বলি

বলি দেওয়া একটি প্রথা। হিন্দু ধর্মের শাক্ত সম্প্রদায়ের মানুষ জন বলি দেওয়ার প্রথায় বিশ্বাস করেন। পুজোতে পাঁঠা, মহিষ প্রভৃতি বলির চল রয়েছে। কালীর পুজোতে পশু বলি দেওয়ার প্রথা বহু দিনের।

এখন বহু মানুষ এই প্রথাকে অস্বীকার করছেন। ফল স্বরূপ বিভিন্ন জায়গায় পশু বলি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে কালীর সাথে বলির সম্পর্কটা ঠিক কি?

এ বিষয়টা নিয়ে আমিও অনেক ভেবেছি। কিন্তু এর কোন সদুত্তর পাইনি। তবে কোথাও একটা লিখেছিলাম যে কালীর সাথে বলির একটা সম্পর্ক রয়েছে।

কালীর উৎপত্তি বা আবির্ভাব সম্পর্কে পৌরাণিক ব্যাখ্যা ও সনাতন ধর্মীয় শাস্ত্র অনুযায়ী পুরাকালে শুম্ভ এবং নিশুম্ভ নামক দুই দৈত্য সারা পৃথিবী জুড়ে তাদের ভয়ঙ্কর ত্রাসের সৃষ্টি করেছিল।

দেবতারাও এই দুই দৈত্যের কাছে যুদ্ধে আত্মসমর্পণ করে। ফলে দেব লোক তাদের হাতছাড়া হয়ে যায় তখন দেবরাজ ইন্দ্র দেবলোক ফিরে পাওয়ার জন্য আদ্যশক্তি মা মহামায়ার তপস্যা করতে থাকেন, তখন দেবী সন্তুষ্ট হয়ে তাদের কাছে আবির্ভূত হন এবং দেবীর শরীর কোষ থেকে অন্য এক দেবী সৃষ্টি হয় যা কৌশিকী নামে ভক্তদের কাছে পরিচিত।

দেবী কৌশিকী মহামায়ার দেহ থেকে নিঃসৃত হয়ে মহাকাল বর্ণ ধারণ করে, যা দেবী কালীর আদিরূপ বলে ধরা হয়। আর আমরা কালীর উগ্রচণ্ডী রুপ জানি। যে অসুর আর দৈত্য নিধন করতে সৃষ্টি। আর সে তাদেরকে নিধন করেই ক্ষান্ত নয়। তাদের রক্তও পান করে।

পুরানের সমস্ত কাহিনী যদিও সম্পূর্ন ভাবে সত্যি নয়। তবুও পুরানকে সম্পূর্ণ ভাবে অস্বীকার করা যায় না। তবে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে এই বলির ব্যপারটা সম্বন্ধে একটি ধারণা রয়েছে। যা এখন সত্য বলে মানতে আর কোন বাঁধা নেই।


তখন শত্রু আক্রমণে আমি জর্জরিত। এবং এর থেকে মুক্তি পাওয়ার একটা পথের খোঁজ করছি। তখন কালী আমাকে একদিন একটি করোটির মালা দেখালো। ঐ মালাটির সবকটি করোটির রং সাদা ছিল। তবে নীচের মাঝখানে একটি করোটির রং ছিল লাল। এটা দেখানোর পর কালী আমার কাছে রক্ত শপথের অঙ্গীকার করল। আমাকে তাজা রক্তের গন্ধ শোঁকাল।

তখনও বুঝিনি যে কি বিষয়ে এই অঙ্গীকারটি ছিল? তার পর এই করোনাভাইরাসের আগমন ঘটেছিল। এখন বুঝতে পারছি করোনাভাইরাসের জন্যই অঙ্গীকারটি কালী নিয়েছিল।

সুতরাং এটা বলা যেতেই পারে যে বলি বন্ধ করা হলেও। কালী তার বলি নিয়েই নিচ্ছে। আমি সরাসরি প্রলয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। আর তার ফলে কালীর তান্ডবের কথা তো লিখেছি। আমার শত্রুরা তখন আমাকে আক্রমন করে ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছে।

তখন আমি কালীকে বলেছিলাম এর থেকে পরিত্রাণের পথ দেখাতে। কিন্তু আমার উপর আক্রমণ হলো অনুঘটক এটা বুঝতে পারিনি। তাই কালীর পথে সায় দিয়েছিলাম। আর যখনই শত্রু আক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে তখনই করোনাভাইরাস বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ভবিষ্যৎবাণী আমিই করেছিলাম যে আমার শত্রুরা মানব সভ্যতার ধ্বংসের জন্য উত্তরদ্বায়ী থাকবে। শেষে আমার ভাবনাটা সত্যি না হয়ে যায়?

প্রবন্ধটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন আর আমাদের ব্লগটি অনুসরণ করুন।


এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।



Discover more from Adhyatmik

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply