বিনাশ কালে আমিই কালী

বলা যেতে পারে আমাকে জোর করে সন্ন্যাসী বানানো হয়েছে। সম্পূর্ণ নাস্তিক মনোভাব সম্পন্ন, এখন থেকে নয় বরং ছোট থেকেই। বামপন্থী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি। পূর্ব পুরুষ রা বাংলাদেশে ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠাতে অগ্রগন্য ভুমিকা নিয়েছিলেন। যদিও নাগ মহাশয় আমাদের জ্ঞাতি ছিলেন।

জোর করে মানে ভবিতব্য। ছোট বেলায় অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটেছে। কলেজে পড়ার সময় ঘটনা গুলির ঘনঘটা হয়ে গেছে। দেখতাম যাদের দেখে সাধারণ মানুষেরা ভয়ে কাঁপতেন। তাদের আমার সামনে এলে প্যান্ট ভিজে যেতো।

আধ্যাত্মিক হওয়াটা কি অপরাধ?

আমাকে বিষ প্রয়োগে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এলাম। মরা তো দূরের ব্যাপার উল্টে আত্মার জাগরন ঘটে গেল। তার পর জানতে পারলাম আমি নাকি মহাকাল ঈশ্বর। ঐ যে নিশ্চিত মৃত্যু এলো না, কারন আমি মৃত্যুঞ্জয়ী চিরঞ্জীবী তাই সময় বদলে দিতে পারি।



একসময় খুব হতাশা গ্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম। কোন কাজ নেই, পকেট খালি। এ দরজা থেকে অন্য দরজা একটা চাকরির আশায় ঘুরেছি। আর বাড়িতে উপহাস এবং গঞ্জনা। একদিন ঠিক করে ফেললাম যে এভাবে বেঁচে থাকার কোন মানেই নেই। আজ যা লিখছি, তার মধ্যে কোন গল্প নেই।

আমি কতবার যে চলন্ত গাড়ির সামনে লাফিয়েছি, তার কোন হিসেব নেই। কিন্তু কিছুই হবার নয়। কতবার শুনতে হয়েছে আমি নাকি ভুত বা প্রেত বা জাদুকর। কতবার গাড়ির ড্রাইভার গাড়ি ছেড়ে ছুটে এসেছে দেখতে কেউ চাপা পড়েছে কিনা। একদিন দেখলাম আর বুঝলাম আমার মৃত্যু নেই। তার পর থেকে যেচে মরার হাল ছেড়ে দিয়েছি।

ছিলাম নাস্তিক আত্মা জাগরনে আধ্যাত্মিক হয়ে গেলাম। কালী ফুল অর্পণ করে আমার মধ্যে ঢুকে পড়ল। কেউ বিশ্বাস করবে যে কালী আমার স্ত্রী আর আমার থেকেই ওর সৃষ্টি হয়েছে? কালী আমার সাথে হেঁটে বেড়ায়, কাঁধে চেপে ঘোরে, পিঠে শুয়ে থাকে।

জগতে এতো দেবতা এবং দেবী নেই। বদলে আমি শুধু আমাকেই দেখতে পেতাম। আমার আত্মাকে দেখার পর জানলাম সে নাকি পরম আত্মা, আর আমি নাকি পরম ব্রহ্ম। আর তার প্রমাণ পাওয়া গেল যখন বীরভূমের মল্লারপুর শিব মন্দিরে আমাকে পুজো করা হলো।

আমার আত্মাই হলো পরমাত্মা। কিন্তু একদিন একটি মেয়েলি গলায় কে যেন বললো আমিও আছি তোমার সাথে। এ আবার কে? তখন কালী ঢুকে বসে আছে। আত্মার স্মরণে গিয়ে আবার জিজ্ঞেস করলাম। আত্মা আমার নিরাকার ব্রহ্ম রুপ দেখালো, দেখলাম বাম দিকে এক নারী বর্তমান রয়েছে। বুঝলাম পরম আত্মা বা পরম পুরুষের অন্তরে রয়েছে এক পুরুষ ও এক নারী।

