
ভয়, এটা এমন একটা শব্দ যাকে সবাই পায়। মানে ভয় পায়। পৃথিবীতে এমন কেউ নেই যে সে কখনো ভয় পায়নি। তবে ভয় কখনো এক প্রকার হয় না।
বিভিন্ন রকমের ভয় হতে পারে। যেমন ভূতের ভয়। বাঘের ভয়, ডাকাতের ভয়। মানে এগুলো সব ভয়ঙ্কর ভয়। আবার খুব সাধারণ ভয়ও হয়ে থাকে। যেমন পরীক্ষায় ভয়, চাকরিতে ভয়, বাবা মাকে ভয়, পড়ে যাওয়ার ভয়, বউকে ভয়, হেরে যাওয়ার ভয়, কিছু হারিয়ে ফেলার ভয়, এই তালিকা শেষ হওয়ার নয়।
আবার কিছু অদ্ভুত ভয়ও আছে। যেমন অযাচিত ভয়, কাল্পনিক ভয়, মানসিক ভয়। ভয় ব্যাপারটা অনেকটা স্বজ্ঞা দ্বারা প্রভাবিত। মানে যখন মানুষ দল বেঁধে শিকার টিকার করতো তখন এই ভয় মানুষকে দুর্ঘটনা ঘটার আগে সজাগ করে দিত।
এর একটা উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে। ধরা যাক গ্রামে বাঘ পড়েছে বা ঢুকেছে। তা বাঘ কি জন্য ঢুকেছে? নিশ্চয়ই ঘুরতে আসেনি? এসেছে খাবারের সন্ধানে। এখন যদি কোন ব্যক্তি বাড়ির বাইরে বের হয় তবে সে বাঘের শিকার হয়ে যাবে। তখন ঐ ভয় একমাত্র মানুষকে বাঁচাতে পারে। কারন ভয়ের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কেউ ঘর থেকে বের হবে না। ফলে প্রাণ বাঁচাবে। অর্থাৎ ভয় এখানে জীবন বাঁচাচ্ছে।
এর মানে ভয় যে সব সময় রোগ তা কিন্তু নয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভয় কিন্তু মানসিক রোগ। যারা ভয় পায় তাদের আরো একটি সমস্যা থাকে। সেটা অবশ্যই একটা মানসিক সমস্যা। এটাকে বলে উদ্বেগ, যেটা থাকলে সমস্ত মানসিক সমস্যা গুলো ধিরে ধিরে প্রকট হয়।
এখন জানা যাক এই ভয় হওয়ার কারণ কি? ভয় এক প্রকার মানসিক অস্থিরতা যা উদ্বেগের থেকে সৃষ্টি হয়।
উদ্বেগ কি? মানুষের মন যার কোন সীমানা নির্ধারণ করা যায় না। সেই মন তিন প্রকার। প্রথমটি সচেতন মন। অর্থাৎ জাগ্রত অবস্থায় আমারা যা দেখি বা বুঝি তার ব্যাপ্তি যে মন দ্বারা প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রিত হয়।
দ্বিতীয়টি অজ্ঞান মন। অর্থাৎ মানুষ যখন অজ্ঞান থাকে তখন যে বোধ থাকে তার ব্যাপ্তি হলো অজ্ঞান মন।
তৃতীয়টি হলো অবচেতন মন। যখন মানুষ অজ্ঞান থাকে না, কিন্তু তার চেতনা নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এটার একটা অংশ অবশ্যই নিদ্রার সময়।
অনিশ্চিতি থেকে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। এখন জানা যাক এটা হানিকারক কিনা? অবশ্যই হানিকারক। কারন এর ফলে মস্তিষ্কে বিভিন্ন অ-নিয়ন্ত্রিত হরমোন ক্ষরন হয়। যে গুলোর উপস্থিতি বিভিন্ন রকমের শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করে। যার মধ্যে হার্ট অ্যাটাক, রক্ত চাপের হেরফের অন্যতম। আর সব গুলোই মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী।
তার মানে দাঁড়াচ্ছে যে যদি ভয়কে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় তবে অযাচিত মৃত্যুর সম্ভবনা কিছুটা কমানো সম্ভব। অবশ্যই সম্ভব। কিন্তু কি উপায়ে সেটা সম্ভব হবে?
এই প্রবন্ধটির নামকরণ করা হয়েছে “ধ্যানেই কাটে ভয়”। হ্যাঁ ধ্যানেই সম্ভব। কিন্তু কি ভাবে? এর কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে? অবশ্যই আছে।
আমাদের চোখের একটি অদ্ভুত ক্ষমতা আছে। একবার চোখের পাতা পড়া মানে হলো চোখ কিছু দৃশ্য রেকর্ড করছে। এগুলোকে বলে ভিসন ক্লিপ বা দৃশ্য ভাগ। আবার কানও এরকম শ্রুতি ভাগ রেকর্ড করে। এগুলোর সবটাই রেকর্ড বা সঞ্চিত হয় মস্তিষ্কের মেমরি সেন্টারে বা স্মৃতি কক্ষে। এগুলো হলো এক একটি ভাবনা।
অবচেতন মন এই ভাবনা গুলো নিয়ে খেলতে শুরু করে। অবচেতন মন সাধারণ ভাবে যা অবাস্তব সেই সব কামনা ও বাসনার সৃষ্টি কর্তা। যেগুলো মানুষের জীবনে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করে। তাহলে এই ভাবনা গুলো যা দৃশ্য ও শ্রুতি ভাগ থেকে সৃষ্ট তার নিয়ন্ত্রণে ভয় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। অবশ্যই সেটা ভাবনা শূন্যতার মাধ্যমে হয়।
ভাবনা শুন্যতা দুই রকম ভাবে হয়। এক, অবচেতন মনের উপর খবরদারি করে। আর দ্বিতীয়টি হলো সৃষ্টি ও সঞ্চয় কমিয়ে। খবরদারি বলতে যেচে বা জোর করে রিপ্রোগ্রামিং।
এই রিপ্রোগ্রামিং সব থেকে ভালো হয় ইনার রিপ্রোগ্রামিং মেডিটেশন বা ধ্যানে। ইনার রিপ্রোগ্রামিং ধ্যান মন, চেতনা ও মস্তিষ্কের মধ্যে সঞ্চিত ভাবনাকে নষ্ট বা প্রতিস্থাপিত করে দেয়। ফলে মনে ভাবনা শূন্যতা সৃষ্টি করে।
আর ভয় হলো এক প্রকার ভাবনা যা উদ্বেগ দ্বারা পরিচালিত হয়। এবং মানুষের মনকে চিন্তাশীল করে তোলে। তখন অবচেতন মন বিভিন্ন রকমের কল্পনা সৃষ্টি করে। ভাবনা শূন্যতা হলে আর নুতন কল্পনাও সৃষ্টি হয় না। ফলে ভয় সৃষ্টির জন্যে উপাদানের ঘাটতি সৃষ্টি হয়।
আর ভাবনা শূন্যতার কারনে মস্তিষ্কের গ্রে ম্যাটার বৃদ্ধি পায় এবং আলফা স্টেটের বা অবস্থার সূচনা হয়। ফলে চোখের পালক কম পড়ে। এবং এর ফলে দৃশ্য ভাগ কম সৃষ্টি হয়। এবং মনের গতি হ্রাস পায়। এটাও নতুন ভাবনা সৃষ্টির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে যে সব ভাবনা উদ্বেগের সৃষ্টি করে বা ভয়ের সৃষ্টি করে, তা আর সৃষ্টি হয় না।
অনেক মানুষের পূর্ব জন্মে আত্মা জাগরন সিদ্ধি থাকে। ধ্যান করতে গিয়ে বা মৃত্যুমুখ উপলব্ধি প্রক্রিয়াতে তার দরজা খুলে যায়। বা আত্মার জাগ্রত হয়ে যায়। তখন তারা খালি চোখে সূক্ষ্ম শরীর দেখতে পায়। ভূত বা অশরীরি আত্মা সূক্ষ্ম শরীরে বিচরণ করে। ফলে মন ভয় শূন্য হয়ে যায়।
ভয় থেকে মুক্তি পেতে ধ্যান শেখাটা জরুরী। কারন একমাত্র ধ্যানেই কাটে ভয়। ইনার রিপ্রোগ্রামিং ধ্যান শিখতে পারেন। এতে সমস্ত প্রকার উদ্বেগ ও ভয় কেটে যায় কারন এই ধ্যানে মন ভাবনা শুন্য করে দেয়। এই ধ্যান সম্পর্কে জানতে আমাদের ওয়েবসাইট দেখতে পারেন। https://inerself.org/meditation/
প্রবন্ধটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন আর আমাদের ব্লগটি অনুসরণ করুন।
এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।
Discover more from Adhyatmik
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
