
অনেকেই স্লিপ প্যারালাইসিস বা বোবায় ধরার শিকার হয়েছেন। এটা এমন একটা দশা যেখানে কোন ব্যক্তি ঘুমিয়ে পড়া আর জেগে ওঠার মাঝখানের স্থানে ঢুকে পড়ে।
তখন শরীর পক্ষাঘাত গ্রস্তের ন্যায় আচরণ করে। শরীর শক্তিহীন হয়ে যায় এমনকি নড়াচড়া দূরের কথা, কথা পর্যন্ত বলতে পারে না। এই সময় আত্মা ঝটকা মেরে বাইরে চলে আসার চেষ্টা করে।
যাদের অবচেতন মনের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকে, তারা এই পর্যায়ে আত্মার প্রতিবিম্বকে শরীরের বাইরে নিয়ে আসতে পারে। বহু মানুষ ধ্যানের মাধ্যমে এরকম পর্যায়ে চলে আসে এবং ঝটকা দিয়ে শরীরের বাইরে বেরিয়ে আসে।
অনেকেই তখন বাইরে এসে নিজেই নিজের শরীরের দর্শন করেছেন। ধ্যান করে যদি উদ্বেগ কমানো যায় তবে শরীর থেকে আত্মার একটি সচল প্রতিবিম্বকে বাইরে পাঠানো সম্ভব। এবং সেটা অবচেতন মনের দ্বারা পরিচালিত হয়।
এইভাবে অনেক সময় আত্মা অভিক্ষেপনে ভ্রমণ করতে শরীর থেকে নির্গত হয়। এবং দূরবর্তী স্থানে ভ্রমন পর্যন্ত সম্ভব। আগে যোগীরা এই ভাবে দূরবর্তী স্থানে যোগ প্রক্রিয়ায় বা ধ্যানের মাধ্যমে ভ্রমণ করতে যেতেন।
এই ভ্রমনের সময় যদি কোন বিশেষ ব্যক্তির কাছে যাওয়া যায়, তবে সেই ব্যক্তি ভ্রমণকারীকে তার অবচেতন মনের দ্বারা দেখতে পর্যন্ত পারেন। সেটা অনেকটা জেগে স্বপ্ন দেখার মতো অবস্থা। বা ঘুমন্ত অবস্থায় স্বপ্ন দেখাও হতে পারে। আবার ঘোরের মধ্যে দর্শনও হতে পারে। ভ্রমন কারী কখনো কখনো নিজের শরীর ছাড়া আরও যারা ঐ পর্যায়ে গিয়েছেন তাদেরকেও দেখতে সক্ষম হন।
পাশ্চাত্যে এই প্রক্রিয়াকে আউট অফ বডি এক্সপিরিয়েনস OBE (out of body experience) বলা হয়। যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ভ্রমন করা হয় তাকে Astral Projection বা নাক্ষত্রিক অভিক্ষেপন বলা হয়।
অবচেতন মন এই প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। যদিও সবার এটা হয় না। আধ্যাত্মিক ব্যক্তিদের অনেকেরই এই শরীরের বাইরে ভ্রমণ এর অভিজ্ঞতা থেকে থাকে। কিন্তু যারা আধ্যাত্মিক নন তাদের এর সম্পর্কে কোন ধারণাই নেই।
আমি ছোটবেলায় মাঝে মধ্যে শরীরের বাইরে ভ্রমণ করতাম। আমি শরীরের বাইরে গিয়ে নিজেকে শুয়ে থাকতে দেখেছি। এমনকি আমি আমাদের বাড়ির বিভিন্ন স্থানে গিয়েছি। আকাশ থেকে বাড়িকে চাক্ষুষ করার অভিজ্ঞতা পর্যন্ত হয়েছে। আর যখন ধ্যান করতে শুরু করি, তখন থেকে ধ্যানের মাধ্যমে এই ভ্রমন করেছি। বা, এখনো কখনো কখনো করি।
এবং সেটা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে এমনকি জগতের বিভিন্ন প্রান্তে। ধ্যানের মাধ্যমে এই ভ্রমন করা যায়। যখন অবচেতন মনকে সম্পূর্ন ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তখন এটা একটা ছেলে খেলার পর্যায়ে চলে যায়।
অনেকে উদ্বেগ জনিত সমস্যার স্বীকার। তাদের ক্ষেত্রে আউট অফ বডি এক্সপিরিয়েনস কিন্তু সমস্যার ব্যাপার। এতে তাদের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। সাম্প্রতিক কালে কিছু দূর্ঘটনার কথা শোনা গিয়েছে।
যাদের উদ্বেগ জনিত সমস্যা রয়েছে তাদের উচিত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া এই নাক্ষত্রিক অভিক্ষেপন করার আগে। বা, হঠাৎ এরকম হলেও ডাক্তার দেখানো উচিত। কারন, এতে অনেক সময় দূর্ঘটনা ঘটে যাওয়া অতি সাধারণ ব্যাপার।
সম্প্রতি অনেকেই এটা নিয়ে খেলা করতে আগ্রহী হয়ে পড়েছেন। কিন্তু, মনে রাখতে হবে যে এটা সবার জন্য নয়। এটি পূর্ব জন্মের কর্মের জন্য হয়। আর সব কিছুরই একটি সীমানা থাকে। এবং সব কিছুই শিখতে হয়।
ব্লগটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন আর আমাদের ব্লগটি অনুসরণ করে আধ্যাত্মিকতা, সাধনা, তন্ত্র সম্পর্কে জানুন।
এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।
Discover more from Adhyatmik
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

