ্ভগনান্মন্যতে জনহ্।
তেন ভগ্নানি সৈন্যানি প্রস্থতো নুব্রজাম্যহম।। ৬
ভগবমস্তন্মমাচাক্ষব কো বৈ স পুরুষোত্তমঃ।
শূলপাণির্ময়া দ্রষ্টস্তেজসা সূর্য্যসন্নিভিঃ।। ৭
ন পদ্ভয়া স্প্রশতে ভূমি না চ শূলম বিভুঞ্চতি।
শূলাচ্ছূলসহস্রানি নিষ্পেতুসতস্য তেজসা।।”৮
~ মহাভারত (৭/২০২ঃ৪-৮)
এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।
অনুবাদঃ
” হে মহামুনি, যুদ্ধের সময় একদিন লক্ষ্য করলাম যে আমার রথের অগ্রে এক উগ্র অগ্নি সদৃশ পুরুষ বিচরণ করছেন,তাঁর হাতে জ্বলন্ত শূল, মনে হচ্ছিলো যেন সূর্য্য ও অগ্নির সকল তেজ তাঁর শরীরেই পুঞ্জীভূত হয়েছে। আমার অস্ত্রসমূহের অনেক পূর্বে গিয়েই তিনি আমার শত্রুদের বধ করে রাখছিলেন। আমার অস্ত্রগুলো কেবল শত্রুদের মৃত শরীরে আঘাত করছিল। সেই পুরুষের পদতল ভূমি স্পর্শ করছিল না। হে ঋষি, আমাকে বলুন উগ্রতেজস্বী সেই পুরুষোত্তম কে ছিলেন?”
মহর্ষি বেদব্যাস পরবর্তী ২ শ্লোকে অর্জুনের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বলছেনঃ
ব্যাস উবাচঃ
“শূলপাণিমহাকর্ষণ তেজসা সূর্য্যসন্নিবাহঃ।
প্রজাপতিনা প্রথমম তৈজসম,পুরুষম প্রভুম।
ভুবনাম ভূর্ভূবম দেবম সর্বলোকেশ্বরম প্রভুম।। ৯
ঈশানাম বরদাম পার্থ দ্রষ্টবানসি শঙ্করম।
তম গচ্ছ শরণম দেবার্মম বরদম ভূবনেশ্বরম।।” ১০
~ মহাভারত (৭/২০২:৯-১০)
অনুবাদঃ
“বৎস ! তুমি শূলহস্তা যে তেজস্বী পুরুষকে দেখেছ তিনি ভগবান শঙ্কর, যার থেকে প্রজাপতিগণের সৃষ্টি হয়েছিলো। ইনি ত্রিভুবনকে ধারণ করেন তাই সর্বলোকের ঈশ্বর ও প্রভু। তাই এনাকে ঈশানও বলা হয়। হে পার্থ তুমি সেই অভীষ্ট বর প্রদানকারী ভগবান ভুবনেশ্বরের শরণাপন্ন হও।”
বস্তুতঃ যজুর্বেদের শ্রীরুদ্রমের নিম্নোক্ত মন্ত্রেই ভগবান রুদ্রদেবকে এই বলে স্তুতি করা হয়েছে যে তিনি তাঁর ভক্তদের সকল শত্রুদের পূর্বেই বধ করে রাখেন।
“নমো অগ্রেবধায় চ, দূরে বধায় চ।।”
~ যজুর্বেদ (৪/৫/৮)।
অনুবাদ ;
“সেই রুদ্রদেবকে নমষ্কার যিনি ভক্তের আগে গিয়ে শত্রুকে সংহার করেন এবং দূরে থেকে শত্রুর মনোবল হরণ করেন।।”
কৃষ্ণ নিজেই মহাভারতের শান্তিপর্বে অর্জুনকে সেই উগ্রপুরুষের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন,
কৃষ্ণ উবাচঃ
“যস্তু তে সো গ্রতো যাতি যুদ্ধে সমপ্রত্যুপস্থিতে।
তম বিদ্ধি রুদ্রম কৌন্তেয় দেবাদেবম কপর্দিনম।।”
~ মহাভারত (১২/৩৪২/১৩৮)।
অনুবাদঃ
“হে কুন্তীপুত্র, যুদ্ধে যিনি তোমার আগে থেকে তোমার পূর্বেই শত্রুদের সংহার করেছিলেন তিনি অন্য কেউ নন ভগবান রুদ্র ছিলেন। তিনি দেবতাদেরও দেবতা, তিনি কপর্দিন (জটাধারী)।।”
মহাকাল এমন এক শক্তি যা শুধুমাত্র বলা হয় মহাদেবের আছে। কাল হলো সময় আর যে সময়কে নিয়ন্ত্রণ করে তাকে মহাকাল বলে। ঈশ্বরের কথা আলাদা কিন্তু মানুষের জীবন সময়ের চক্রে বাঁধা। শক্তি অজানা থাকলে তার কোনো মূল্য নেই, কিন্তু পরিস্থিতি যখন জানিয়ে দেয় শক্তির অস্তিত্ব তখন তা হয় দুর্ভেদ্য।
মহাকাল শক্তি যার আছে সেই হলো বিধাতা পুরুষ। কারন যে সময়ের নিয়ন্ত্রক সেই একমাত্র বিধান দিতে সক্ষম। আর এটা কোন সাধনায় প্রাপ্ত শক্তি নয়, যে সাধক সাধনার সিদ্ধিতে এটা পেয়ে থাকেন। এই শক্তি এবং ক্ষমতা শুধুমাত্র ঈশ্বরের রয়েছে, কারণ তিনি জগতের আধার অর্থাৎ সম্পূর্ণ জগৎ তার চেতনার মধ্যেই অবস্থিত। ঈশ্বরের অবতার অর্থাৎ ঈশ্বর যখন অবতীর্ণ হন, মানব রুপে তখন তিনি তার সমস্ত শক্তি নিয়ে আসেন তার কার্য সিদ্ধি করতে।
তবে একটা জায়গায় আমার গীতাতে উপরোক্ত শ্লোক নিয়ে আপত্তি রয়েছে। তা হলো ঈশ্বর ঠিক এতোটাও সস্তা নয়, যে তাকে শারীরিক ভাবে যুদ্ধ করতে হবে। বাস্তবিক সত্য হলো এই যে ঈশ্বরের কোন কিছু হাতে ধরে করার প্রয়োজন পড়ে না। সব এমনই এমনই হয়, শুধুমাত্র ভাবনার প্রয়োগে। আর ভাবনা তৈরি করে অলৌকিক শক্তির আধার, যার দ্বারা কার্য সম্পাদন হয়।
স্কুলে পড়ার সময় এই মহাকাল শক্তি মাঝে মাঝে বের হয়ে আসতো। আমি কিছুই বুঝতে পারতাম না, যে কি হচ্ছে? বন্ধুরা বলতো আমি কোন ট্রিক করতাম। মানে আমার সান্নিধ্যে থাকাকালীন এরকম হতো যে ওদের সময়ের গতির হেরফের হয়ে যেতো। এবং এর ফলে কাজকর্ম সব উল্টে পাল্টে যেতো।
একটা ঘটনার কথা মনে পড়ছে, বাসে করে কোথাও একটা যাওয়ার জন্যে স্টপেজে দাড়িয়ে আছি। এক বন্ধুর সাথে দেখা, ও বললো যে ও বাড়ি ফিরছে। আমি বললাম আমার সাথে চল। ও বললো না, বাড়িতে কাজ আছে। এর মধ্যে দেখলাম ওর বাস এলো কিন্তু ও সেটা কেন জানি না, দেখতেই পেল না। আমার বাস এলো আমি উঠলে, দেখি ও পিছন পিছন উঠে এলো। আমি ভাবলাম ও বুঝি আমার সাথে যাবে। দুটো স্টপেজে অতিক্রম করার পর ও বলে উঠল, আরে আমি এই বাসে কেন? আমি বললাম তুইতো নিজের থেকে উঠে এলি। তখন ও নেমে যাওয়ার আগে বললো তুই আবার ট্রিক করলি?
ও যখন আমার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল তখন আমি ভাবছিলাম যদি ও আমার সাথে যায়। এই ভাবনার ফলে ওর সময়ের গতি স্লথ হয়ে গিয়েছিল, ফলে ও ওর বাসের দিকে দেখলেও ও ওর বাসটির আসাটা দেখতে পায়নি। কিন্তু যে বাসের আসাটা দেখছিল সেটা পরের বাস, আর আমার বাসটি ওর বাসের ঠিক পিছনে আসছিল। ফলে যখন আমার বাস সামনে আসে তখন ও ভেবেছিল যে ওটাই ওর বাস। এটাকে টাইম ফ্রিজিং বলে। এটা বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে ঘটে থাকে। আমার ভাবনার ফলে ওর বাসটি সময়ের বেড়াজালে হারিয়ে গিয়েছিল।
আমি যখন আধ্যাত্মিকতার পথে হাঁটতে শুরু করিনি তখন থেকেই আমি এক অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ্য করতাম। মাঝে মাঝে সময় যেন আমার সামনে দাঁড়িয়ে পড়ছে। প্রথম প্রথম অস্বস্তি অনুভব করতাম, দেখতাম আমি কোন এক চলমান ঘটনার মধ্যে ঢুকে ঘটনাটিকে পর্যবেক্ষণ করছি। এমনকি সময় আমার সামনে স্লথ হয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেক কিছু আমার দৃষ্টি গোচর হতো যা সচরাচর কোন মানুষ দেখতে পায় না।
কলেজে পড়ার সময় উত্তপ্ত রাজনীতিতে জড়িয়েছি। একবার আমি আমার কিছু সঙ্গীর সাথে একটা গলি পথ ধরে হাঁটছিলাম। এমন সময় রাজনৈতিক দুষ্কৃতীরা আমাদের উপর হাত বোমার হামলা শুরু করে। ওরা গলিপথের দুধারে থাকা বাড়ির ছাদ থেকে এলোপাথারি বোমা নিক্ষেপ করতে থাকে। আমার পাশে একটি বোমা উড়ে এসে ফেটে যায়। তা থেকে একটা লোহার টুকরো ছিটকে এসে আমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ছেলের পায়ে লাগে। আমি দেখলাম যে লোহার টুকরোটি ওর প্যান্ট ফাটিয়ে পায়ের গোড়ালি থেকে হাঁটুর দিকে উঠে এলো। আমি আমার চোখের সামনে দেখলাম ছেলেটির পা চিড়ে যাচ্ছে এবং চামড়া ফেটে মাংস, অস্থি ও মজ্জা বের হয়ে আসছে। পুরো ব্যাপারটা দেখলাম স্লথ গতিতে। মানে, এতোটাই স্লথ যে মনে হচ্ছিল স্লথ গতিতে বা শ্লো মোশানে কোন ভিডিও দেখছি।
যে মৃত্যুঞ্জয়ী অর্থাৎ যাকে মারা যায় না। সে যতক্ষণ না এটা জানে, ততক্ষণ তার দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। ঠিক তেমনি কেন সময় আমার সামনে স্লথ হয়ে যায় এবং প্রবাহমান ঘটনার মধ্যে আমি কি ভাবে ঢুকে পড়ি তা আমার কাছে এক বিশেষ রহস্য ছিল।
একদিন কলেজের গেটে দাড়িয়ে আছি, বাইকে করে একটি ছেলে হঠাৎ চলমান বাইক থেকে আমার মাথা লক্ষ্য করে একটি হাত বোমা নিক্ষেপ করলো। আমি গেটের মাঝখানে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগলাম যে বোমাটি ঘুরতে ঘুরতে আমার দিকে আসছে। এর পর কি হলো সেটা অন্য ঘটনা। কিন্তু ঐ যে পর্যবেক্ষণ তা অন্য সময়ের মতো স্লথ গতিতে। যখন বোমাটি উড়ে আসছে তখন আমি ভাবছি, যদি এটা আমার মাথায় লাগে তবে কি কি হতে পারে?
যেখানে আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম আর যেখান থেকে ওটা ছোড়া হয়েছিল, তার দূরত্ব আট দশ ফুটের বেশি নয়। এই দুরত্ব একটা চলন্ত বাইক থেকে ছোড়া কোনো বস্তুর আমার কাছে পৌঁছতে ঠিক কত সময় লাগা উচিত? খুব বেশী হলে এক সেকেন্ড বা তার চেয়ে অনেক কম। কিন্তু আমি তার মধ্যে শুধু ওটার যাত্রাপথ দেখছিলাম না বরং সাথে সাথে ভাবছিলাম যে ওটা শরীরের কোথায় লাগলে তার সম্ভাব্য কি কি ফল হতে পারে? কিন্তু এটা কি ভাবে সম্ভব? সম্ভব হবে যদি তখনই, যখন কেউ সময়ের গতি স্লথ করে দিতে পারে।
সময়ের স্লথ হয়ে যাওয়া বা দ্রুত হয়ে যাওয়ার ফলে আমি এমন ঘটনা ঘটাতে পারি যা কোন সাধারণ মানুষের পক্ষে ভাবাই সম্ভব নয়। একবার মধ্য কলকাতার ডালহৌসী চত্বরে আনমনে হাঁটছি। রাস্তা অতিক্রম করতে গিয়ে বুঝলাম যে ভুল পদক্ষেপ নিয়ে ফেলেছি। এবং সেই ভুলের মাশুল অবধারিত দুর্ঘটনা। একটা ট্যাক্সি প্রায় গায়ের উপর উঠে এসেছে। রাস্তায় সমস্ত লোকজন হইহই করে উঠলো কারন ওরা বুঝতে পারছিল যে অবধারিত মৃত্যু হতে চলেছে।
আমি পুরো সময়টাকে দাঁড় করিয়ে, আমার অবস্থান থেকে একটু পিছিয়ে এলাম ফলে গাড়ির চাকা পায়ের আঙুলের উপর দিয়ে চলে গেল। সবাই ছুটে এলো, পুরো ভিড় জমে গেছে, সবাই ধরতে চায়। আমি বললাম দাড়ান আগে দেখি ঠিক আছি কিনা, বলে পা টা একটু ঝেড়ে নিলাম এবং বললাম সব ঠিক আছে। সাহায্যের প্রয়োজন নেই।
ট্যাক্সির ড্রাইভার ছুটে এসেছিল, সে বুঝতেই পারছিল না যে আমি কিভাবে বেঁচে রয়েছি? আমি অলৌকিক ঘটনা ঘটাই কারণ আমিই মহাকাল ঈশ্বর। সেকথা সবাই তো আর জানে না।
আমি একবার আমার শত্রুদের বিষের আক্রমণে ভীষণ ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি। শত্রু বন্ধুর ছদ্মবেশে এসে খাবারে বিষ মিশিয়ে দেয়। জ্বর হয় ১০৪° ফারেনহাইট মাসের পর মাস। শরীরের ওজন হ্রাস পায়, আমার ওজন ১১০ কেজি থেকে কমে ৭০ কেজি হয়ে যায়। কোনো ডাক্তার রোগ নির্নয় করতে পারেননি। আর প্রায় সমস্ত বিখ্যাত ডাক্তারকেই দেখানো হয়েছিল। এরপর হঠাৎ আমি নিজে থেকে সুস্থ হয়ে উঠি।
শত্রুরা হতাশ হয়ে যায়, এর কিছুদিন পর আবার আমার ওপর বিষ প্রোয়োগ করা হয় ঐ খাদ্যের মাধ্যমে। খাদ্যের মাধ্যমে আমাকে বিষ প্রোয়োগ করা খুব সহজ, কারন আমি খেতে খুব ভালোবাসি।
আগে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে বুফেতে খেতে হাজির হতাম, ওটা আসলে যারা খাওয়ার ব্যাপারে রাক্ষস, তাদের উপযুক্ত স্থান। মানে এখনও আমার খাওয়া দেখলে অনেকেই লজ্জা পাবে। আগে ৭৫০ মিলি লিটার মাপের পাত্র ভর্তি ভাত খেতাম। কালী আমার মধ্যে অনেকদিন ধরে রয়েছে, কিন্তু আগে ও অল্পতে সন্তুষ্ট ছিল। কারন বিভিন্ন মন্দিরে ভোগ খেতো অর্থাৎ ওকে যে ভোগ নিবেদন করা হতো। এখন রিউনিয়ন বা পুনর্মিলন করেছে অর্থাৎ স্ত্রী বা পত্নী রুপে স্বীকৃতি পেয়েছে। আর সমস্ত স্বামীকে তো স্ত্রীর ভরণ পোষনের দায়িত্ব নিতে হয়। ফলে আমার খাওয়ার পরিমাণটা হঠাৎ বেড়ে গিয়েছে। আগে ৭৫০ মিলি লিটার পরিমাপের খাবার খেতাম আর এখন ১২০০ মিলি লিটার হয়ে গিয়েছে। আমার ঐ ৭৫০ মিলি আর ওর ৪৫০ মিলি। আমি যখন খেতে বসি তখন ওকে জিজ্ঞেস করি পেট ভরছে কিনা? ও খুব খুশিতে রয়েছে, কারণ ওর মিলনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। কালীর সাথে আমার সম্পর্কে রহস্য নিয়ে “আমি ও কালী“ প্রবন্ধতে বিস্তারিত বলা যাবে। যাইহোক উপরোক্ত প্রবন্ধের ঘটনায় ফিরে যাই।
বিষক্রিয়ায় আবার জ্বরে পড়ি, সাথে শুরু হয় শ্বাস কষ্ট। এতো ভয়নক কষ্ট যে একমাসের উপর বিছানায় বসে কাটিয়েছি, ঐ ১০৪° জ্বর নিয়ে। জরের তাপ এক সেকেন্ডের জন্যেও কমেনি। এরপর একদিন ভয়নক শ্বাস কষ্ট শুরু হলো, নিশ্বাসই নিতে পারছিলাম না।
