
কালী কি কথা বলে? বা, কালীর সাথে কি কথা বলা যায়? শোনা যায় রামকৃষ্ণ পরমহংস নাকি কালীর সাথে কথা বলতেন। যদিও সে কথা অন্য কেউ শুনতে পেত না। এ নিয়ে বিস্তর তর্ক বিতর্ক হয়েছে সে সময়।
অনেকেই রামকৃষ্ণকে ভন্ড আখ্যা দিয়েছিলেন। কিন্তু সে সময় দৈব বানী সমন্ধে মানুষের ধারণা ছিল। অনেকেই দৈব বানী শুনেছেন বলে দাবি করেছেন। দৈব বানী তো আর মানুষের মুখ থেকে বের হয় না। ঈশ্বরের মুখ থেকে বের হওয়া কথাকে দৈব বানী বলে একথা সকলেই জানেন।
যদি ঈশ্বর দৈব বানী করে থাকতে পারেন তবে বিশেষ কেউ শুনতে পাবেন এতো হতেই পারে। অতএব রামকৃষ্ণ যে কালীর কথা শুনেছেন এমনটা হতেই পারে। আধ্যাত্মিক জগতে এ অতি সাধারণ ব্যাপার। তবে এ নিয়ে গোলযোগ ছিল এবং যা অবশ্যই গোলযোগকারীদের নিজ নিজ অহংকারের বিষয়।
রামকৃষ্ণের থেকে জ্ঞানী অনেক মানুষ তা শুনতে পাননি তাই তাদের অহংকারে ঘা লেগেছিল । কিন্তু দেবী কার সাথে কখন কথা বলবেন সেটা তো দেবীর একান্ত নিজস্ব বিষয়।
তবে কালী যে কথা বলে এটা আমি নিজের কানে শুনেছি। সাধন পর্বে আমি ভাবতাম আমি বুঝি একাই রয়েছি। কিন্তু একদিন কে যেন ভিতর থেকে বলল যে আমিও আছি। স্পষ্ট শুনলাম এক নারী কন্ঠ, একবার নয়, পর পর দুই বার।
প্রশ্ন করলাম কে তুমি? খুজতে শুরু করলাম নিজের অন্তরে। আমার আত্মা বলল নিজের ভিতরে ঝুঁকে দেখ। দেখলাম একটা তলে নিরাকারে আমি আর আমার বাম পাশে এক রমনী। এই দুই জনের শুধু দুই জোড়া চোখ দৃশ্যমান হচ্ছে।
ঐ রমনী যে কালী এবিষয়ে কোন সন্দেহ রইলো না। কারণ কালীঘাটে কালী আমার শরীরে প্রবেশ করেছিল। তার পর থেকেই তাকে কালী বলে ডাকি এবং সে কালী ডাকে সাড়াও দেয়। এর আগে কালীর সাথে কথা হয়েছে ভাবনার মারফতে। মৌখিক বাক্যালাপ তখন নতুন। তার পর থেকে অনেক কথা হয়েছে মৌখিক বাক্যালাপের মাধ্যমে।
কালী সম্ভবত সব থেকে বেশী কথাবলা দেবী। তবে বেশীরভাগ কথা হয় ভাবনার আদান প্রদানে। অর্থাৎ টেলিপ্যাথির মাধ্যমে। আমি একজন টেলিপ্যাথিক ফলে টেলিপ্যাথির মাধ্যমে অনেক কথা বলা ও শোনা হয়ে যায়।
এই টেলিপ্যাথিতে কথা ঠিক কি রকম হয়? ভাবনার স্রোতের মাধ্যমে কথা হয়। অনেক প্রশ্নের উত্তর কালী দেয় ভাবনার দ্বারা প্রভাবিত চিত্রের মাধ্যমে। আবার কখনো কথার মাধ্যমে (নারী কন্ঠ) । যদিও আমি সরাসরি কথা বলতে বেশি পছন্দ করি।
ভাবনার দ্বারা প্রভাবিত চিত্র কি? এটা একটু ব্যাখ্যা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। অনেকেই কালীকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে। যেমন কেউ দেখেছে কালীর পুজো হচ্ছে বা কালীর পা দেখছেন। এখানে কালী ভক্তকে তার পুজো করতে বলছে। স্বপ্নে দেখার অর্থ হলো স্বপ্নাদেশ। আবার কেউ দেখেছে বরাভয় মুদ্রা। এটার মানে হলো আশীর্বাদ বা আশস্থ করা। অর্থাৎ কালী ভক্তকে কোন বিষয়ে আশস্থ করছে।
আর স্পষ্ট বাংলা ভাষায় বাক্যালাপ যখন কেউ করে তখন তা না বোঝার কোন কারণ দেখি না। তাহলে দাঁড়াচ্ছে যে কালী কথা বলে। আমার সাথে যখন বলে তখন রামকৃষ্ণ পরমহংসের সাথে কথা বলার ঘটনাও সত্যিই ছিল।

আমার সাথে বিভিন্ন বিষয়ে কালীর কথা হয়েছে এবং এখনও হয়। কথা হয়েছে খুব সাধারণ বিষয়ে আবার সাধনা বিষয়েও অনেক কথা হয়েছে। এবং বিভিন্ন সম্পর্ক বিষয়েও কথা হয়েছে। অনেক মানুষ আবার এই কথা বলাকে নিয়ে বিস্তর বিতর্ক সৃষ্টি করবে।
এখন প্রশ্ন হল কালী কি ভাবে কথা বলে? কালীও টেলিপ্যাথিতে কথা বলে অর্থাৎ মনের ভাবনা দিয়ে কথা বলে। আর আমি আমার শরীরে ধারন করেছি কালীকে। তাই তার ভাবনা আমার স্বর যন্ত্রের দ্বারা শব্দ রুপে পরিবেশিত হয়।
আজ্ঞা চক্র যার জাগ্রত রয়েছে সে একমাত্র টেলিপ্যাথিক। আর সেই কথা বলতে পারে কালীর সাথে। আর তা হয় বিগত জন্মের পুণ্যের কারনে। তাই কালীর সাথে কথা বলতে শুধু সাধ থাকলেই হবে না সাথে বিগত জন্মের পুন্যের দ্বারা প্রভাবিত সাধ্যও থাকতে হবে।
সুতরাং যে সাধক এবং ভক্ত কালীর ভাবনা দ্বারা প্রভাবিত হয় সে কালীর ভাবনা বুঝতে পারে। এমনকি কথাও শুনতে পায়। অনেকেই বলেছেন যে কালী স্বপ্নে দেখা দিয়েছেন। তবে কালী কি দেখাচ্ছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ। এক একটা ভাবনা চিত্র এক একটি বিষয় কে নির্দেশ করে। যেমন অনেকেই বরাভয় মুদ্রা দেখেছেন। তা অবশ্যই কোন বিষয়ে আশ্বাস প্রদান করে। তবে এই নির্দেশ বোঝার ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। অবশ্য সবাই এর অর্থ বুঝতে পারে না।
এরকম আরও ব্লগ সম্পর্কে আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।
Discover more from Adhyatmik
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