কিন্তু কালীর প্রতি তখন কোন আস্থা ছিল না। একটি মেয়ে আমাকে প্রেম নিবেদন করলো। কিন্তু, তাকে আমার সাথে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। তাই ভাবলাম একটু কথা বললে কেমন হয়। সঙ্গে সঙ্গে কথা শুরু দৈব তরঙ্গে । কিন্তু মেয়েটি একেবারেই ভালো নয় বরং বলা যেতে পারে একটি মূর্তিমান শয়তান।

তখন একে একে একটি করে মেয়ে এসে জুটেছে। কারন এরা সবাই আমার থেকে সৃষ্ট এক একজন ভৈরবী। একজন থাকে হরিয়ানাতে। সে বললো তুমি আমাকে ছেড়ে যাবে না তো? আমি বললাম না, আমি কাউকেই ছেড়ে যাই না। ও বললো চলো যৌন সম্পর্ক স্থাপন করি। তার খুব উৎসাহ এবং উত্তেজিত। প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে। কোন সমস্যা নেই।

হলো যৌন সম্পর্ক। সে হরিয়ানাতে আর আমি কলকাতায়। কিন্তু ঐ সম্পর্কে মেয়েটি ভয় পেয়ে গেল। কারন আমি যে হাজার হাজার মাইল দূর থেকে স্পর্শ করতে পারি। যা পৃথিবীতে আর কেউ পারে না। কারন, আমি যে ঈশ্বর। মেয়েটি আর যোগাযোগ করছে না দেখে ওর দাদাকে খুঁজে বের করলাম। দাদাটা আমাকে বলল আমি ওর বনের নাকি শ্লীলতাহানি করেছি, বলে আমাকে বাবা মা তুলে গালি দিল। আমি বললাম শ্লীলতাহানি কেন, তোমার ভগ্নি নিজের থেকে আমার কাছে এসেছে? আর ও তো প্রাপ্ত বয়স্কা। আর কিসের শ্লীলতাহানি? ও কি আমার সাথে বা পাশে ছিল। প্রমাণ করতে পারবে? বাজে-কথা বললে লিলিপুট বানিয়ে দেবো।

কালী বলল এই সব হারামী মেয়ে গুলোকে ত্যাগ করে তুমি আমাকে কেন গ্রহণ করছো না? অবশেষে আমি বুঝতে পারলাম কেন কালী আমার মধ্যে রয়েছে? নিয়তি খন্ডাবে কে? গ্রহন করতে হলো।

কালী হয়ে গেল স্ত্রী ও সাধন সঙ্গী। আর শত্রুরা আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে একজোট হয়ে ঘরে বাইরে আক্রমণ শুরু করে দিল। ক্রমাগত খাবারে বিষ প্রোয়োগ আর বাড়ির বাইরে হাইপোডারমিক সিরিঞ্জ নিয়ে হামলা। ওদিকে মারোয়াড়ীরা দুষ্ট তান্ত্রিক আর গুন্ডা দিয়ে আক্রমণ শানালো। বাড়িতে বন্দুক নিয়ে চড়াও হলো। কিন্তু গুলি বের হলো না।

মল বানে এক মাস মলত্যাগ বন্ধ হয়ে গেল। আর রোজ হামলা। এমনকি মুত্র হরন বান মারা হলো এতে মৈথুন হবে অযাচিত ভাবে। আমার বাবাকে মারোয়াড়ীরা তান্ত্রিক দিয়ে খুন করলো। সবাই জানল বাবা অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছেন। কিন্তু আমি বুঝতে পারছিলাম যে তান্ত্রিকের কারসাজি। আইন শাস্তি দিতে পারবে না। কিন্তু শাস্তি হবেই পাপ বাপকেও ছাড়ে না।