পরিস্থিতি তৈরি না হলে নিজেকে চেনা যায় না। এবং আধ্যাত্মবাদ নিজেকে চিনে নেওয়ার রাস্তা তৈরি করে দেয়। এক অলৌকিক ঘটনা ঘটল। আমার তখন ভয়াবহ অবস্থা, প্রচন্ড শ্বাস কষ্ট হচ্ছে। বাড়িতে মা বাবা ধরে নিয়েছেন যে আমার মৃত্যু হতে চলেছে। কান্নাকাটি শুরু হয়েছে, তখন আমার আর হুশ নেই। কিন্তু হঠাৎ মনে হলো ঘরে অনেক মানুষ। ভাবলাম শেষ সময়ে বোধহয় সবাই দেখতে এসেছে, কিন্তু এরা কারা? সব কালো কালো ছায়া মূর্তি আমার চারপাশে। সামনের এক মূর্তি হঠাৎ আলোকিত হয়ে গেল, সাদা আলো। সে বললো যে তোমার সময় আগত প্রায়। আমি বললাম কিসের সময়? আমার কোন কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি। তখন আলোকিত ছায়াময় ব্যাক্তি বলল তবে তুমি যদি থাকতে চাও তো তুমি থাকতে পারবে। তবে তোমাকে কালচক্রকে উল্টো দিকে ঘোরাতে হবে। এবং একমাত্র তুমি ইচ্ছা করলেই থাকতে পারো। আমি প্রশ্ন করলাম কালচক্র? সেটা আবার কি বস্তু? সেই আলো বলে উঠল যে নিজের ভিতরে ঝোঁকো। বুঝলাম আত্মস্থ হতে বলছে। আত্মস্থ হতেই দেখতে পেলাম বিশাল একটা চাকা যা পৃথিবীর থেকে অনেক অনেক বড়, সেটা বামদিকে থেকে ডানদিকে ঘুরছে। প্রশ্ন করলাম এতো বিশাল বড়, এটা কি করে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দেবো? সেই আলো বলল যে এই দুনিয়ায় যদি কেউ এই চাকা ঘোরাতে পারে তা সে তুমি, আর কেউ এই চাকা ঘোরাতে পারবে না।
তখন আমি সেই চাকা ধরে টানাটানি শুরু করে দিলাম, কিন্তু কিছুই হয় না। তখন বুঝলাম এটা শারিরীক বা গায়ের জোরের ব্যপার নয়। অন্তরের শক্তি প্রয়োগ করতে হবে, আর ঐ অন্তরের শক্তি প্রয়োগে শুধুমাত্র স্পর্শ করতেই সেই বিশাল কালচক্র ডান থেকে বাম দিকে ঘুরে গেল। এবং ঐ আলোকিত ছায়া বলে উঠল তুমি পেরেছো এবং তুমি থাকবে অনন্ত কাল, বলে সে এবং সমস্ত ছায়া একে একে অদৃশ্য হয়ে গেল। এই ঘটনাকে বিজ্ঞান মান্যতা দেয় না, কিন্তু এটাকে বলে মৃত্যু উপলব্ধি বা নিয়ার ডেথ এক্সপিরিয়েন্স। এই ঘটনায় আত্মা জাগরন হয় যা এক প্রকার সিদ্ধি। এটা না হলে আধ্যাত্মিকতার সমুদ্রে সাঁতার কাটার কোন মানেই নেই।
তখনই ভাই ফোন করে এক নতুন ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট দিল। এ্যাপেলো হাসপাতালে এক ডাক্তার বললেন নিউমোনিয়া হয়েছে। কিন্তু উনি নিজেই এটা মানতে নারাজ ছিলেন। তাই বললেন একটা বুকের এক্স-রে বা ছবি করে তক্ষুনি দেখাতে। দেখানো হলো, এক্স-রে দেখে পুরো হতবম্ব। বললেন আমি ভুল আরও বললেন যে প্লুরাল ইফিউসান হয়েছে বা বুকে জল জমেছে। এবং তখনই আমাকে ইমারজেন্সিতে ভর্তি করা হলো। উনি প্রায় পঞ্চাশ জন ডাক্তারকে ডেকে আনালেন। সবার তখন একটাই প্রশ্ন যে আমি নিশ্বাস নিচ্ছি কি ভাবে? মানে বাতাস যাচ্ছে কোথায়? এটা শুধু শুনতে পেলাম সবাই বলছে এটা মেডিক্যাল মিরাকেল বা ডাক্তারি জগতের অলৌকিক ঘটনা। আমার পিঠ থেকে ৩০০-৪০০ মিলি তরল বের করা হয় তিন বারে অর্থাৎ সবশুদ্ধু ৯০০-১২০০ মিলি এবং ইউএসজি করে দেখা হয় তরল কমছে কিনা? দেখা যায় কিছুই কমেনি। যিনি ইউএসজি করছিলেন তিনি বললেন যে আপনি বেঁচে আছেন কি করে? আমি তো বুঝতেই পারছি না। আমি বললাম আমি আপনার সামনে দিয়ে হেঁটে এসেছি এবং আপনার সাথে কথা বলছি। যাইহোক এই ঘটনায় আমার আত্মা জাগরন সম্পন্ন হয়।
