সাধনা কি উপভোগ্য?

যার সাধ ও সাধ্য থাকে সেই সাধনা করে। অনেকেই সাধনা করতে চায়। কিন্তু সাধনা শিখতে হয় গুরুর কাছে। কারন গুরুই পথ বলে দেয় বা দেখিয়ে দেয়।

অনেকেই মনে করেন সাধনা মানে বৈচিত্র্য হীন কোন পথ চলা। তা কিন্তু একেবারেই নয়। সাধনার মতো উপভোগ্য ব্যাপার খুব কমই আছে। সাধকদের কেউ এই প্রশ্ন কখনো করে না। যে সাধনা উপভোগ্য কিনা? তাই এই প্রশ্নের উত্তর কেউ দেয়নি।

সাধনার শুরু হয় ধ্যান যোগ দিয়ে। এই ধ্যান শিখতে শিখতে অনেক কিছু অভিজ্ঞতা হয়। যেমন সাধনাতে শত্রু থাকবেই। শত্রু না থাকলে বুঝতে হবে সাধনা এখনো শুরু হয়নি। শত্রু হলো সাধনা শিক্ষার মূল্যায়ক। এর মাধ্যমে বোঝা যাবে সাধকদের অগ্রগতি। এবং সাধনাতে লাভ হওয়া অলৌকিক ক্ষমতার পরীক্ষা ও মূল্যায়নও করে শত্রু।

যে সমস্ত ব্যক্তির বা শিক্ষার্থীদের জীবনে শত্রু এসে গিয়েছে। তাদের সাধনা শুরু হয়ে গিয়েছে। এটাকে সাধ্য বলা যেতে পারে। ধ্যান শিখতে শিখতে নাড়ী চক্র জাগতে শুরু করে। এটি দৈহিক বা শারীরিক উপসর্গ দিয়ে উপলব্ধি করা যায়।

একজন সাধক তার দেহের নাড়ী চক্র গুলির অবস্থান সম্পর্কে অবগত থাকে। কারন এগুলোর মাধ্যমে সাধন কালে স্ব-নিরাময় সহজ হয়ে যায়। এই জ্ঞান আসে সম্পূর্ন ভিতর থেকে।

তারপর সূক্ষ্ম জগৎ থেকে অলৌকিক শক্তি উপহার হিসেবে বর্ষিত হতে থাকে। এগুলো না থাকলে সাধনা করে কি লাভ? এই শক্তি গুলি সাধনার পরবর্তী পর্যায়ে ব্যবহৃত হয়।

সাধনার বিভিন্ন উপাচার থাকে। গুরু সাধককে নিজের মতো করে তৈরী করে নেন। যাতে সাধক সাধনা করতে পারে তার উপযুক্ত সময়ে।

অনেকেই ভৈরবী, নায়িকা অবিদ্যা এবং যোগিনী সাধনা করতে আগ্রহী হয়। কিন্তু সাধক যদি এদের দেখতেই না পায় তবে কি ভাবে সাধনা করবে? এই সাধনা করতে জ্ঞান চক্ষু খোলার প্রয়োজন হয়। আত্মা জাগরন না হলে জ্ঞান চক্ষু খোলে না। তাই শুধু সাধ থাকলেই হবে না। সাথে সাধ্যও থাকতে হবে।

আত্মা জাগরন হলে সাধক অশরীরি আত্মাকে দেখতে পায়। ভূত যেমন অশরীরি বা নিরাকার তেমনি যোগিনী এবং ঈশ্বরও অশরীরি। এটি ছাড়া উচ্চ মার্গীয় কোন সাধনা সম্পূর্ন হয় না।

সাধনাতে ধাপে ধাপে এগোতে হয়। অনেকেই খালি চোখে আত্মা বা অশরীরিদের দেখতে পায়। তারা সাধনার জন্যে উপযুক্ত অর্থাৎ সাধনা করতে পারে। আর ধ্যান সাধনা করতে করতে অনেকেই আত্মার জাগরন ঘটিয়ে ফেলে। আবার কারো এটি হতে সময় লাগে।

এছাড়া প্রয়োজন হয় স্বজ্ঞার। এটা না থাকলে ঋনাত্মক শক্তির উৎস থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায় না। এটা মনে রাখতে হবে যে বিপদ সব জায়গায়। শত্রুরা প্রতিটি পদক্ষেপে ক্ষতি সাধন করতে দাড়িয়ে।

তবে সঠিক পথ নির্বাচন করে দেয় গুরু। সেই পথে থাকলে কোন কিছুই কোন সমস্যা নয়। যেমন তান্ত্রিকেরাও থাকবে শত্রুতায়। আজ পর্যন্ত কোন সাধক এর থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হতে পারেন নাই। বিভিন্ন সাধকের আত্ম জিবনী পড়লে এই সব ঘটনার কথা জানা যায়।

আর উচ্চ মার্গীয় সাধনায় যাওয়ার আগে ছোট ছোট সাধনা করে অভিজ্ঞতা জুটিয়ে নিতে হয়। না হলে সেই সব সাধনা করাই যায় না। অনেকেই সাধনা বলতে তন্ত্রের ষটকর্মের কথা বলেন।

তন্ত্রের দুটি দিক একটি তন্ত্র সাধনা আর দ্বিতীয়টি পৌরহিত্য। ষটকর্ম পৌরহিত্যের সাথে জড়িত। সাধনার সাথে ষটকর্মের কোন সম্পর্ক নেই। এক জন সাধক তার অর্জিত অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের দ্বারা ষটকর্মের মোকাবিলা করতে পারেন।

আর সাধনাই হলো একমাত্র পথ যা দিয়ে এর মোকাবিলা করা যায়। সাধনাতে যে অলৌকিক ক্ষমতা বা শক্তি লাভ হয় তা হলো ব্রহ্ম জ্ঞান। এই জ্ঞান এমনি যে কেউ অবাক হয়ে যাবে। যে সাধক এর কিনারায় পৌঁছতে পারবে সে দেখবে যে কোন কিছুই তার অজানা নয়। মানে অনেক অজানা জ্ঞান তার জানা হয়ে গেছে। এর জন্যে আলাদা করে কোন শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়নি। সব কিছুই ভিতর থেকে আসবে।

তবে সব সাধনার শুরু ধ্যান সাধনাতে। আর যা পাওয়া যাবে সাধন পথে তার উপলব্ধি হবে সাধকের সরাসরি। সাধক গুরুকে বলবে কি পেয়েছি আর কি পাইনি। যখন প্রতিটি পদক্ষেপ হবে উপভোগ্য।

এই প্রবন্ধটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন আর আমাদের ব্লগটি অনুসরণ করুন।


এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।



Discover more from Adhyatmik

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply