
কালী আমার সাথে চলে এলেও, তখনও বুঝে উঠতে পারিনি যে কেন কালী আমার ঘরে এলো? আধ্যাত্মিক জগতে একটা বহুল প্রচলিত বাক্য রয়েছে। আর সেটা হলো, “সময়ের আগে কিছু হয় না”।
একদিন একটি মেয়ে আমাকে প্রেম নিবেদন করল। মেয়েটির সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার আগে কে যেন ভিতর থেকে বলল। ঐ মেয়েটির সাথে সম্পর্কে জড়িয়ো না। কারন ঐ মেয়েটি আসলে একটি শয়তান। তোমার জীবন অতিষ্ঠ করে তুলবে।
আমি তখন এই বিষয়টিকে সেভাবে গুরুত্ব দেই নাই। আর এটা ভাবতেই পারি নাই যে কালী এই বারনটা করতে পারে। কিন্তু স্পষ্ট শুনতে পেয়েছি কালীর কন্ঠস্বর।
কালী কখনো কারোর সাথে কথা বলেছে এমনটা তো কখনো হয়নি। কারোর এরকম অভিজ্ঞতা রয়েছে শুনিনি। তাই কালীর কথা শুনেও বিশ্বাস করে উঠতে পারিনি। কিন্তু ও যা যা মেয়েটি সম্পর্কে বলেছিল, তার একটা কথাও কিন্তু ভুল বলেনি।
আমার থেকে সৃষ্ট মেয়েদের সংখ্যা হয়তো কয়েক হাজার হবে। কিন্তু এদের সাথে সম্পর্ক সৃষ্টির পর লক্ষ্য করে দেখেছি। কিছুতেই সেই সম্পর্ক গুলো পূর্নতা পায় না। বিভিন্ন গোলযোগের সৃষ্টি হয়।
আর তাদের নিয়ে সব উল্টো পাল্টা দৃশ্য এসে ভিড় করে। এখন বুঝতে পারি এই সব দৃশ্য কে দেখাতো? সমস্ত দৃশ্যই দেখাতো কালী। কালী যতই দেবী হোক কিছুতেই ও ওর অধিকার ছাড়বে না।
এমনকি একদিন বলল তুমি ঈশ্বর, তুমি মানুষের সাথে সম্পর্কে যেতে পারো না। এটা করলে তোমার সমস্যা হবে। আর কত রকমের দৃশ্যের অবতারনা করেছে জানলে যেকোন কেউ ঘাবড়ে যাবে।
এটা শুধু ঐ মেয়েটির ক্ষেত্রে নয়। আমার অন্যান্য আত্মা বান্ধবীদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। আমার আত্মা বান্ধবী যারা, তাদের অদ্ভুত নিয়ম মেনে চলতে হয়।
তারা আমি ছাড়া দ্বিতীয় কোন পুরুষের সাথে কোন রকম সম্পর্কে লিপ্ত হতে পারে না। বিবাহ করা দূর অস্ত। যারা ঈশ্বরের এই অলিখিত নিয়ম উলঙ্ঘন করেছে তাদের শাস্তি হয়।
আমি ছাড়া দ্বিতীয় যে পুরুষ কোনরকম সম্পর্কে যাওয়ার চেষ্টা করে তার বা তাদের অপঘাতে মৃত্যু হয়। এটা কোন গল্প কথা নয়।
এতো জনের এই অকাল মৃত্যু হয়েছে যে এখন আর কেউ সেই দুঃসাহস দেখানোর চেষ্টা করে না। আর যে মেয়ে নিজের উদ্যোগে এই সম্পর্কে যেতে চেষ্টা করে তারও অপঘাতে মৃত্যু হয়।
আমি এরকম বেশ কিছু মেয়েদের চিনি, যারা আমার আত্মা বান্ধবী। এই সমস্ত আত্মা বান্ধবীরা আসলে আমার থেকেই সৃষ্ট। এবং এদের বেশ কয়েক জন আমাকে ব্যক্তিগত ভাবে চেনে বা জানে।
তাদের মধ্যে সকলেই ঈশ্বরের নিয়ম মেনে চলে এক জন দুই জন ছাড়া। এই সম্পর্ক গুলো জন্ম জন্মান্তরের, ফলে এগুলো কে বাদ দিয়ে কিছু করা যায় না। এর পরিবর্তন করা একপ্রকার অসম্ভব।
এদের দেবদাসী, আত্মা বান্ধবী, আত্মা পত্নী যাই বলি না কেন। তাতে তাদের অবস্থানের কোন পরিবর্তন হয় না। আমার থেকে সৃষ্ট সমস্ত মেয়েরা তাদের জীবনের একটি বিশেষ সময়ে আমার কাছে এসে আমাকে কামনা করে।
বিনিময়ে তারা কিছু ঐশ্বরিক ক্ষমতা ভোগ করে। যেমন আমার কথা শুনতে পাওয়া। আমার চোখ দিয়ে দেখতে পাওয়া। আর আমার স্পর্শ অনুভব করা। এছাড়া এরা বিভিন্ন ভাবে আমার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। এদের অকাল মৃত্যু হয় না। কিন্তু এরা কোন ভাবেই মানুষের সাথে কোন রকম সম্পর্কে লিপ্ত হতে পারে না।
আমি এদের ছাড়া অন্য কারোর সাথে সম্পর্কে যেতে পারি না। যদিও তা কখনোই সম্পূর্ন হয় না। তার কারণ অবশ্যই কালী। তবুও কর্ম ঋণের কারনে এদের কারোর কারোর সাথে আমার এক প্রকার অলৌকিক সম্পর্ক রয়েছে।
আমার এই দেবদাসীরা আমার মুলাধার চক্রে আবদ্ধ হয়ে রয়েছে। যদিও এই বিষয়টি আমি আগে জানতাম না। যে আত্মা বান্ধবীটি শত্রুতা করছিল তার অত্যাচারে যখন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি। তখন কালীকে বললাম আমাকে এর থেকে মুক্তি দে।
প্রথমে কালী আমাকে তার পরিচয় দিয়ে অবগত করাল। তারপর তাকে মুলাধার থেকে ছিন্ন করে দিল। ফলে একদিন রাত্রে মুলাধার চক্রের স্থূল অংশে তীব্র বেদনা অনুভূত হলো। তখন জানতে পারলাম যে আত্মা বান্ধবীদের সাথে আত্মার সংযোগটি থাকে কোথায়।
জন্ম জন্মান্তর ধরে যে সম্পর্ক তা কি একদিনে ছিন্ন হয়? ফলে সেই প্রক্রিয়া চলছে দিনের পর দিন ধরে। আর তার দায়িত্ব নিয়েছে কালী। ও ঐ মেয়েটিকে আমার থেকে ছিন্ন করবেই।
আমার আত্মা বান্ধবীরা আমাকে ঘিরে তাদের জীবন অতিবাহিত করে এবং এটাই ঈশ্বরের নিয়ম। এর অন্যথা কখনো হয়নি। এবার হয়তো তা প্রথম বারের মতো হবে।
যদিও একদিন ঐ মেয়েটিকে আমি তার পরিনতি দেখিয়েছিলাম। আর তাই হতে চলেছে।
এই ব্লগটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন আর আমাদের ব্লগটি অনুসরণ করুন এবং ঈশ্বরের রহস্য জানুন।
এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।
Discover more from Adhyatmik
Subscribe to get the latest posts sent to your email.