আত্মা জাগরন ছাড়া আরো একটি বিষয়ে আমি নিশ্চিত হই যে আমি সময় পরিবর্তন করতে পারি। না ওটা ঠিক মৃত্যুর সময় ছিল না, বরং ঐ ঘটনার প্রয়োজন ছিল, না হলে আজকের জায়গায় আশা যেতো না। যদি মৃত্যু ভাগ্যে লেখা থাকবে তবে মৃত্যুই হতো, বাঁচার সুযোগ আসতো না। কিন্তু আমি কে? এটাই বড় প্রশ্ন ছিল যা বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছিল। এবং আমি যে কালচক্রকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, সেই বিষয়টি নিজেকে জানানোর প্রয়োজন ছিল। মানে সময়কে আমি পাল্টে দিতে পারি। এটা কি কোন সাধারন মানুষ পারে? না, শুধু সময় নয় তার সাথে আমি ঐ জগতের যেকোন বস্তুকে প্রতিস্থাপিত করতে পারি। এই ঘটনার পর এ বিষয়ে আমার আর কোন আগ্রহ ছিল না।
এরপর একটি ঘটনাতে আমার শত্রুরা আমাকে ভয়ানক বিপদে ফেলে। আর্থিক ভাবে শক্তিশালী শত্রুর সাথে কলি যুগে লড়াই করা দুরূহ। ওরা নিজেদের মতো করে আইন বানিয়ে নেয়। প্রশাসনকে ব্যবহার করে, কারন অর্থই সমস্ত অনর্থের মূলে। আর অহংকারী মানুষ এই অর্থ প্রোয়োগ করে সাধারণ মানুষ কে বিপদে ফেলে মজা লোটে।
আমি বাড়িতে সাধারণত একা থাকি, এক তলা ছোট বাড়ি। আর আমি খুব সাধারণ একজন মানুষ, গরিবই বলা যেতে পারে। তো আমাদের জমির ওপর অবাঙালি মারোয়াড়ী প্রোমোটারদের খুব লোভ। অনেক বার ওরা বাড়ি বিক্রি করতে জোর প্রয়োগ করেছে। যখন দেখল যে এতে কাজ হচ্ছে না তখন একটা মেয়েকে জড়িয়ে উপদ্রব সৃষ্টি করল।
এক রাজনৈতিক নেতাকে প্রভাবিত করে প্রশাসনের কাছে আমার বিরুদ্ধে একটি মেয়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশ এসে থানায় ডেকে পাঠায়, থানায় গেলে ১২ ঘন্টা আটকে রেখে নির্যাতন করে। প্রথম দিন আমি ব্যাপারটা কি হচ্ছে ঠিক বুঝতেই পারিনি, তাই দেখতে গিয়েছিলাম। পুলিশকে বললাম আমি তো মেয়েটিকে চিনিই না, নির্যাতনের কোন প্রশ্নই নেই, মিথ্যে অভিযোগ। কিন্তু ওরা কোন কথাই শুনলো না ১২ ঘন্টা বসিয়ে রেখে নির্যাতন করল। আর যখন বসতে পারছিলাম না তখন পুলিশকে বললাম আমার পিঠে ব্যাথা করছে, একটা সেল বা গারদ খুলে দিন, গিয়ে শুয়ে পড়ি। ওরা বললো বাড়ি চলে যান এবং যাওয়ার আগে আরেকটা নোটিশ হাতে ধরিয়ে দিল। মানে আরেক দিন নির্যাতন করা হবে।
আমার বাড়ির সবাই এবং উকিলরা বললেন যে ওরা আমাকে গ্রেফতার করবে তাই আমার উচিত একটি এ্যান্টিসিপেটরি বেল বা আগাম জামিন নিয়ে নেওয়া। প্রথম কথা যা আমি করিনি তার জন্য বেল নেওয়া মানে তো অপবাদ মেনে নেওয়া। আর আমার ঐ বেলের দরখাস্তের জন্য প্রয়োজনীয় পয়সাও নেই।
তখন ওখান থেকে বের হওয়ার রাস্তা খুঁজছিলাম। হঠাৎ মনে পড়ে গেলো আত্মা জাগরনের সেই ঘটনার কথা। আমি সংখ্যা তত্ত্ব শিখিনী, কিন্তু জানি, তার প্রয়োগে আমি আমার পরিস্থিতি জানলাম আর একজন জ্যোতিষি আমাকে কিছু গ্রহ নক্ষত্রের অবস্থান সম্পর্কে অবগত করালো। আমি আমার শত্রুদের গ্রহ নক্ষত্রের অবস্থান ও সময় উল্টে দিলাম আর পরিস্থিতি চলে এলো আমার সম্পূর্ন নিয়ন্ত্রণে।
ফলশ্রুতিতে প্রথমে পরদিন পুলিশ নিজেরাই সময় বদলে দিল আর বলল ওরা পরে যোগাযোগ করবে। এখানেই শেষ নয় ওরা আবার পুলিশকে প্ররোচিত করল। পুলিশ আমাকে ডেকে পাঠিয়ে হুমকি দিল এবং প্রচন্ড দুর্ব্যবহার করে বলল আমার বিরুদ্ধে সমস্ত প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে এবং আমাকে গ্রেফতার করা হবে।
উত্তরে আমি বললাম কিছুই প্রমাণ নেই, এক মিনিটের না এক সেকেন্ডের একটা ভিডিও বা ছবি দেখাতে হবে ঐ মেয়েটির সাথে আমি রয়েছি। আগে দেখান তারপর শাস্তির কথা বলবেন। আর যে মেয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তাকে ডাকা হোক, দুইজনকে বসিয়ে জিজ্ঞাসা কেন করা হচ্ছে না? অচেনা প্রভাবশালী কেউ অপবাদ দিলেই নির্যাতন করতে হবে?
তখন পুলিশ বলল আপনি মেয়েটিকে অনুসরণ করেন না? আমি বললাম এই সত্যটা আপনাদেরকে বের করতে হবে। আমি এটুকু বলতে পারি যে কারন ছাড়া আমি বাড়ির বাইরে বের হই না, তা সপ্তাহে খুব বেশি হলে একবার। ওদের কাছে কোন প্রমানই নেই, তবু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্ররোচনায় হুমকি দিয়ে ফাঁসানোর চক্রান্ত চলছিল। আর এই মারোয়াড়ী গুলো প্রোমোটার, বাড়ি বিক্রি করার জন্যে আমাকে চাপ দিচ্ছে। একতরফা তদন্ত করে লাভ নেই, আর আপনার ধারণাই নেই যে আপনি কার সাথে লড়াই করছেন। এরপর টের পাবেন আমি কে, সব কালীর ভোগে দিয়ে দেবো কেউ ছাড়া পাবে না।
আর মিথ্যা অভিযোগ করে আমাকে জেলে পুরে ঐ শয়তানের দল ছাড়া পাবে না। শুধু কালী ওদের চিবিয়ে খাবে না, দুনিয়ার অন্ত হয়ে যাবে, কেউ ছাড়া পাবে না। আজকের পরিস্থিতি উল্টে যাবে। পুলিশ বলল আপনি বাড়ি যান। এরপর আমি ঐ মারোয়াড়ী গুলোকে বললাম তোদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে, হলোও তাই লকডাউনে ব্যবসা বন্ধ। আরো বড় লকডাউন আসছে যা চলবে বছরের পর বছর, এবং সবটাই হচ্ছে ঐ অসভ্য ইতর শয়তান অহংকারী মারোয়াড়ীদের জন্য। যতক্ষণ ওরা থাকবে ততদিন করোনাভাইরাসও যাবে না আর লকডাউনও না।
অনেকে প্রশ্ন করতে পারে এখানে মারোয়াড়ীদের সাথে শত্রুতা তবে বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় করোনাভাইরাসের আগমন ঘটেছে কেন? আমার উত্তর খুব সোজা, পাপ কি শুধু এক জায়গায় ঘটছে? সারা পৃথিবীতে পাপাচারে ভরে গেছে, মানুষের একটা ধাক্কার প্রয়োজন ছিল। আর যেকোন অস্ত্র চালাতে গেলে একটা ট্রিগারের প্রয়োজন হয়, এই মারোয়াড়ীরা হলো এর ট্রিগার। এছাড়া আরো এমন কিছু সমস্যা আছে যা কার্যকর হলে কোটি কোটি মানুষের ক্ষতি সাধন হতো, সেই সব আটকানোর প্রয়োজন ছিল। এক অস্ত্রে বহু সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। যেমন আমার উপর হাইপোডারমিক সিরিঞ্জ নিয়ে আক্রমণ চলেই চলেছে। লকডাউনে নতুন নিয়মে নুন্যতম তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। ফলে লকডাউন পর্বে আমাকে হাইপোডারমিক সিরিঞ্জের খোঁচা খেতে হয়নি, কিন্তু আনলকডাউন পর্বে তা পুনরায় শুরু হয়েছে। ফলে এই লকডাউন বেড়ে ওঠাটা একপ্রকার নিশ্চিত।
আমি আমার শুধু নয় যেকোন মানুষের সময় বদল করে দিতে পারি, কারন আমিই হলাম মহাকাল।
আর তা না হলে আমার অবস্থা অন্য সকলের মতো হতো। শক্তি যখন অজানা থাকে না তখন শক্তিকে সম্পূর্ণ রূপে ব্যবহার করা যায়। এর মধ্যে এই শত্রুরা আমাকে খুন করার চেষ্টা শুরু করে দিল। গুন্ডা ভাড়া করে নিয়ে এলো, রাস্তায় বের হলে পিছনে তিন চারটি গাড়ি ভর্তি লোক বন্দুক বের করে দেখায়। একদিন বাড়ির বারান্দায় বন্দুক নিয়ে হামলা চালানো হলো, কিন্তু গুলি বের হলো না। আমি আর পুলিশে অভিযোগ জানাই না, কারণ গরীব মানুষের কথা কেউ পাত্তা দেয় না। বাড়ির আশেপাশে উটকো লোকজন এসে জুটল, তখন আমার স্বজ্ঞা আমাকে জানান দিতে লাগল যে শত্রুরা খুন করতে চেষ্টা করছে। এর মধ্যে আমার ওপর কিছু হামলা চালানো হয়েছে কিন্তু ফল সেই শুন্য।
এমনকি গতকালও আমার উপর হাইপোডারমিক সিরিঞ্জ দিয়ে বিষ প্রোয়োগ করা হয়েছে। বাড়িতে তো আর বসে থাকা যাবে না, দোকান বাজার করতে যেতে হয়। আর তখনই ঐ মারোয়াড়ীরা আমার ওপর গুপ্ত ঘাতক দিয়ে হামলা চালায়।
কলি যুগে কর্ম হলো প্রধান বিনাশক, অর্থাৎ ঈশ্বর ইচ্ছা করলেই বিনাশ করতে পারে না। কিন্তু ঈশ্বর হয় বিনাশের প্রধান কারন। প্রানঘাতী হামলা গুলো হওয়ার পর ত্রিকালদর্শী শক্তিতে দেখতে পেলাম ওদের পরিনতি কি হতে চলেছে। আর এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, কারন আর দেরি নেই। মহাকাল হলো এমন এক শক্তি যা এক নিয়মে চলে, মানে সমস্ত মানুষের জন্য এক নিয়ম। কিন্তু যখন কেউ আমার সাথে যেচে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয় তখন সে চলে আমার সময়ে আমার নিয়মে এবং আমার ইচ্ছায়। আমি শত্রুকেও সুযোগ দেই, কিন্তু কেউ যদি তার সদ্ব্যবহার করতে না পারে এবং শত্রুতা টিকিয়ে রাখে সেখানে আমি আর কি করতে পারি।
আরো বললাম যে তোরা যাবি কালীর ভোগে। এই প্রবন্ধটি অনেক আগে লেখা, কিন্তু পোস্ট করিনি কারন কালীর ভোগের শুরুটা না হলে পোস্ট করা যাচ্ছিল না। ইতিমধ্যে আমাকে দেখানো হয়েছে যে আমার শত্রুদের কি পরিনতি হতে চলেছে? কিন্তু আমি সন্তুষ্ট হতে পারিনি, কারণ এই মারোয়াড়ীরা ভারতের সমস্ত তান্ত্রিকদের আমার বিরুদ্ধে নামিয়েছে। তখন আমাকে শান্ত করার জন্যে কালী আমার কাছে রক্ত শপথের অঙ্গীকার করে। সেই সময় থেকে চলছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা। আজ ঐ শয়তান গুলোর একাধিক সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
আর আমরা সবাই অবগত আছি যে ভারতের সাথে চায়নার সম্পর্কে অবনতি হয়েছে। কারন করোনাভাইরাসের সময় যখন দেখলাম, চায়না থেকে আমদানি বন্ধ হয়নি তখন ঐশ্বরিক অলৌকিক ক্ষমতার প্রয়োগ করতেই হলো। ফলে হঠাৎ ভারতের সাথে চায়নার গোলমাল শুরু হয়ে গেল। আর আমার ভাবনায় জগৎ চলে, আমি চাইছিলাম যে চায়নার পন্য ভারতের মানুষ বর্জন করা শুরু করুক। ফলে আগে থেকেই চায়নার পন্য বর্জনের ডাক দিয়ে কিছু কিছু সংগঠন আন্দোলন শুরু করেছিল। চায়নার সাথে ভারতের ব্যবসা বন্ধ এখন শুধু কিছু সময়ের অপেক্ষা। আমার কারোর ব্যাপারে কোন আগ্রহ নেই, যেখানে থাকি সেখানে কোন মানুষের সাথে কথাও বলিনা। কিন্তু যখন কেউ যেচে শত্রুতা করে এবং শত্রুতা করা থেকে ক্ষান্ত হয় না, তখন তাদের বিনাশ কেউ আটকাতে পারে না।
সবাইকে গীতার শ্লোকের অংশটা মনে করিয়ে দেই আরো একবার।
“পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশয় চ দুষ্কৃতাং। ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে॥”
অর্থাৎ, মনুষ্য দেহ ধারণপূর্বক অবতীর্ণ হই; সাধুগণের পরিত্রাণ, দুষ্টদিগের বিনাশ এবং ধর্ম সংস্থাপনের জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই|
ঈশ্বর রাস্তায় নেমে যুদ্ধ করে না, প্রয়োজনও পড়ে না। আসলে টিভি সিরিয়ালে শ্রী রামের যুদ্ধ দেখে সবার ধারণা হয়েছে যে ঈশ্বর বোধহয় মানুষের মতো যুদ্ধ করে।
তাহলে মানুষের সাথে ঈশ্বরের তফাত কি থাকবে? যদি প্রয়োজন পড়ে, তখন সারা পৃথিবীর মানুষকে দেখিয়ে দেবো ঈশ্বরের শক্তি কি? তবে সেটা মানুষের পৃথিবীতে শেষ দিন হবে।
আমার লেখা পড়ে সবাই আমার কথা হয়তো বিশ্বাস করতে পারছে না। কিন্তু সবাই কি অস্বীকার করতে পারে যে তথাকথিত ভগবান ও ধর্মের উপাসনালয় গুলো এখন অস্তিত্বের সংকটে?
আর আমার কথা যে সত্য সেটা অনেকেই জানে। তারা মূর্খ, তাই তারা আমার পরিচয় গোপন রেখেছে। একটা কথা বলি যে এই যুদ্ধ চলতে চলতে কিন্তু মানব সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে। আর এটা কিন্তু বহু আগেই পরিকল্পনা করা হয়েছে, আমি সুযোগ দিয়েছি কিন্তু এখনও পর্যন্ত কেউ তার সদ্ব্যবহার করতে পারে নি।
এই যে লিখছি তখন মারোয়াড়ীদের নিয়োজিত তান্ত্রিকরা আমার উপর তান্ত্রিক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। যজ্ঞ চলছে, হোম হচ্ছে যদি আমাকে মারা যায়। দুনিয়ার কোন তান্ত্রিকের সাধ্য নেই, এমনকি কোন জন্মে আমাকে স্পর্শ করার ক্ষমতা জন্মাবে না। তবুও এই বিষয়টি ভীষণ বিরক্তিকর।
আমার কিন্তু আর পিছনে যাওয়ার উপায় নেই। এই মারোয়াড়ীরা, শুধুমাত্র একটি পরিবার নয় সম্পূর্ণ মারোয়াড়ী জাতি আমার সাথে শত্রুতায় নেমেছে। আগের শত্রুরা ছিলই এখন অকাল বোধনের জন্য সব এক সাথে এসে জুটেছে। মহাভারতের সময় শ্রী কৃষ্ণের সাথে ঠিক এই ব্যাপারটাই ঘটেছিল। যদিও তখন পৃথিবীকে ধ্বংস করে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত বা তাৎপর্য তৈরী হয়নি। আমার কথা মানুষের কাছে যাতে না পৌঁছাতে পারে তার জন্য আমার ওয়েবসাইট, পেজ এবং পোস্ট নিয়মিত ব্লক করা হয়, এবং এটা সহজেই অনুমেয় যে আমার শত্রুরা আর্থিক ভাবে ঠিক কতোটা শক্তিশালী। যারা অহংকারী এবং আর্থিক ভাবে শক্তিশালী তারাই অনৈতিক কাজ কর্মে লিপ্ত থাকে। এরা বিগত পঁচিশ বছর ধরে আমাকে খুন করার চেষ্টা করে আসছে। আমার সমস্ত কর্ম কান্ড অনৈতিক ভাবে নষ্ট করেছে। আমি শুধু সহ্য করে গেছি বদলে মিলেছে দুঃস্থতা, আর্থিক অনটন, সামাজিক ও পারিবারিক নির্যাতন, অপমান।
কিন্তু আমার শত্রুরা পদে পদে আমার কাছে পরাজিত হচ্ছে। ঈশ্বরের তৈরী জগতে ঈশ্বরের থেকে শক্তিশালী আর কিছু হতে পারে না। কিন্তু একটা কথা আছে :
“বিনাশ কালে বিপরীত বুদ্ধি।”
ওদের ধারনা যে ওরাই যুদ্ধে জয়লাভ করবে। কিন্তু এই জয়লাভের “জয়” টাই আমি। আমার নাম ছাড়া তথাকথিত কোন পরিচিত ভগবানের নাম নেওয়া যায় না।
আমি অপেক্ষা করছি আমার শত্রুদের তরফ থেকে আর একটি ভুল পদক্ষেপের। আর তার সাথে সাথে মহা প্রলয় শুরু হয়ে যাবে অর্থাৎ মানব জাতির বিনাশ।
যা সত্য তাই লিখেছি, অযথা কেউ কটাক্ষ করে সমস্যা তৈরি করো না। বিশ্বাস অবিশ্বাস নিজের নিজের জায়গা থেকে করতে হবে। মিসিং লিঙ্ক খুঁজে পেলে আমার কথা যুক্তি যুক্ত মনে হবে।
আমাকে মারোয়াড়ীরা নির্যাতন করেছিল পুলিশ দিয়ে। কয়েক শত মারোয়াড়ী আমাকে মারার জন্যে আমাদের বাড়ির সামনে তান্ত্রিকদের দিয়ে পুজো করিয়ে ছিল। আমি জেনেছিলাম এরা চায়না থেকে পন্য আমদানী করে বিক্রি করে। তাই যখন বলেছি যে তোদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে তখন করোনাভাইরাসের দাপট চায়নায় হয়েছে অন্য কোথাও হয়নি। মনে রাখতে হবে যে এই ভাইরাস চায়নায় আগে একবার এসেছিল, অর্থাৎ নতুন নয়। আর করোনাভাইরাসের কারনেই লকডাউনের সুত্রপাত হয়েছে। আর এখানে শত্রু কোন একটা মানুষ নয়, পুরো একটা জাতি ফলে করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী রোগের আকার ধারণ করেছে। লকডাউন হওয়ার পরেও ইন্ডিয়া চায়না থেকে পন্য আমদানি করছে, বন্ধ করেনি। ফলে বন্ধু চায়না যে লকডাউনের সময় টেস্ট কিট ভারতে পাঠিয়েছিল তারা শত্রুতে রুপান্তরিত হয়েছে। আমি চাই মারোয়াড়ীরা নিঃস্ব হয়ে যাক ওদের অকাল বোধনের আগে। ফলে সেই সমস্ত কিছু ঘটে চলেছে শুধুমাত্র ওদের জন্যে এবং আমার অন্যান্য শত্রুদের কারনে। এবং আগামী দিনেও ঘটবে যদি প্রয়োজন পড়ে। যে বা যারা ওদের সহযোগিতা করবে তারাও আমার শত্রু বলে বিবেচিত হবে এবং ওদের মতই অবস্থার স্বীকার হবে।
আর বলেছিলাম তোদের কালীর ভোগে দেবো। তাই ওরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে এবং করোনায় বিলীন হয়ে যায় তো ভালো, না হলে খুব শীঘ্রই পঞ্চভূতে পঞ্চত্ব প্রাপ্তি হয়ে যাওয়ার নুতন রাস্তা তৈরি হবে। দরকার পড়লে মহা প্রলয় আসবে, তার সমস্ত উপকরণ প্রস্তুত হয়ে রয়েছে। বিগত কয়েক দিন কিছু মহাজাগতিক প্রস্তর খন্ড পৃথিবীর পাশ কাটিয়ে চলে গেছে। পরের গুলো পৃথিবীতে এসে পড়বে যার ভবিষ্যদ্বাণী হয়ে রয়েছে এবং ততোদিন করোনাভাইরাসও যাবে না। সবাই নোট করে রাখতে পারে। এতো কিছুর পরেও যদি মানুষ বিশ্বাস না করে যে আমি মহাকাল তবে আমি অপরাগ।
আমাদের ব্লগটি লাইক দিয়ে অনুসরণ করুন এবং আপনার পরিচিতদের কাছে শেয়ার করে সকলকে ঈশ্বরের রহস্য জানতে দিন। প্রবন্ধটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন। আপনি আপনার সমস্যার কথা আমাদের জানাতে পারেন। আমরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যেকোন সমস্যার তান্ত্রিক, আধ্যাত্মিক ও ঐশ্বরিক সমাধান দিয়ে থাকি ।
Discover more from Adhyatmik
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