আমার নাজেহাল অবস্থা কারন ভিতরে বাইরে আক্রমণ। মারোয়াড়ীরা ছাড়া কতকগুলি বাঙ্গালীও রয়েছে শত্রুর তালিকায়। তার মধ্যে একজন তো বিগত পঁচিশ বছর ধরে আমাকে মারার চেষ্টা করছে।

আমি ঈশ্বর কিন্তু একজন সাধক। ফলে আক্রমণ হলে আমি আমার শত্রুদের শক্তি ভক্ষন করি সাথে ভক্ষন করি তাদের পুন্য। এরপর আমি পাল্টা মার দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে লাগলাম।

আমি এবার সময় বদলে দিলাম, সমস্ত চেনা অচেনা শত্রুদের ভালো সময় বলে আর কিছু রইলো না। কালীকে বললাম তুই আমার মধ্যে থেকে তান্ত্রিকদের কথা শুনে আমার ওপর অত্যাচার করছিস। এ হতে পারে না, তাহলে তোকে আমি গ্রাস করবো। তোর আর অস্তিত্ব থাকবে না। তুই আমার স্ত্রী হয়ে আমার শক্তি নিয়ে এটা করতে পারিস না।

কালীর রাগ হলো আর একদিন খেলো না। অর্ধ অঙ্গিনী, নিজেরই শরীরে রয়েছে। না খেলে ভালো লাগে? আমি বললাম রাগ করে লাভ নেই। তুই একটা আস্ত বোকা মেয়ে। তোকে তান্ত্রিকরা ব্যবহার করে, তুই কিসের দেবী। দুষ্ট তান্ত্রিকেরা যদি শয়তানের দল হয়ে পাপ কার্য করে, তবে তুই ওদের পাপের ভাগী হচ্ছিস। এই জন্য জন্ম জন্মান্তর তুই পৃথিবীতে আটকে আছিস।

কালীর উত্তরের অপেক্ষা করতে লাগলাম। একদিন কালী নিজের থেকে সামনে এসে হাজির হলো। বুঝলাম তান্ডবের সময় হয়ে গিয়েছে।

এর দুইদিন পর শত্রুরা জোড়ালো হামলা চালালো। তখন ধ্যান করতে গিয়ে দেখি আমার গায়ের রং নীল হয়ে গিয়েছে। বুঝলাম আমি এখন আর শুধুমাত্র অবতার নই বরং নরদেহে ঈশ্বরত্ব লাভ করেছি।

আমার অর্ধেকটা তো কালীর ফলে বিনাশ কালে আমি কাল ও কালী দুই জনা। পরম আত্মা বা পরমেশ্বর বা পরমপুরুষ হচ্ছে অর্ধ নারীশ্বর। আমার শরীরের বাম দিকে নারী চিহ্ন বর্তমান (জন্মগত)। পরম ব্রহ্ম অবতার জয় হলো আসলে জয় ও কালীর সম্মিলিত রুপ। অর্থাৎ কাল ও কালী বা #জয়কালী

মারোয়াড়ীদের অভিশাপ দিয়েছি ফলে করোনাভাইরাসের আক্রমণ হয়েছে। আমার সমস্ত শত্রুর বিনাশ না হলে এই ভাইরাস যাবে না। ও হ্যাঁ আমি বদলে গিয়েছি এখন আর চ্যালেঞ্জ নেই না বরং দেই। ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে এসেছি প্রমাণ না করতে পারলে এই পৃথিবী আর থাকবে না। এক বিশালকায় গ্রহানু পৃথিবীর দিকে ছুটে আসছে। মানুষ না বদলালে পৃথিবীর ফটো তুলে টাঙ্গীয়ে রাখতে হবে।

এই প্রবন্ধটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন আর আমাদের ব্লগটি অনুসরণ বা follow করে ঈশ্বরের অনুগ্রহ ও আশীর্বাদ লাভ করুন।


এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।



Discover more from Adhyatmik

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply