
দৈব্য বানী যার জীবনের গতি পথকে তরান্বিত করে তার জীবন অলৌকিক হবে, এ আর নতুন কথা কি?
আজ আমার জীবনের একটি অভিজ্ঞতার কথা বলবো। পাঠক কূল ঠিক করবেন তার অলৌকিকতা। অনেক দিন আগে একদিন স্বপ্নে দেখলাম কালী আমাকে একটা টকটকে লাল জবা ফুল দিল বা অর্পণ করল। স্পষ্ট দেখলাম কালী তার জিহ্বা প্রসারিত না করে আমার সামনে নৃত্য করতে করতে এলো এবং একটি লাল জবা ফুল আমার হাতে দিল।
কিন্তু, কালী আমাকে কেন ফুল দেবে এই ব্যাপারটা ঠিক বোধগম্য হল না। যাইহোক তখন আমি ছোট খাটো একটা ব্যবসা করি। আমার মার্কেটিং যে ছেলেটি দেখতো, সে আমার চেম্বারের বাইরে ঘুর ঘুর করছিল। তখন আমি তাকে ডেকে বললাম, কি হে কালীর ফুলটা তুমি তো আমাকে দিলে না?
কালী ঘাট মন্দিরের প্রধান পুরোহিতের স্ত্রীকে সবাই বড় মা বলত। ঐ ছেলেটির পরিবার তার কাছে দীক্ষা নিয়ে ছিল। তাকে ঐ মহিলা ডেকে বলেন যে তিনি একটি দৈব আদেশ পেয়েছেন। সেটা হলো কালীর মাথায় দেওয়া বা ঠেকানো একটি জবা ফুল আমার কাছে পৌঁছতে হবে। যদিও তিনি আমাকে চিনতেনও না বা কখনো চোখেও দেখেননি। ঐ দৈব বানী তে আমার সম্পূর্ন পরিচয় জ্ঞাপন করা হয়।
ছোট বেলা থেকে আমাকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দৈব বানী হয়ে এসেছে। তার গল্প ভিন্ন। ছেলেটি ঐ পুরোহিত পত্নীকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল যে আমি একজন চরম নাস্তিক। কিন্তু মহিলা বলেছিলেন যে আমি নিজে যেচে ফুল চেয়ে নেব। এখন বুঝি ঐ ছেলেটি এমনকি ব্যবসাটি পর্যন্ত হয়েছিল এই ফুলের জন্যে। কারণ ঐ ব্যবসাটি ঐ ফুলের ঘটনার পর বন্ধ হয়ে যায়।
এর অনেক দিন পর এক বিষকন্যা আমার উপর বিষ প্রোয়োগ করে। এবং এর ফলে আমি দীর্ঘকালের জন্য অসুস্থ হয়ে পড়ি। এমনকি একবার মৃত্যু মুখে পতিত হই। সেইদিনের কথা বেশ মনে আছে। গত এক মাস দুই চোখের পাতা এক করতে পারিনি। প্রচন্ড শ্বাস কষ্টে ৩০ দিন ১০৪°c জ্বর নিয়ে বসে বসে কাটাতে হয়েছে। কোন চিকিৎসক কিছুই ধরতে পারছিল না।
একদিন দেখি ঘরে অনেক কালো কালো ছায়া। তারা সবাই আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। আমি ভাবলাম মৃত্যু আসন্ন প্রায় তাই আত্মীয় স্বজন সব দেখতে এসেছে। ঐ ছায়ার মধ্যে একজন হঠাৎ আলোকিত হয়ে উঠলো। সে বললো তোমার শেষ সময় এসে গিয়েছে। আমি বললাম কিসের শেষ? আমি আমার কোন কাজ এখনও শেষ করে উঠতে পারিনি। এখন তো যাওয়া হবে না। ছায়া মূর্তিটি বলল যে তুমি যদি থাকতে চাও তবে জগৎ সংসারে তুমি একমাত্র ব্যক্তি যে অনন্ত কাল থাকতে পারে। কিন্তু তোমাকে কাল চক্রকে ঘোরাতে হবে।
