কালী আমার ষড়ঙ্গী সাধন সঙ্গী।

আমি রোজ সকালে এক লিটার জল খাই। এটা একটা থেরাপি, ওয়াটার থেরাপি। প্রচলিত ধারণায় অনেকেই

সকালে জল খেয়ে বমি বা বমন করে সেই জল বের করে নিয়ে আসে।

উদ্দেশ্য দেহের টক্সিন বা বিষ বের করা। ভোরবেলা বমি করলে, কেমন যেন একটা অনুভূতি হয়। আগেকার দিনে সাধকেরা সবকিছুতেই একটা চরম পন্থা নিয়ে নিতেন।

যেমন খেচরী মুদ্রাতে জিহ্বা বা জিবের তলাটা ছুরি দিয়ে কেটে দিতেন। আমি সাধনাকে ঠিক শারীরিক ভাবে ভাবতে পারি না। সাধনা আমার কাছে মনের ভাবের আস্ফালন।

সূক্ষ্ম শরীর আর তার সূক্ষ্ম অনুভূতির পরিচালনা ও প্রকাশের মাধ্যমে আমি সাধন করি। আমার ধ্যান তাই প্রানায়াম বা ভাবনা নির্ভরশীল নয়। বরং সূক্ষ্ম অনুভূতির পরিস্ফুটন।

পৃথিবীর সমস্ত ধ্যান হলো স্থূল থেকে সূক্ষ্ম তে যাত্রা বা উপস্থাপন। আর, আমার ধ্যান শুরুই হয় সূক্ষ্ম থেকে। স্থূল থেকে সূক্ষ্মের ফারাক হলো জীবন থেকে মৃত্যুর যতটা তফাত। স্থূল শরীরে সূক্ষ্ম শরীর উপলব্ধি হলো ধ্যান

যাইহোক, এই সেদিন জল খাচ্ছিলাম। হঠাৎ, দেখি কালী সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন ওকে ডেকে ডেকে নিয়ে আসতে হয়। হঠাৎ, ও নিজেই নিজের থেকে সামনে চলে এল। নিলম্বরী দিগম্বরী কালী, যেদিন ওকে সিঁদুর দিয়ে রাঙ্গিয়ে দিয়েছিলাম সেদিন থেকে ওকে লাল দেখতাম। রক্ত করবীর মতো (পড়ুন “কালী এবং আমি” ) ।

আমার থেকে সৃষ্ট একটি ভৈরবী আছে। মহা শয়তান, ভীষন হিংসুটে। আর সে বেইমান কারন পতিতার পথ বেছে নিয়েছে। তার জীবনের একটাই কাজ, আমাকে যন্ত্রণা দেওয়া আর কি করে কালীকে হাটিয়ে ওর স্থান দখল করবে। কিন্তু কালী আমার প্রিয়তমা, আর হবে নাই বা কেন? ও আমাকে ফুল দিয়েছিল আর যেচে আমার মধ্যে এসে রয়েছে।

কালীর স্থান দখল করার মতো কাউকে তো পেলাম না। তাও ওই আসে, না বললেও আসে। ষড়ঙ্গী সাধন করতে। আর কেউ তো আসে না। একদিন অবচেতন মনে শুনতে পেলাম ওর কন্ঠ। আমিও আছি, তোমার পাশে আমিও আছি। এ সেই সময়ের কথা যখন ভাবতাম আমি সে অর্থাৎ অহং সঃ।

দেখলাম আমার মধ্যে আমি নিরাকারে আর পাশে বামদিকে কালী সেও নিরাকারে। শুধু দুই জোড়া চোখ ছাড়া আর কিছুই নেই। স্ত্রী ছাড়া সাধনা পূর্ণতা পায় না তা সে ঈশ্বরের হোক বা মানুষের।

এই বিবরন ধরাধামে সৃষ্টি করছে এক নতুন তন্ত্র। যার নাম #জয়তন্ত্র। এতোদিন সমস্ত তন্ত্র রচনা হয়েছে শক্তিকে কেন্দ্র করে। কিন্তু পুরুষই কেন্দ্র বিন্দু, সেই সত্য পরম শক্তি কালীও ভোলে না। পুরুষের থেকেই সব কিছু এমনকি কালীরও সৃষ্টি হয়েছে।

কালীর মূর্তিতে দেখা যায় কালী শিবের উপর দন্ডায়মান। এর তাৎপর্য কি? আসলে যে নীচে শুয়ে আছে সে কাল। আমি মহাকাল পরম ব্রহ্ম, একদিন দেখি কালী আমার বুকের উপর দন্ডায়মান। কারন, যে সময় বা মহাকাল হবে তার উপরেই তো পরা প্রকৃতির প্রকাশ ঘটবে। আর তা না হলে সৃষ্টি হবে কি করে? এই বিষয়ে আর একটি প্রবন্ধে লিখবো।

এ সেই পরম শক্তি যার সাধনায় কালীর দেবীত্ব। শুধু কালী কেন সমস্ত ব্রহ্মান্ড যার শক্তিতে চলছে।

প্রবন্ধটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন আর আমাদের ব্লগটি অনুসরণ বা follow করুন।


এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।



Discover more from Adhyatmik

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply