
অনেকেই সাধন সঙ্গীর কথা বলে থাকেন। সাধন সঙ্গী হলো আসলে আত্মার গাইড বা নির্দেশক। যে নিজের আত্মারই অংশ এবং যে সাধককে সাধনা করতে সহায়তা করে। সিদ্ধির পথ সুগম করে তোলে।
সাধনা হলো জীবনের এক বৈচিত্রময় অধ্যায়। এখানে অনেক কিছু ঘটে বা ঘটতে পারে। যা সম্পর্কে কোন সম্যক্ ধারণা বা জ্ঞান দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করা মূর্খতা। সাধনার কোন নির্দিষ্ট পথ হয় না। তবুও আমরা বিভিন্ন সাধকের পথের চিহ্ন বা পদচিহ্ন ধরেই চলি।
কিন্তু সাধনায় এমন পথ আসে যার দিশা আগে কেউ কখনো দেখেননি। তখন একমাত্র স্বজ্ঞা সম্বল করে অজানার পথে বেড়িয়ে পড়তে হয়। সেই পথে থাকে উত্থান, পতন আর তাই নিয়ে চলে পরীক্ষা নিরীক্ষা আর তাই হলো প্রকৃত সাধনা।
আর সেই সময় এক মাত্র যে সাথে থাকে সে হলো সাধনা সঙ্গী। স্বজ্ঞা যেমন ঋনাত্মক বান্ধবী ও শত্রু সম্পর্কে অবগত করায়। তেমনি সাধনা সঙ্গী পদে পদে বলে দেয় এমনকি দেখিয়ে দেয়, যে ভুল পথে গেলে কি হবে বা হতে পারে। সে সঠিক পথে বিভিন্ন সাধনায় সঙ্গদান করে।
পঞ্চ “ম” কারে মৈথুন ক্রিয়া করার সময় হলে। ইষ্ট দেবী নিজে রমনী সেজে আসেন বা তার জন্য রমনী প্রেরণ করেন। ইষ্ট দেবীকে পাশ্চাত্যে স্পিরিট গাইড (spirit guide) বা আত্মার গাইড বা আত্মার নির্দেশক বলে। সেই দেবী হলো ধনাত্মক আত্মা বান্ধবী যা পুরুষের নিজের আত্মা থেকেই সৃষ্টি। আর সেই হলো সাত জন্মের প্রিয়তমা পত্নী।
বহু মানুষ তাদের স্ত্রীর উপর অকথ্য অত্যাচার চালায়। স্ত্রীকে মর্যাদা দিতে চায় না। কিন্তু এই স্ত্রীর সাহায্য না পেলে জন্ম মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি মেলে না। বারবার ঘুরে ঘুরে ফিরে আসতে হয়। সিদ্ধি মেলে না, বদলে দুঃখময় জীবন অতিবাহিত করতে হয়।
আত্মা যেমন ধনাত্মক আত্মা বান্ধবী সৃষ্টি করে তেমনি ঋনাত্মক আত্মা বান্ধবীও সৃষ্টি হয়। ধনাত্মক আত্মা বান্ধবী শুধু পথ দেখিয়ে নিয়ে চলে না। সাথে সাধনাতে সঙ্গী হয়ে সিদ্ধি এনে দেয়।
ধনাত্মক আত্মা বান্ধবী আত্মা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নুতন শরীর ধারন করে হয়, পুরুষের প্রেমিকা এবং স্ত্রী। সাত জন্ম ধরে চলে ভোগ সাধনা সাধকের অজান্তে। তার পর যখন পুরুষ ভোগ সাধনার পথ ছেড়ে ত্যাগ সাধনার পথে পা বাড়ায়। তখন সেই স্ত্রীর আর পৃথক শরীরের প্রয়োজন পড়ে না। পঞ্চ ম-কারে সিদ্ধি হলে, সে তখন তাঁর পুরুষের শরীরে প্রবেশ করে কুন্ডোলিনী শক্তিরুপে মুলাধারে পড়ে থাকে।
তখন থেকে শুরু হয় কুন্ডোলিনী সাধনা। কুন্ডোলিনী জাগরন আর সাধনা কিন্তু পৃথক। সাতটি চক্রের প্রত্যেকটিতে আলাদা আলাদা করে সিদ্ধি লাভ করতে হয়। আর তখনই সহস্রার চক্র থেকে পুরুষ জাগ্রত হয়। এবং স্ত্রীর জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে।
তখন স্ত্রী চক্রের দ্বারা রচিত সিঁড়ির মাধ্যমে উপরে উঠে আসে। এবং পরাব্রহ্ম ও পরাশক্তির মিলনে মৈথুন সম্পাদিত হয় এবং কুন্ডোলিনী সিদ্ধি ঘটে ।
আর এই সময়ে ঋণাত্মক আত্মা বান্ধবীরা ঋণাত্মক শক্তি বিকিরণ করে পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু তারা এটা বোঝে না, যে মুক্তি হবে সবার। তাই এই ধনাত্মক আর ঋনাত্মকের দ্বন্দ্ব চলতেই থাকে যতক্ষণ না ঋণাত্মক আত্মা বান্ধবী পথে আসে বা বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেকে শেষ না করে দেয়।
আবার ঋনাত্মক আত্মা বান্ধবী না থাকলে নিজেকে যাচাই করা যায় না। কারন, ঋনাত্মক শক্তির বিকিরণ না হলে বোঝা যায় না সাধকের শক্তি সম্পর্কে।
কারন শত্রু মোকাবিলাতেই একমাত্র শক্তির প্রয়োজন পড়ে। নতুন এবং অজানা অলৌকিক ক্ষমতা ও শক্তি সম্পর্কে তখনই জানা যায়। যখন ঋনাত্মক আত্মা বান্ধবী তার কাটা ছড়িয়ে সিদ্ধির পথ দুর্গম না করে দিচ্ছে।
আমি যে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী এটা বুঝতেই পারতাম না, যদি আমার জীবনে ঋনাত্মক আত্মা বান্ধবী এসে উদয় হতো। আবার ধনাত্মক ও ঋনাত্মক আত্মা বান্ধবও থাকে। তারাও একই রকম কার্য করে। তাই এই সাধন পথে আমি এই সমস্ত আত্মা বান্ধব ও বান্ধবীদের কাছে ঋণী। যারা আমার পথ সুগম ও দুর্গম করেছে তাদের অজান্তে।
সাধন পথে যা জেনেছি যা শিখেছি তার প্রয়োগের সময় হয়তো উপস্থিত হতে চলেছে। এখনো জানি না কে আমার সাথে পরের পর্বে, অর্থাৎ সত্য যুগে যাবে?
মনে আছে আমি আমার ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা শক্তির দৌলতে দেখেছিলাম যে আমার সাথে বহু মানুষ পৃথিবী ছেড়ে দূরের পৃথিবীতে যাবে। যার চারটি চাঁদ।
এমনকি আমি সেই পৃথিবীর যে স্থানে যাবো, সেই স্থানের দৃশ্যও দেখেছি। তবে এখানে সব কাজ এখনও শেষ হয়নি। যেখানেই যাই না কেন, সাধন সঙ্গীরা সম্ভবত সাথেই থাকবে। অবশ্যই যারা অন্ধ ভাবে আমাকে অনুসরণ করবে।
ব্লগটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন আর আমাদের ব্লগটি অনুসরণ করে সাধনার রহস্য জানুন।
এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।
Discover more from Adhyatmik
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