আমি প্রশ্ন করলাম এই কাল চক্রকে কোথায় পাবো। সে বলল নিজের মধ্যে দেখো। দেখলাম একটা বিরাট চাকা ঘুরে চলেছে। এতো বিশাল যে তার পাশে নক্ষত্র, ছায়া পথ সব পুঁচকে বিন্দু। আমি বললাম এতো বিশাল একে কিভাবে ঘোরাবো? ছায়া বলল একেই ঘোরতে হবে, চেষ্টা করো। আমি উল্টো দিকে টানা টানি করতে লাগলাম। কিছুই হয় না, তখন বললাম এ অসম্ভব। তখন ছায়াটি বলল গায়ের জোরে তুমি একে ঘোরাতে পারবে না, বদলে অন্তরের শক্তি প্রয়োগ করো। অন্তরের শক্তি প্রয়োগ করতে ম্যাজিক হয়ে গেল। চাকা উল্টো দিকে ঘুরতে লাগলো। তখন সমস্ত ছায়া মূর্তি মিলিয়ে যেতে যেতে বলল যে তুমি সে, যে অনন্ত কাল ধরে ছিল এবং থাকবে। আমি অনন্ত কাল কোথায় থাকবো এ কথা জানা হয়নি। কিন্তু এর পরে আমি সুস্থ হয়ে উঠি।
এই ঘটনাকে নিয়ার ডেথ এক্সপিরিয়েন্স বা মৃত্যু উপলব্ধি বলে। এটা একরকমের সিদ্ধি, এর থেকে আমার আত্মা জাগরন ঘটে গেল। এবং এর অনেক পরে আমি একটি সমস্যায় জর্জরিত হয়ে যাই। এবং তখন সেই সমস্যা থেকে বের হবার রাস্তা খুঁজছিলাম। হঠাৎ সেই আত্মা জাগরনের কথা মনে পড়ে গেল। আমি যখন সময় পরিবর্তন করতে পারি তবে গ্রহ নক্ষত্রের সময়ও নিশ্চয়ই বদলাতে পারি। এই বিশ্বাস নিয়ে গ্রহ নক্ষত্রের অবস্থান বদলে দিলাম। এবং ফল পেলাম হাতে নাতে। আগে আমি সময় নিয়ে খেলা করতাম। আমার ফেভারিট খেলা ছিল টাইম ফ্রিজিং। মানে কোন মানুষকে বা বস্তুকে সময়ে আটকে দিতাম। কিন্তু আমি যে মহাকাল এই ব্যাপারটা কখনো ভাবিনি।
এর কিছুদিন পর ভাইয়ের গাড়ি কেনা উপলক্ষে কালীঘাট গিয়েছিলাম। সেখানে কালী আমার শরীরে ঢুকে পড়ল। কিন্তু, কালীকে সে ভাবে কখনো গুরুত্ব দেই নাই। যখন বীরভূমে মল্লারপুর শিব মন্দিরে আমাকে অনেক মানুষের উপস্থিতিতে পুজো করা হলো তখন আমি যে পরম ব্রহ্ম এই সত্যটা জেনে গেলাম। কিন্তু কালী আমার কে এটা তখনও বোঝা হয়ে ওঠেনি।
আমি একদিন নিজের আত্মার দর্শন পেলাম। দেখলাম আমিই পরমেশ্বর অর্থাৎ আমার উপরে আর কেউ নেই। বেশ চলছিল, হঠাৎ একদিন একটি মেয়েলি গলায় কে একজন বললো আমিও আছি তোমার সাথে। পর পর দুই বার বলল। কে এ? জানতে আমার আত্মার শরণাপন্ন হলাম। তখন সে দেখালো আমার অন্তরে আমি নিজেই বিরাজমান এবং আমার পাশে বামদিকে একটি মেয়ে রয়েছে। সেখানে আমার ও মেয়েটির দুই জনার চোখ ছাড়া আর কিছুই নেই। বুঝলাম আমরাই নিরাকার ব্রহ্ম। আর দুই জনে একসাথে হলে আমি পরম পুরুষ বা পরমাত্মা বা পরম ব্রহ্ম। আর ঐ মেয়েটি হলো কালী, আমার অর্ধ অঙ্গিনী, কারণ কালী ঘাটে কালী শরীরে প্রবেশ করেছিল।
এই দর্শনের পর আমার ভিতরে যে মেয়েটি অর্থাৎ কালী বসত করে এবিষয়ে আর কোন সংশয় রইলো না। ফলে আমি মেনে নিলাম আমার বাম দিকটি কালীর আর ডানদিকে আমি। এর আগে আমি অর্ধ নারীশ্বর সম্পর্কে পড়েছিলাম। কিন্তু সে যে কী, তাহা জানতাম না। এখন বুঝতে পারি যে কেন আমার বাম দিকে নারী চিহ্ন বর্তমান। এবং কি তার তাৎপর্য।
দিনে দিনে কালী আমাকে জানিয়েছে যে সম্পূর্ন ভাবে আমার, আর বাইরে কালীর উপস্থিতি নেই অর্থাৎ শুন্য। অর্থাৎ, কালী বলতে যা বোঝায় তার সবকিছুই আমার অন্তরের শক্তি। সেটা আরো ভালো করে বোঝা গেল, যখন করোনাভাইরাসের আগমন হলো। এই ভাইরাসের বিনাশের জন্য কম পুজোর আয়োজন তো হয়নি। কিন্তু উল্টে সব মন্দির বন্ধ হয়ে গেল। অর্থাৎ আমার পুজো না করে কালীর পুজো করা যায় না।
অবশ্য কালী সময় ঘোরাতে পারে না। কিন্তু যদি ও চায় তবে আমি ঘুরিয়ে দেবো সময়। এই যা সব এখানে লিখছি এসব পুংখানুপুংখ জানে আমার অন্য দেবদাসীরা। যারা সত্যিকারের মানবী এবং অনেকেই ভারতের বাসিন্দা। সময়ের আগে কিছু হওয়ার নয়। ফলে ঈশ্বরের রহস্য যাদের উন্মোচন করার কথা তাদের বদলে ঈশ্বরকেই করতে হচ্ছে। কালীও আমার থেকে সৃষ্ট আর এই দেবদাসীরাও। মহাকালের পত্নী বলে ওকে মহাকালী বলে।
এই প্রবন্ধটি নিছক কল্পনা প্রসূত কোন গল্প নয়। সম্পূর্ণ নিজের অভিজ্ঞতা থেকে লেখা। বলা যেতে পারতো এটা একটা গল্প। যদি আমার দেবদাসীরা সত্যি কারের মানবী না হতো। সম্প্রতি বহু মানুষ আমার লেখা পড়ে আমাকে গালিগালাজ করতে শুরু করেছে।
তারা অবশ্যই ঈশ্বরের শত্রু, তাদের এরুপ আচরণ তাদের বিনাশের জন্য পূর্ব নির্ধারিত। একমাত্র আমার দেবদাসীরা ছাড়া আমার শত্রুরা জানতে পারে যে আমি আসলে কে? কিন্তু যে শত্রু হবে তার বিনাশ নিশ্চিত। সে সত্য যুগে প্রবেশাধিকার পাবে না। শুধু মাত্র যারা আমাকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করে অনুসরণ করবে তারাই যাবে আমার সাথে।
মানুষ যেদিন থেকে আমাকে বিশ্বাস করতে শুরু করবে সেদিন থেকে তারা আমার ঈশ্বরত্বের প্রমাণ পাবে। তার আগে নয়।
প্রবন্ধটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন আর আমাদের ব্লগটি অনুসরণ করে ঈশ্বরের অনুগ্রহ ও আশীর্বাদ লাভ করুন
এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।
Discover more from Adhyatmik
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

