
আগে ধ্যান সাধনাতে বা সাধনা করার জন্য ব্যবহৃত হতো। পরবর্তী কালে এই ধ্যান নিয়ে বিভিন্ন রকমের গবেষণা হয়েছে। এবং ধ্যানের বিভিন্ন রকমের উপকারিতা সম্পর্কে খোঁজ পাওয়া গিয়েছে।
এফ এম আর আই, স্ক্যানে জানা গিয়েছে যে ধ্যানের সময় মস্তিষ্কের সমস্ত রকমের বিশ্লেষন বন্ধ হয়ে যায়। এবং মস্তিষ্কের ডার্ক ম্যাটারকে গ্রে ম্যাটার প্রতিস্থাপন করে। মস্তিষ্ক আলফা স্টেট বা অবস্থায় চলে যায়।
সঠিক ভাবে প্রতিদিন ধ্যান করলে মন শান্ত হয়। একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়, ফোকাস উন্নত হয় এবং তার সাথে কথা বার্তার যোগাযোগের উন্নয়ন ঘটে। ভাবনার স্পষ্টতা বৃদ্ধি পায়। মন ও শরীর সজীব ও সতেজ হয়। মন প্রফুল্ল হয়ে ওঠে।
ধ্যান শরীরের মধ্যে একটি শক্তি বা প্রানা কে জাগ্রত করে। এর ফলে শারীরবৃত্তিতে একটা বদল আসে। যার ফলে শরীরে আনন্দ ও মনে একটা প্রফুল্ল ভাবের সৃষ্টি হয়। মন শান্ত হয়ে ওঠে।
শারীরিক ভাবে ধ্যানে রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। রক্তে ল্যাকটেটের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়। মনের উদ্বেগ ও চাপ হ্রাস পায়। বিভিন্ন ব্যাথা উপশম হয়, বিশেষত টেনশনের কারনে যে ব্যাথা হয়। যেমন মাথাধরা, আলসার, অনিদ্রা, পেটে ব্যথা, পেশী ও সন্ধির সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ ঘটে।
সেরোটোনিনের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় যা মেজাজ ও ব্যবহারকে উন্নত করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। একটি ভিতরের শক্তির উৎস সৃষ্টি হয়। আর্থাইটিস, হাঁপানি, এইচ আই ভি, ক্যান্সার, টিউমার, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, এবং আরো বিভিন্ন রকমের রোগের নিরাময় হয়।
এছাড়া এই ধ্যানেই সম্পূর্ন মানসিক শক্তির রুপান্তর সম্ভব, এর চর্চায় একাগ্রতা, স্বজ্ঞা, স্মৃতি, স্মরণ শক্তি, সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা, তথ্য প্রক্রিয়াকরণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা, স্ব উন্নতি, ব্যক্তিগত উন্নয়নের শিখরে পৌঁছনো সম্ভব।
ধ্যানে মস্তিষ্কের যে আলফা অবস্থা সৃষ্টি হয় যার ফলে রোগ নিরাময় ঘটে। ধ্যানের সময় মস্তিষ্কের তথ্য বিশ্লেষণ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিদিন ধ্যান করলে মন হয়ে ওঠে সজীব ও সুন্দর সাথে মনে শান্তি আসে।
ধ্যানের কোন ধর্ম নেই। যেকোন মানুষ ধ্যান করতে পারে। ধ্যানের রোজ অনুশীলনে উদ্বেগ কমে, সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পায়। মানসিক চাপ কমে যায়। এবং উদ্বেগ জনিত অন্যান্য সমস্যাও কমে যায়।
মানসিক শক্তি বিকশিত হয়। নিজের স্বত্বাধিকারী চেতনার জাগরন ঘটে। ফলে জগতে একটা পৃথক অস্তিত্ব হিসেবে নিজের আত্মপ্রকাশ হয়। নিজের সম্পর্কে নতুন করে আত্ম উপলব্ধি ঘটে।
ধ্যান একটি বীজের মতো, যতো প্রোয়োগ করা হবে ততই এর উপকারিতা দেখতে পাওয়া যাবে বা সামনে আসবে। নিয়ম মেনে প্রতিদিন অনুশীলন করতে হবে। আর তখনই এর বৈশিষ্ট্য গুলো চোখে পড়বে। একটা বীজ থেকে একটি গাছ জন্ম নিতে পারে। ফলে বীজের মধ্যে একটা সম্পূর্ণ গাছ লুকিয়ে থাকে। একটা বীজকে দেখে একটা গাছকে যেমন ভাবা সম্ভব নয় তেমনি একবার ধ্যান করে ধ্যানের সমস্ত উপকারিতা পাওয়া বা বোঝা সম্ভব নয়।
ধ্যানে নিজের আত্মাকে দর্শন করা যায়। এটি আধ্যাত্মিক জগতে প্রবেশ করতে একটি সিঁড়ির ন্যায় কাজ করে। ধ্যানকারী ব্যক্তির শুধু মাত্র মানসিক অবস্থার উন্নতি হয় না সাথে সে বিভিন্ন আধ্যাত্মিক শক্তি লাভ করে। যার ব্যাখ্যা কেবলমাত্র আধ্যাত্মিক পথে মেলা সম্ভব।

ইনার রিপ্রোগ্রামিং ধ্যানে ভাবনা শুন্য মন তৈরী করা যায়। আর সাধনা করতে হলে ধ্যান করতে পারা হলো নূন্যতম যোগ্যতা।
ইনার রিপ্রোগ্রামিং মেডিটেশন বা ধ্যান, একজন ধ্যানকারীকে অতিমানব সত্ত্বায় রুপান্তরিত করতে পারে। যার ফলে সেই ব্যক্তি সমস্ত রকম পার্থিব কামনা যেমন অর্থ, সম্পদ, সুস্থতা, সম্পর্ক, জনপ্রিয়তা, চেহারার চুম্বকিয় আকর্ষণীয়তা, আকাঙ্ক্ষিত চাকরি, বিদেশ ভ্রমণ, পরীক্ষায় ভালো ফল, উন্নত জীবন লাভ করতে পারে।
ধ্যান শিখতে চাইলে আমাদের পেজে যোগাযোগ করা যাবে।
এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।
Discover more from Adhyatmik
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
