
এবার বীরভূম ঘুরতে গিয়েছিলাম। সেখানে একটি অলৌকিক কান্ড ঘটল। আমার ভাই বোলপুরে একটি ফ্ল্যাট কিনেছে। ঐ ফ্ল্যাটের গৃহ প্রবেশের অনুষ্ঠান ছিল। আর সেই সুবাদে বোলপুর যাওয়া।
ভাই বলেছিল বোলপুর থেকে আশেপাশের দ্রষ্টব্য স্থান গুলি ঘুরে নিতে। সেই কারণে অনুষ্ঠানের দুই দিন আগে আমরা বোলপুর চলে গিয়েছিলাম। পরদিন সকালে জল খাবার খেয়ে আমরা ম্যাসাঞ্জোরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। ম্যাসাঞ্জোরে একটি নদী বাঁধ রয়েছে। মাসানজোর বাঁধ হল ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের দুমকা জেলায় মাসাঞ্জোরে অবস্থিত ময়ূরাক্ষী নদীর উপর একটি জলবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী বাঁধ। দেড় ঘণ্টার পথ রাস্তার ধারের নৈসর্গিক দৃশ্য দেখতে দেখতে ম্যাসাঞ্জোর ড্যাম পৌঁছে গেলাম।
অপূর্ব সুন্দর এই ম্যাসাঞ্জোর ড্যাম। ছোট ছোট পাহাড়ের মাঝে একটি সুবিশাল জলাধার। এতো বিশাল যে অপর পাড় ঠিক মতো দৃষ্টি গোচরে আসে না। ড্যামের জলাধারটিতে নৌকা ভ্রমনের সুব্যবস্থা রয়েছে। যদিও আমরা নৌকায় চড়ি নাই। আর একপাশে আড়া আড়ি ভাবে রয়েছে একটি বিশাল ড্যাম বা বাঁধ। ড্যামের উপর দিয়ে চলাচল করা যায়। স্থানীয় লোকজন বাইক নিয়ে যাতায়াত করে। ওখানে কিছুটা সময় কাটিয়ে আমরা আবার বোলপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
ফেরার পথে ম্যাপে দেখতে পেলাম বক্রেশ্বর খুবই নিকটে। বক্রেশ্বরের উষ্ণ প্রস্রবণ সম্পর্কে আগে পড়েছিলাম। তাই ঐ প্রস্রবণ চাক্ষুষ দর্শনের আগ্রহ ছিল। কিন্তু পথ জানা নেই, তাই গুগল ম্যাপ দেখতে দেখতে অচেনা গ্রামের পথ ধরে বক্রেশ্বর পৌঁছে গেলাম। উষ্ণ প্রস্রবণ যে মন্দিরের মধ্যে তা জানা ছিল না। বক্রেশ্বরে যে একটি সতী পীঠ বা শক্তি পীঠ আছে তাও জানা ছিল না। একজন পুরোহিত বললেন যে এখানে দেবী সতীর ভ্রূযুগলের মধ্যবর্তী অংশ বা তার মন পতিত হয়েছিল। উষ্ণ প্রস্রবণ গুলি মন্দির কমপ্লেক্সের মধ্যে অবস্থিত। অগত্যা টিকিট কেটে মন্দির কমপ্লেক্সে প্রবেশ করলাম।
সেই পুরোহিত ভদ্র লোকটি এগিয়ে এলেন। তাকে জিজ্ঞেস করলাম যে উষ্ণ প্রস্রবণ কোথায় আছে? তিনি সাথে করে উষ্ণ প্রস্রবণ দেখাতে নিয়ে গেলেন। দেখলাম বেশ কয়েকটি ছোট জলাশয় রয়েছে, যেগুলোর পাড় বাধানো। জল থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। একটি জলাশয়ে বেশ কয়েকজন স্নান করছে। পুরোহিতের কথায় সেই জলাশয়ের জলে হাতে দিয়ে দেখলাম জল বেশ গরম। প্রস্রবণে হিলিয়াম গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। জানলাম জলাশয় গুলির বিভিন্ন নাম রয়েছে। যেমন ক্ষার কুন্ড, ভৈরব কুন্ড, অগ্নিকুণ্ড, সৌভাগ্য কুন্ড, জীবিত কুণ্ড, রাধাকুণ্ড, শ্বেত গঙ্গা, বৈতরণী। এছাড়াও রয়েছে সূর্য কুণ্ড। প্রস্রবণ দেখা শেষ হতে পুরোহিত বললেন, যে সেখানে দেবী মহিষমর্দিনী (মহিষাসুর বধকারী) ও ভৈরব বক্রনাথ বা বক্রেশ্বরের মন্দির রয়েছে।
প্রথমে ভাবছিলাম মন্দির দেখব না। কিন্তু, হঠাৎ পুরোহিতের কথায় রাজি হয়ে গেলাম, আর পুজোর জন্য দুটি ডালা কিনে নিলাম। প্রথমে ভৈরব বক্রনাথের মন্দিরে পূজো দিলাম। তারপর মহিষমর্দিনীর মন্দিরে গেলাম পুজো দিতে। এখানে দেবীর দশভূজা মূর্তি পিতলের তৈরি। আর সামনে পিতলের তৈরি পদযুগল রাখা আছে। জায়গাটা রেলিং দিয়ে ঘেরা। মূর্তিতে পূজো দেওয়া যায়, সেক্ষেত্রে রেলিং এর সামনে যেতে হবে। অবশ্য তার জন্য অতিরিক্ত মূল্য দিতে হবে। যদিও বিনা মূল্যে রেলিং এর বাইরে থেকে পূজো দেওয়া যায়। আমরা বিনা মূল্যে পূজো করতে উদ্যোগি হলাম।
পুরোহিত ডালা থেকে একটি মালা নিয়ে আমার হাতে দিয়ে বললেন, যে দেবীর পদযুগলে পড়িয়ে দিতে। আমি যেই মালাটি দেবীর পদযুগলে পড়িয়ে দিলাম, তৎক্ষণাত পুরোহিত মহাশয় দেবীর পায়ের কাছ থেকে একটি ফুল নিয়ে আমার পায়ে ছুঁড়ে দিলেন। আমি অবাক হয়ে গেলাম। কারণ, আমি তো পুরোহিত মহাশয়কে আমার পরিচয় দেই নাই। তবে, কিভাবে তিনি জানলেন যে আমি কে? তাকে তো আর উন্মাদ বলা চলে না, কারণ তিনি হাজার হাজার পুজো করেছেন। আমি নিশ্চিত, যে তিনি স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন স্বয়ং দূর্গার কাছ থেকে আমাকে পূজা করার জন্য। কারণ এ ঘটনা আগেও ঘটেছে, অনেকবার। আর, এটাই সেই অলৌকিক ঘটনা।
এটি কোন মনগড়া গল্প নয়, আমার একটি ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা। যা আমি সবার সাথে শেয়ার করছি। যারা বিশ্বাস করার করবেন, আর না করার করবেন না। ভালো লাগলে পোস্টটি শেয়ার করতে ভুলবেন না।
এরকম আরও ব্লগ পড়তে, আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন।
Discover more from Adhyatmik
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
