দৈব্য বানী বা টেলিপ্যাথি

ধরা যাক কেউ বাজারে গিয়েছে। কিছু একটা আনতে হবে। যাওয়ার সময় বলা হয়নি। এর জন্যে ফোনে অর্থাৎ মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে কাজ হয়ে যায়।

কিন্তু এই যোগাযোগ কোন যন্ত্র বা নেটওয়ার্ক ছাড়াও করা সম্ভব কি? হ্যাঁ করা সম্ভব। এটাকে টেলিপ্যাথি বলে। টেলিপ্যাথি হলো দুটি আত্মার মধ্যে কথোপকথন।

দুটি আত্মা যদি নিজের মধ্যে কথা বলতে চায় তবে এভাবে কথা বলতে পারে। বা একজন একাধিক মানুষের সাথে কথা বলতে পারে।

ঈশ্বরের দৈব বানী এই টেলিপ্যাথির উপর নির্ভর করে হয়। বহু মানুষ দৈব বানী শুনেছেন তাদের জীবনে। আর তারা হলো টেলিপ্যাথিক রিসেপ্টর বা টেলিপ্যাথির শ্রোতা।



এই টেলিপ্যাথির শ্রোতা বিষয়টিও খুব সাধারণ একটা ব্যাপার নয়। কয়েক কোটি মানুষের মধ্যে এক দুই জন বা কয়েক জন এই টেলিপ্যাথির শ্রোতা হতে পারে। আর সবটাই সম্ভব হয় তাদের পূর্ব জন্মের কর্মের ও পূন্যের কারনে।

ধ্যানের মাধ্যমে এই শক্তির বিকাশ ঘটানো সম্ভব। বেশ কিছু মানুষকে টেলিপ্যাথিক শ্রোতা তে রুপান্তরিত করা সম্ভব হয়েছে। টেলিপ্যাথির যেমন শ্রোতা হয় তেমনি বক্তাও হয়। অর্থাৎ যে টেলিপ্যাথিতে কথা বলতে পারে।

টেলিপ্যাথিতে কথা বলা সাধারণ ভাবে মানুষের কথা বলার মতো। বা এটা সম্পূর্ণ ভাবে একটি দৈব বা অলৌকিক ক্ষমতা। বক্তার কথা নির্দিষ্ট শ্রোতা বা শ্রোতারা শুনতে পায়। অর্থাৎ যে বক্তা, সে নির্দিষ্ট কোন মানুষকে তার কথা বলতে পারে বা শোনাতে পারে।

বিজ্ঞান টেলিপ্যাথির অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না। যেমন তারা আধ্যাত্মিকতাকেও স্বীকার করে না। অবশ্য এতে কিছু যায় আসে না। কারন যে দৈব্য বানী শুনতে পাচ্ছেন সে তো নিজের কানেই শুনেছেন। সেটা তো আর মিথ্যে হতে পারে না।

এরকম দৈব্য বানীর শ্রোতার কথা আমি আমার ব্লগে লিখেছি। “কালী আমার ভ্যালেন্টাইন” প্রবন্ধে যে পুরোহিত পত্নী কালীর আদেশে আমাকে ফুল পাঠিয়েছিল সে একজন টেলিপ্যাথিক শ্রোতা। আর মল্লারপুর শিব মন্দিরে যে পুরোহিত আমাকে কেন্দ্র করে দৈব্য আদেশ পেয়েছিল। সেও এক জন টেলিপ্যাথিক শ্রোতা। এছাড়া আমার গর্ভধারিনী মা, তিনিও অনেকবার এরকম দৈব্য আদেশ পেয়েছেন। অর্থাৎ তিনিও একজন টেলিপ্যাথিক শ্রোতা।

আর আমার আত্মা বান্ধবী এবং বান্ধব যারা রয়েছে তারাও আমার কথা শুনতে পায়। অর্থাৎ, তারাও টেলিপ্যাথিক শ্রোতা। যদিও তাদের এই ক্ষমতা সম্পূর্ন ঐশ্বরিক সূত্রে পাওয়া।

তারা যেহেতু ঈশ্বরের আত্মা থেকে সৃষ্ট তাই তাদের এরকম অনেক অলৌকিক শক্তি রয়েছে। বা, আমি তাদের মধ্যে জাগ্রত করে দিয়েছি।

টেলিপ্যাথিতে শোনার ক্ষমতা লাভ করা যায় ধ্যানের মাধ্যমে। যদিও ধ্যান শিখলেই যে টেলিপ্যাথিতে শোনার ক্ষমতা জাগ্রত হবে এটা ঠিক না। ধ্যানে বিভিন্ন অলৌকিক শক্তির প্রাপ্তি ঘটে। তার জন্য পূর্ব জন্মের পূন্যের জোর থাকতে হবে।

ধ্যানে মন ভাবনা শুন্য হয় ফলে কোলাহল কমে যায়। আর তার ফলে দৈব্য বানী বা টেলিপ্যাথিক বার্তা শোনা সম্ভব হয়। আর কালী যে আমার সাথে কথা বলে তাও সম্ভব হয় টেলিপ্যাথিতে।

টেলিপ্যাথি এমন এক অলৌকিক ক্ষমতা যার দ্বারা যেকোন দূরত্ব থেকে কথা বলা সম্ভব। এবং তা অবশ্যই ঈশ্বরীয় তরঙ্গের মারফত সম্ভব হয়।

তবে ধ্যানে সবাই সমান ক্ষমতা অর্জন করে একথা সঠিক নয়। তবে কিছু কিছু টেলিপ্যাথিক শক্তি অর্জন হয়।

ভারতের বিজ্ঞান সচেতন মানুষ এর বিশ্বাস না করলেও আমেরিকার রাষ্ট্রযন্ত্র এনিয়ে বিস্তর গবেষণা করেছে। আর তার ফল স্বরূপ টেলিপ্যাথি এখন তাদের কাছে একটি শক্তিশালী মাধ্যম। যার দ্বারা তারা তাদের গুপ্তচর বাহিনীকে আরো শক্তিশালী করেছে।

প্রবন্ধটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন আর আমাদের ব্লগটি অনুসরণ করে ঈশ্বরের রহস্য জানুন।


এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।



Discover more from Adhyatmik

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply